২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৬০৪

শুক্রবার, ০৪ মার্চ ২০২২, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৮, ৩০ রজব ১৪৪৩ হিজরী

অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০২২, ৪:৫৯ পিএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৬৪ জনে।

একই সময় নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬০৪ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৯ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬৯ জনে।

শুক্রবার (৪ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও কোভিড ইউনিটের প্রধান ডা. মো. জাকির হোসেন খান স্বাক্ষরিত করোনা পরিস্থিতি সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৯৬৪টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৮ হাজার ৮৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৬টিতে।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৪০৩ জন। এ নিয়ে করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮০ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, চট্টগ্রামে ২ জন এবং সিলেটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময়ে বাকি ৫ বিভাগে করোনায় কারো মৃত্যু হয়নি।

কুয়েতের,জাহরায় চলন্ত গাড়ীতে গুলির ঘটনায় ১ জন আটক’

শুক্রবার, ০৪ মার্চ ২০২২, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৮, ৩০ রজব ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতের জাহরায় জেলায় চলন্ত গাড়ীতে গুলির ঘটনায় ১ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।

গত বুধবার (২ মার্চ) বিকেলে একজন সৌদি নাগরিকের চলন্ত গাড়িতে গুলি চালালে, গাড়িটি উল্টে সাথে স্ত্রী ও সন্তানসহ ৩ জন আহত হয়।

তাদের উদ্ধার করে জাহারা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে কতৃপক্ষ । আটক ব্যাক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
সুত্রঃ আল অয়াতন ।

কুয়েতে ভুয়া দাসী অফিস’ মহিলাসহ ৪ এশিয়ান আটক’

শুক্রবার, ০৪ মার্চ ২০২২, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৮, ৩০ রজব ১৪৪৩ হিজরী

কুয়েতের রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স বিভাগ ঘোষণা করেছে যে, একটি ভুয়া দাসী অফিস এবং ৪ জন এশিয়ান নাগরিককে ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল আনবা জানিয়েছে যে, ফারওয়ানিয়া জেলে পুলিশ, রেসিডেন্সি আইন লঙ্ঘন ও ভুয়া গৃহকর্মী বিক্রির অফিস থেকে নারীসহ ৪ জন এশিয়ান নাগরিককে আটক করেছে প্রশাসন।

তাদের বিরুদ্ধে দৈনিক ভিত্তিতে বাহিরে কাজ করা এবং ভুয়া গৃহকর্মী অফিস চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

কুয়েতে করোনায় আরো ৪৮৬ জন শনাক্ত’ সুস্থ ১,০৮৬ জন এবং মারা গেছে ১ জন।

প্রকাশের সময় : ৩রা মার্চ, ২০২২, ৮:৩২ পিএম | আপডেট : ৮:৩৫ পিএম, ১ মার্চ, ২০২২

কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টার কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে আরো ৪৮৬ জন, যাদের মধ্যে নাগরিক ও প্রবাসী রয়েছে।

একই সময়ে সুস্থ হয়েছে ১,৮৬ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ১ জন।

আজ বৃহস্পতিবার (৩রা মার্চ ) কোভিড-১৯ ও ওমিক্রন বিষয়ক আপডেট ব্রিফিং-এ এই তথ্য নিশ্চিত করা হয় ।

হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন ৪৪ এবং করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন ১৭৪ জন, নিয়মিত চিকিৎসাধীন আছেন ৭,৫৪৪ জন।

ঢাকায় ফোরজি টেস্ট: ৪ অপারেটরের সবাই ফেল

বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ ২০২২, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৮, ২৯ রজব ১৪৪৩ হিজরী

প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২২, ৫:৩৬ পিএম | আপডেট : ৫:৩৭ পিএম, ৩ মার্চ, ২০২২

ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলায় ফোরজি সেবার বেঞ্চমার্ক স্পর্শ করতে পারেনি ৪ মোবাইল ফোন অপারেটরের কেউ। তবে গ্রাহক সংখ্যায় শীর্ষ পর্যায়ের দুই অপারেটর বেঞ্চমার্কের কাছাকাছি ছিল। পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত যতগুলো বিভাগে বিটিআরসি ড্রাইভ টেস্ট চালিয়েছে তারমধ্যে গড়ে ঢাকার অবস্থান খানিকটা ভালো।

ভয়েস কল, ডেটা ও নেটওয়ার্কের কাভারেজ এলাকা- এই তিন মূল বিভাগে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার মান যাচাই করে থাকে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসি।

এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে বিটিআরসির ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলায় ড্রাইভ টেস্ট চালানো হয়েছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহককে ফোরজি সেবা বললেই সেখানে সর্বনিম্ন গতি থাকতে হবে ৭ এমবিপিএস। ঢাকা বিভাগে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অপারেটরটি ৭ এমবিপিএসের গতির মধ্যে ড্রাইভ টেস্টে অপারেটরটির ফোরজি গতি পাওয়া যায় ৬ দশমিক ৯৯ এমবিপিএস। একটুর জন্য বেঞ্চমার্ক ছুটেছে তাদের।

রবির গতি পাওয়া গেছে ৬ দশমিক ৪১। এই অপারেটরটিও বেঞ্চমার্কের কাছাকাছি রয়েছে। বাংলালিংকের ৪ দশমিক ০১ এমবিপিএস গতি পাওয়া গেছে । কিন্তু টেলিটকের গতি পাওয়া গেছে বেশ কম, মাত্র ২ দশমিক ৮০ এমবিপিএস।

দেশে,করোনা শনাক্তের হার নামলো ৩ এর নিচে

বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ ২০২২, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৮, ২৯ রজব ১৪৪৩ হিজরী

প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২২, ৪:৩৬ পিএম | আপডেট : ৪:৩৭ পিএম, ৩ মার্চ, ২০২২

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৫৭ জনের। শনাক্তের হার ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ জনে।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগের দিন বুধবার করোনাভাইরাসে ৮ জনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৭৩২ জনের।

বৃহস্পতিবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৬২৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৩১ হাজার ৫৭৭ জন। ২৪ ঘণ্টায় ২২ হাজার ৫৬৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ২২ হাজার ৫৮৪টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী। তারা সবাই ঢাকা বিভাগের। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। গেল বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।

ইউক্রেন করলে ‘আত্মরক্ষা’, ফিলিস্তিন হলে ‘সন্ত্রাস’: পশ্চিমাদের আসল রূপ

বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ ২০২২, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৮, ২৯ রজব ১৪৪৩ হিজরী

প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২২, ৪:৩০ পিএম | আপডেট : ৪:৩১ পিএম, ৩ মার্চ, ২০২২

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর আগ্রাসী আচরণের নিন্দায় সরব যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডার মতো দেশগুলো। সেসব দেশের মিডিয়াতে রীতিমতো ধুয়ে ফেলা হচ্ছে ভ্লাদিমির পুতিন ও তার বাহিনীকে। অথচ এই দেশগুলোই ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রে চোখে যেন টিনের চশমা পরে থাকে। আজ ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ রুশ আক্রমণ ঠেকাতে হাতে অস্ত্র তুলে নিলে তাদেরকে পশ্চিমারা ‘বীর মুক্তিকামী যোদ্ধা’ বলছে, অথচ ফিলিস্তিনের মানুষ হাতে গুলতি ওঠালেও তা তাদের কাছে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হয়ে যায়।

ইউক্রেন ইস্যু যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, পশ্চিমারা কতটা ‘হিপোক্রেট’। গত বছর আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি সশস্ত্র পুলিশের তাণ্ডব, জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন ও গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ঘিরে পশ্চিমা মিডিয়ার খবর এবং এখন রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের খবরের শিরোনাম পড়লেই তা সহজে অনুমেয়।

