করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৯ হাজার ১৬ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৪০৬ জনের শরীরে করোনা ধড়া পড়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৭ জনে। শনাক্তের হার ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আগের দিন (বৃহস্পতিবার) ১০ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনা শনাক্ত হন ১৫১৬ জন, শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর আগে বুধবার করোনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়; করোনা শনাক্ত হয় ১ হাজার ২৯৮ জনের, শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ। মঙ্গলবার ১৬ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর; শনাক্ত হন ১৫৯৫ জন, শনাক্তের হার ছিল ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তারও আগে সোমবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
ইদানীং অনেকেই দেশ ছাড়ছেন। যারা দেশ ছেড়ে বিদেশে যাচ্ছেন এদের মধ্যে দুটি দল রয়েছে। একটি দলের দেশ ছাড়ার পেছনে যে কারণগুলো রয়েছে সেটা জিজ্ঞাসা করলে তারা উত্তরে বলছেন- “মূলত সন্তানের কথা বিবেচনা করে যেমন- তাদের লেখাপড়া, জীবনের নিরাপত্তা এবং সুন্দর পরিবেশ পেতে দেশ ছেড়ে বিদেশে যেতে হচ্ছে, তবে আমরা দেশকে ভালোবাসি সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ইত্যাদি।”
অন্যদিকে আরেকটি দল দেশ ছাড়ছে কারণ দেশে কর্মসংস্থানের কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। হতাশা এবং বেকারত্বকে দূর করতে শেষে বাড়ির জমিজমা যা আছে সেগুলো বিক্রি করে বা ধার নিয়ে কর্মের সুবাদে পরিবার, সন্তান বা বাবা-মা, ভাই-বোন রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই দুটি দলের একটি দল সুবিধাবাদী আরেকটি দল সুবিধা বঞ্চিত, সত্ত্বেও তাদের গ্রহণযোগ্য যুক্তি রয়েছে, নিজ নিজ জায়গা থেকে।
এখন আমি দুটো বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে চাই আমার ভাবনা থেকে। বেকারত্ব এবং পেটের তাগিদে প্রতিনিয়ত দেশ ছাড়ছে দেশের অনেক নতুন প্রজন্ম, যেতে যেতে পথে অনেকে ঝরে পড়ছে সাগর বা মহাসাগরের মাঝে। আবার অনেকে প্রতারকের কবলে পড়ে সব হারিয়ে রাস্তার ফকির হচ্ছে। কেউ কেউ কোন এক দেশে সুযোগ পেয়ে সবকিছু ছেড়ে দূরপরবাসে কঠিন সময় পার করছে। অনেকে ভালোও আছে। এই দলের মানুষেরা দেশের অর্থনৈতিক খাতে তাদের অবদান রেখে চলছে। এরা সত্যিকারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি অন্য যে দলটি দেশ ছাড়ছে তারা কিন্তু দেশের সকল সুবিধাগুলো পুরোপুরি ভোগ দখল করার পর দেশের সঞ্চিত অর্থ (হালাল বা হারাম তা জানিনে) নিয়ে দেশ ছাড়ছে এবং দেশের বাইরে বসবাস করছে। আজ যদি দেশের এসব সুবিধাবাদীরা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার না করত, ঠিক মত ট্যাক্স দিত এবং এভাবে দেশ না ছাড়ত, বরং তারা যদি বেকারত্ব এবং পেটের তাগিদে প্রতিনিয়ত যারা দেশ ছাড়ছে তাদের মত সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠাত তাহলে কাউকেই দেশ ছাড়া লাগত না।
আমার এ মন্তব্যে ঘাবড়ে গেলে চলবে না বরং আসুন জেনে নেই কি বোঝাতে চেয়েছি আমি। যে অজুহাত দেখিয়ে বড় লোকেরা দেশ ছাড়ছে যেমন নিরাপত্তার অভাব, সুশিক্ষার অভাব, সামাজিক ব্যবস্থা খারাপ ইত্যাদি, এর সব কিছুই রাষ্ট্র কিন্তু পারত গড়ে তুলতে যদি সততা, ন্যায় নিষ্ঠা এবং দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ হতো। গত পঞ্চাশ বছরে যে সুযোগগুলো বাংলাদেশ পেয়েছে, তাতে সবার মহৎ প্রচেষ্টা থাকলে কাউকেই দেশ ছাড়া লাগত না। তবে জ্ঞান অর্জনে ভালো চাকরির সুবাদে অবশ্যই দেশের মানুষ অন্য দেশে যাবে যেটা পশ্চাত্যের মানুষেরাও করে। কিন্তু দেশের অর্থ বিদেশে নিয়ে বেগমপাড়া বা বিলাস বহুল প্রাসাদ গড়া বাঙালি জাতি, এরা কখনোও দেশকে ভালোবাসেনি, এরা জাতির কাছে রাজাকারই থেকে যাবে। কুকিলের মত এরা সুধু বসন্তের সৌন্দর্যই উপলব্ধি করে গেল। এরা জন্মেছে সোনার চামচ মুখে দিয়ে এবং যাবার বেলা সময় সুযোগ মত বসন্ত শেষে সব কিছু নিয়ে চলে চলে গেল, অভাগা দেশের কোন উন্নতি হলো না।