নিরীহ-নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলিদের বর্বরোচিত আচরণের খবর পশ্চিমের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমেই প্রচার হয়। তবে কিছুটা ভিন্নভাবে। তাদের ‘প্রচার স্টাইলে’ আগ্রাসনবাদীদের শক্তি প্রয়োগ অনেকটাই আড়াল করে রাখা হয়। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যুতে পশ্চিমা মিডিয়ার খবর ও নেতাদের কথাবার্তায় দখলদারি, গুলি করে হত্যা, গুলিবর্ষণ এবং বোমা হামলার মতো ঘটনাগুলোতে ‘ক্ল্যাশ’ (সংঘর্ষ), ‘কনফ্লিক্ট’ (সংঘাত) ও ‘প্রোপার্টি ডিসপুট’র (সম্পত্তি বিরোধ) মতো শব্দ ব্যবহার করতে দেখা যায়। এ ধরনের ‘প্যাসিভ ভয়েস’র ব্যবহারের মধ্য দিয়ে সহিংসতার ‘কারণ’ বা ‘টার্গেট’ চেপে যাওয়া হয়। কিন্তু এখন ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রে তারা ঠিকই ‘অ্যাগ্রেসন’ (আগ্রাসন), ‘ইনভেশন’ (আক্রমণ), ‘অ্যাটাক’ (হামলা), ‘কিল’ (হত্যা), ‘ইলিগ্যাল স্টেপ’ (অবৈধ পদক্ষেপ)-এর মতো শব্দ ব্যবহার করছে, যা ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও হওয়ার কথা ছিল। মজার বিষয় হচ্ছে, এতদিন ধরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা, তাদের জমি কেড়ে নেওয়া সেই ইসরায়েলই আজ রাশিয়ার কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে, তাদের শান্তি বজায় রাখতে বলছে।

অবশ্য ইউক্রেনীয় মিত্রদের জন্য ইসরায়েলের এই ‘মন পোড়ার’ যথেষ্ট কারণও রয়েছে। গত বছর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলার সময় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধযোদ্ধাদের পাল্টা জবাবের সমালোচনা করে ইসরায়েলিদের পক্ষ নিয়েছিলেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওই যুদ্ধে ইসরায়েলই ‘ভিকটিম’ (ভুক্তভোগী) বলে দাবি করেছিলেন তিনি। অথচ সেই সময় টানা ১১ দিনের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে ৬৭ জনই ছিল কোমলমতি শিশু। এগুলো জেলেনস্কির নজরে পড়েনি, হামলা ঠেকাতে হামাস যে রকেট ছুড়েছিল, পশ্চিমাদের মতো তিনিও শুধু সেটিই দেখেছিলেন।

বিবিসি, আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর এসেছে, যুদ্ধের কারণে দেশত্যাগে আগ্রহীদের পার করে দিচ্ছে ইউক্রেন। কৃষ্ণাঙ্গদের ট্রেনে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার ভিডিও পর্যন্ত সামনে এসেছে। যে ইউক্রেন বিদেশিদের সীমান্ত পার হতে বাধা দিচ্ছে, তারাই আবার নিজেদের রক্ষা করতে বিদেশিদের কাছেই বারবার আকুতি জানাচ্ছে, আরও নির্দিষ্ট করে বললে পশ্চিমাদের কাছে। পশ্চিমারাও তাতে গলে যাচ্ছেন। সাদা চামড়া-নীল চোখের ইউক্রেনীয়দের জন্য মুখে মুখে হলেও প্রতিবাদের ঝড় তুলছেন তারা, যা ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, লিবিয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা দেখা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস নিউজের ফরেন করেসপন্ডেন্ট চার্লি ডি’আগাতা তো বলেই দিয়েছেন, এটি ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো জায়গা নয়, যেখানে কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলছে। এটি ‘তুলনামূলক সভ্য, তুলনামূলক ইউরোপীয়’ একটি শহর, যেখানে এমন কিছু আশা করা যায় না। অর্থাৎ, ইরাক-আফগানিস্তানে যুদ্ধ হলে তা ঠিক আছে, কিন্তু তথাকথিত ‘সভ্য ইউরোপীয়’ দেশে যুদ্ধ মেনে নেওয়া যায় না। একই ধরনের কথা এসেছে ফ্রান্সের বিএফএমটিভি’তেও। সেখানে এক বিশ্লেষক বলেছেন, আমরা এখানে পুতিনসমর্থিত সিরীয় সরকারের হামলা থেকে পালানো সিরীয়দের কথা বলছি না, আমরা ইউরোপীয়দের কথা বলছি, যারা দেখতে আমাদের মতো।

ইউক্রেনের সাবেক ডেপুটি জেনারেল প্রসিকিউটর ডেভিড সাকভারেলিডজে বিবিসি’তে বলেছেন, এটি আমার জন্য খুবই আবেগপ্রবণ বিষয়। কারণ, আমি দেখছি স্বর্ণকেশী, নীল চোখওয়ালা ইউরোপীয় মানুষেরা প্রতিদিন পুতিনের ক্ষেপণাস্ত্র, হেলিকপ্টার ও রকেট হামলায় নিহত হচ্ছে। অর্থাৎ, স্বর্ণকেশী-নীল চোখের মানুষ মরতে দেখে তার দরদ উতলে উঠছে, অন্য বর্ণের লোক হলে হয়তো তা হতো না।

ইউক্রেনে আটকে পড়া ২৮ বাংলাদেশি নাবিকের বাঁচার আকুতি

বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ ২০২২, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৮, ২৯ রজব ১৪৪৩ হিজরী

প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২২, ৪:২৬ পিএম | আপডেট : ৪:২৭ পিএম, ৩ মার্চ, ২০২২

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটির অলভিয়া বন্দরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। গতকাল বুধবার (২ মার্চ) জাহাজটিতে রকেট হামলায় এক বাংলাদেশি নাবিক নিহত হন। বাকিরা আপাতত প্রাণে রক্ষা পেলেও জাহাজেই আটকা রয়েছেন এবং তাদের কেউ কেউ ভিডিও বার্তা দিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানান।

উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে পোস্ট করা আটকে পড়া নাবিকদের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে একজনকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলতে দেখা যায়। ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের একজন নাবিক বলেন, আমি বাংলার সমৃদ্ধির সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের জাহাজে একটু আগে রকেট হামলা হয়েছে। একজন অলরেডি ডেড (মারা গেছেন)। আমাদের পাওয়ার সাপ্লাই নেই। ইমার্জেন্সি জেনারেটরে পাওয়ার সাপ্লাই চলছে। আমরা মৃত্যুর সম্মুখীন।তিনি আরও বলেন, আমাদের এখনও উদ্ধার করা হয়নি। দয়া করে আপনারা আমাদের বাঁচান। আমরা সবাই আছি এখানে, দেখেন। আমাদের বাঁচান প্লিজ, দয়া করে। আমাদের কোনো জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত সাহায্য আসেনি। আমাদের বাঁচান।

৩১ সেকেন্ডের অপর একটি ভিডিওতে জাহাজের আরেকজন নাবিক বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমি আসিফুল ইসলাম আসিফ। আমাদের জাহাজে অ্যাটাক হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ভালো আছি, তবে আমাদের এখনও উদ্ধার করা হয়নি। মিডিয়াতে এসেছে, আমরা নাকি পোল্যান্ডে চলে গেছি নিরাপদভাবে। এটা ভুল নিউজ। ফেক নিউজ। আমাদের প্লিজ এখান থেকে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করেন। ১৮ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে জাহাজটির আরেকজন নাবিক বলেন, ‘আমি ইঞ্জিন ক্যাডেট মৌ। বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ থেকে বলছি। আমাদের শিপে বোম্বিং (বোমা হামলা) হয়েছে। আমাদের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার স্যার অলরেডি মারা গেছে। আমরা এখনও শিপের মধ্যে আছি। সবাই চাচ্ছি এখান থেকে বের হতে। আপনারা প্লিজ কোনো উপায়ে আমাদের এখান থেকে বের করুন। আমরা এখানে থাকতে চাচ্ছি না।