এই না হবার পেছনে যে কারণগুলো জড়িত তা নিম্নরূপ বলে আমি মনে করি। কারণ একটি দেশ ধ্বংস করতে রাষ্ট্রের প্রশাসন, ঘুমন্ত জনগণ এবং তেলবাজ সাংবাদিকই যথেষ্ট। যেমন শিক্ষা অর্জন করার পরও যদি আমাদের নৈতিকতা, বিবেক, মূল্যবোধ না থাকে। যদি সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিঁথ্যা বলার হিম্মত হারিয়ে ফেলি তবে আমরা সমাজের আবর্জনা ছাড়া কিছুই না এবং আমাদের পুরো শিক্ষাই কু-শিক্ষা। যে দেশে সবাই দুর্নীতি করে সে দেশে থেকে ভালো কিছু আশা করাও বোকামি। আমরা বলি আমাদের সবার বাবা-মা ভালো, তাহলে দুর্নীতিগুলো করে কাদের বাবা-মা? রাজনীতি করা মানে জনগণের জন্য কাজ করা আর চাকুরী করা মানে জনগণের সেবা দেওয়া। চাকুরীতে দরকার সু-শিক্ষা এবং সুদক্ষের, রাজনীতিতে দরকার জনদরদির, আর আইনে দরকার ন্যায় বিচার, আছে কি সেটা? যেমন বলা হচ্ছে, মেয়েদের ধর্ষণ থেকে রেহাই পাবার একমাত্র উপায় ঘর থেকে না বের হওয়া কিন্তু কঠিনভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে না পুরুষদের এ কাজ করতে।
যেদিন রাজনীতিতে দুর্নীতি বন্ধ হবে সেদিন দেখবেন দেশের ৯৫% মানুষ রাজনীতি ছেড়ে কাজে যোগ দেবে এবং যেদিন দেশে ন্যায়বিচারের প্রশাসন চালু হবে সেদিন থেকে দেশের পরিকাঠামো যেমন মজবুত হবে সেই সাথে দেশের মানুষ “শান্তিতে”থাকতে পারবেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে প্রবাসীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করেছিল কাতার সরকার।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় এখন থেকে ছুটি কাটিয়ে কাতারে ফেরা প্রবাসীদের আর হোটেল ও মোটেলে কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে না।
এ ছাড়া কাতারে ফেরার আগে পিসিআর টেস্টও করতে হবে না বলে সুখবর দিয়েছে দেশটির সরকার।
এতে বাংলাদেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে যেসব শ্রমিক কাতারে আসবেন, তারা এখন থেকে পিসিআর টেস্ট ও কোয়ারেন্টিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
করোনার ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নেওয়া শ্রমিকদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য করে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন এ কোভিড-১৯ ভ্রমণ নীতিমালা এবং কাতারে ফিরে আসার এ নিয়ম আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে কার্যকর হবে। কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যারা কাতার থেকে টিকা নিয়ে দেশে গেছেন অথবা বাংলাদেশ থেকে টিকা নিয়ে কাতারে আসবেন, তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করাতে হবে।
এ ছাড়া যারা করোনা টিকা নেননি বা করোনায় কখনো আক্রান্তও হননি, তাদের বেলায় কাতারে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং তাদের পাঁচ দিনের হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং শেষের দিন র্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করাতে হবে।
এদিকে যারা ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে কাতারে আসবেন, তারা যদি করোনা টিকা না নিয়ে থাকেন, তা হলে কাতারে আসার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং একদিনের হোটেল কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং র্যাপিড এন্টিজেন টেস্ট করাতে হবে।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর ঝিনাই নদী থেকে মিজানুর রহমান নামে সৌদি প্রবাসীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের চরনান্দিনা গ্রামে ঝিনাই নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মিজানুর রহমান চরনান্দিনা গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে।
জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে একই এলাকার চররৌহা বাজারের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মিজানুর রহমান। ওই রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। এরপর পরিবারের লোকজন তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দুই দিন পর বৃহস্পতিবার তার বাবা আমজাদ আলী সরিষাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে ঝিনাই নদীতে স্থানীয় লোকজন তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
মিজানুরের বাবা আমজাদ আলী বলেন, আমার ছেলে মিজানুর রহমান সৌদি প্রবাসী ছিল। সে বিদেশ থাকাবস্থায় কিছু টাকা ধার দেয় একই গ্রামের আব্দুল কদ্দুছের স্ত্রী কল্পনা বেগমকে। এ টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরপর মিজানুরকে নানান হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এ টাকার জন্যই মিজানুরকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে আমজাদ আলী অভিযোগ করেন।
এদিকে মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই আব্দুল কদ্দুছ ও তার স্ত্রী কল্পনা বেগম এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।
সরিষাবাড়ী থানার ওসি মীর রকিবুল হক জানান, নদী থেকে মিজানুর নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মিজানুরের নিখোঁজে তার বাবা আমজাদ আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়নডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে টাইগাররা।
এর আগে লিটন দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০৬ রান তুলতে সমর্থ হয় টাইগাররা। লিটন ১২৬ বল খেলে ১৩৬ রান করেন। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। অন্যদিকে আফগানদের বিপক্ষে দ্বিতীয়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৬ রান আসে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। তিনি ৯৩ বল খেলে এ রান করেন।
প্রথম ম্যাচের মতো অবশ্য দ্বিতীয় ম্যাচেও সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তিনি ২৪ বল খেলে ১২ রান করে ফজলহকের বলের এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। তখন দলের রান ৩৮।
এরপর দলীয় ৮৩ রানের সময় ৩৬ বল খেলে ২০ রান করে আউট হন।
বাংলাদেশের দেওয়া বড় রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তিনটি উইকেট হারায় আফগানরা।
দলীয় মাত্র ৯ রানের সময় রিয়াজ হাসান রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তাকে রান আউট করেন আফিফ হোসেন। তিনি ২ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন।
এরপর দলীয় ১৬ রানের মাথায় অধিনায়ক হাসমাতুল্লাহ শাহিদী শরিফুলের বলে মুশফিকের হাতে ধরা পড়েন। তিনি ৩ বল খেলে ৫ রান করেন।
এরপর ৩৪ রানের সময় ৯ রান করে আজমাতুল্লাহ ওমরাইজও প্যাভিলিয়নের পথে হাঁটেন। সাকিব আল হাসানের বলে স্ট্যাম্পিং আউট হন তিনি।
প্রথম তিনটি উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন নাজিবউল্লাহ জাদরান ও ওপেনার রহমত শাহ।
তারা দুইজন মিলে চতুর্থ উইকেটে বড় জুটি গড়ার পথে আগাতে থাকেন।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিপদজনক হয়ে ওঠছিলেন এ দুজন। ৮৯ বল খেলে তারা ৯০ রানের জুটি গড়ে ফেলেন। কিন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে রহমত শাহকে ৫২ ও নাজিবুল্লাহকে ৫৪ রানে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন তাসকিন আহমেদ।
এরপর ব্যাট করতে নামা রহমতউল্লাহ গুরবাজকে ৭ রানে সাকিব আল হাসান বোল্ড আউট করে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দেন।
তবে মাঝে মোহাম্মদ নবি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি ৩৮ বল খেলে ৩২ রান করার পর মেহেদি হাসান মিরাজের বলে ক্যাচ আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।
নবির পাশাপাশি রশিদ খান রানের ব্যবধানটা কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বেশিদূর আগাতে পারেননি। দলীয় ২০৫ রানের সময় অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড আউট হন তিনি। রশিদ আউট হওয়ার আগে ২৬ বল খেলে ২৯ রান করেন।