১৮ সেকেন্ডের অপর ভিডিওতে ক্যাডেট তুলি নামে একজন বলেন, আমি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ থেকে বলছি। জাহাজে কিছুক্ষণ আগে বোম্বিং (বোমা হামলা) হয়েছে। আমাদের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার স্যার অলরেডি মারা গেছেন। আমরা সবাই খুব বিপদে আছি। আমাদেরকে উদ্ধার করেন এখান থেকে। আমাদেরকে বাঁচান প্লিজ। বুধবার ইউক্রেনে আটকে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ রকেট হামলার শিকার হয়। হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান (৩৩) নিহত হন। তিনি বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৩ নম্বর হোসনাবাদ ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে।

যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে আছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’। জাহাজটিতে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন। নাবিক হাদিসুর রহমান নিহত হওয়ার পর জাহাজটিতে বর্তমানে ২৮ জন উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। সিরামিকের কাঁচামাল ‘ক্লে’ পরিবহনের জন্য জাহাজটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি তুরস্ক থেকে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়। সেখান থেকে কার্গো নিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল জাহাজটির। তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেয় শিপিং কর্পোরেশন। শেষ মুহূর্তে পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি ‘বাংলার সমৃদ্ধি’।

ফিলিস্তিনে আগ্রাসনের সময় ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন ইসরায়েল নাকি ‘ভুক্তভোগী’

বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ ২০২২, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৮, ২৯ রজব ১৪৪৩ হিজরী

প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২২, ৪:০৬ পিএম | আপডেট : ৪:১০ পিএম, ৩ মার্চ, ২০২২

সারা বিশ্বে এখন আলোচনার বিষয় রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। রুশ সেনাদের অভিযানে কাঁপছে ইউক্রেন। এ অবস্থায় কমেডিয়ান থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট হওয়া ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এখন দেশ ও সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে বিদেশি মিত্রদের পাশে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। অথচ তিনিই গত বছর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি দখলদারদের চালানো বর্বরোচিত হামলাকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, জেলেনস্কি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাল্টা জবাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।

যদিও একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০২১ সালের ১০ মে থেকে ফিলিস্তিনে টানা বোমাবর্ষণ শুরু করে ইসরায়েল। ২০২১ সালের ১২ই মে এক টুইট বার্তায় এই ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন, গাজা উপত্যকায় হামলার ওই যুদ্ধে নাকি ইসরায়েলই ‘ভিকটিম’ (ভুক্তভোগী) ছিল। তাদের আগ্রাসনের জবাবে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস গাজা থেকে রকেট হামলা চালায়। সেসময় টানা ১১ দিনের ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হন, যাদের মধ্যে ৬৭ জনই ছিল কোমলমতি শিশু। আর ফিলিস্তিনি বাহিনীর পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে মোট ১২ জন নিহত হয়।

সেসময় ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় অসংখ্যবার বিমান হামলা ও কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। গুঁড়িয়ে দিয়েছিল কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) কার্যালয়। তখন গোটা বিশ্ব গাজায় নির্বিচারে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও ভিন্ন সুরে কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে না গিয়ে উল্টো ইসরায়েলিদের হয়ে কথা বলেছিলেন।

তখন জেলেনস্কি এক টুইটে বলেছিলেন, ‘ইসরায়েলের আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রে ছেয়ে গেছে। কয়েকটি শহরে আগুন লেগেছে। অনেকে ভুক্তভোগী। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। অনেক ট্র্যাজেডি। শোক আর দুঃখ ছাড়া এসব দেখা অসম্ভব। জনজীবনের স্বার্থে অবিলম্বে এ উত্তেজনা বন্ধ করা প্রয়োজন।’ সেই টুইটের নিচে এক ফিলিস্তিনির মন্তব্য ছিল মর্মস্পর্শী। তিনি লিখেছিলেন, আমরা সবার নিরাপত্তা কামনা করি। আপনি ইসরায়েলি দখলদারিকে সমর্থন করেছেন, যারা ফিলিস্তিনের জমি চুরি করেছে। আর এখন ইউক্রেন রাশিয়ার বোমার মুখে পড়েছে। তবুও আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করি… আমরা আপনার মতো এলাকা দখলকে সমর্থন করি না।

নাসুম ছোবলে কুপকাত আফগান, টাইগারদের ৬১ রানে জয়

বৃহস্পতিবার, ০৩ মার্চ ২০২২, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৮, ২৯ রজব ১৪৪৩ হিজরী

প্রকাশের সময় : ৩ মার্চ, ২০২২, ৩:৫৬ পিএম | আপডেট : ৩:৫৭ পিএম, ৩ মার্চ, ২০২২

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিও জয় দিয়ে শুরু করল টাইগাররা। বৃহস্পতিবার মিরপুরে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নাসুম আহমেদের বিষাক্ত স্পিনে আফগানদের ৬১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ের ফলে দুই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।

টাইগারদের দেয়া ১৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭.৪ ওভারে ৯৪ রানে গুটিয়ে যায় আফগানরা। বল হাতে নাসুম আহমেদ ৪ ওভারে ১০ রানে একাই নেন চার উইকেট। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ৩.৪ ওভারে ২৯ রানে নেন তিন উইকেট। সাকিব আল হাসান ৪ ওভারে ১৮ রানে নেন দুটি।

লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় আফগানদের। বল হাতে ঘূর্ণিজাদু দেখিয়ে টানা ৪ উইকেটে একাই তুলে নেন নাসুম। নিজের প্রথম ওভারেই আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে (০) বিদায় করেন তিনি। নিজের দ্বিতীয় ওভারে তার শিকার হন হজরতল্লাহ জাজাই (৬) ও দারউইশ রসুলি (২)। এই তিনজনকে মাত্র ২ রান খরচেই বিদায় করেন নাসুম।

এরপর এই বাঁহাতি স্পিনার নিজের তৃতীয় ওভারে আরও ৫ রান খরচ করে তুলে নেন চতুর্থ উইকেট। ওভারের তৃতীয় বলে আফগান ব্যাটার করিম জানাত মেহেদীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। অবশ্য আরও এক উইকেট পেয়েছিলেন নাসুম। পরের বলেই লেগ বিফোরের আবেদন করলে মোহাম্মদ নবিকে আউট দেন আম্পায়ার, কিন্তু রিভিও নিয়ে বেঁচে যান আফগান অধিনায়ক। রিভিওতে দেখা যায়, বল তার ব্যাট ছুঁয়ে প্যাডে লেগেছিল। নাসুমের ঘূর্ণিঝড়ে আফগানরা মাত্র ৮ রান তুলতেই হারায় ৩ উইকেট। চতুর্থ উইকেট হারানোর সময় তাদের সংগ্রহ ছিল ২০ রান।

নাসুমের পর আফগান শিবিরে আঘাত হানেন সাকিব। ইনিংসের ১১তম ওভারের পঞ্চম বলে নবিকে (১৬) আফিফের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন বাঁহাতি স্পিনার। এটি সাদা বলে সাকিবের ৪০০তম উইকেট। এরপর নিজের তৃতীয় ওভারে মিডল অর্ডার ব্যাটার নজিবুল্লাহ জাদরানকে (২৭) ফেরান সাকিব। পরের ওভারে রশিদ খানকে ফেরান শরিফুল। এরপর মোস্তাফিজের শিকার হন আরেক সেট ব্যাটার ওমরজাই (২০)। ১৮ত্ম ওভারে বাকি ২ উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের ইনিংস গুঁটিয়ে দেন শরিফুল।