পরের দুই ব্যাটসম্যানের মধ্যে মুজিব উর রহমানকে ৬ রানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ফজলহক ফারুকিকে ০ রানে বোল্ড আউট করেন আফিফ হোসেন। বাউন্ডারি থেকে দুর্দান্তভাবে মুজিবের ক্যাচটি লুফে নেন শান্ত।
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে উপকণ্ঠে কৌশলগত হোস্টোমেল বিমানবন্দর দখলে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে পশ্চিম দিক থেকে কিয়েভকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলেও দাবি রুশ বাহিনীর। রাশিয়ান বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান শুক্রবার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইগর কোনাশেনকভও বলেছেন, ইউক্রেনের বিশেষ ইউনিটের ২০০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে।
তবে রাশিয়ার এসব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে, রাজধানীকে রক্ষা করতে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানও কিয়েভে প্রবেশ করছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে টিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রথম দিনই পুতিন বাহিনী মূল লক্ষ্য পূরণে ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রবল প্রতিরোধের মুখে ৪৫০ জন রুশ সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ওয়েলস অনলাইন শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেন ন্যাটোর সদস্যপদ দাবি করার পর থেকে রাশিয়া এর বিরোধিতা করে আসছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাবিশ্বের হুমকি-ধামকি আমলে না নিয়ে ইউক্রেনের ডোনবাস অঞ্চলের দোনেস্ক ও লুহানস্ককে ‘স্বাধীন’ রাষ্ট্রের মর্যাদা দেয় রাশিয়া। এমনকি সেখানে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য’ সেনা পাঠানোরও ঘোষণা দেন পুতিন। এর পর বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে সেনা অভিযানের ঘোষণা দেয় রাশিয়া।
ইউক্রেনের সেনাদের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেন সেনাদেরকে নিজ দেশের সরকারের কাছ থেকে ‘ক্ষমতা দখল’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমিরি জেলেনস্কিকে ‘মাদকাসক্ত এবং নব্য নাৎসি’ আখ্যা দিয়ে পুতিন বলেন, তিনি কিয়েভে জুড়ে বসেছেন এবং সমগ্র ইউক্রেনের মানুষকে জিম্মি করেছেন।
ইউক্রেন সেনাদের উদ্দেশে পুতিন আরও বলেন, নব্য নাৎসি, মাদকসাক্ত গ্যাংয়ের সঙ্গে কথা বলার থেকে তোমাদের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো সহজ হবে। ভাষণে পুতিন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনবাসে জেলেনস্কির নেতৃত্বাধীন সরকার ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলেও তার অপ্রমাণিত অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন।
পুতিন বলেন, ইউক্রেনে আমরা জাতীয়তাবাদী গ্রুপের সঙ্গে যুদ্ধ করছি যারা দোনবাস এলাকায় গণহত্যার জন্য সরাসরি দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে কিয়েভ দখল ও দেশটির সরকারকে উৎখাত করা। পুতিন এই সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল সরকার মনে করে।
শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, আমাকে তাদের টার্গেটগুলোর মধ্যে এক নম্বরে রেখেছে শত্রুরা, দুই নম্বরে আমার পরিবার। তারা রাষ্ট্রপ্রধানকে শেষ করে ইউক্রেনকে রাজনৈতিকভাবে নিঃশেষ করতে চায়। আমি রাজধানীতেই থাকব। আমার পরিবারও ইউক্রেনেই থাকবে।
রাশিয়া যতই হামলা করুক, দেশ ছেড়ে চলে না যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে হামলার দ্বিতীয় দিনেই ইঙ্গিত সংঘাত শেষের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। দু’পক্ষই আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে বলে বিবিসি ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন রাশিয়া, বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা বসতে রাজি আছে।
তবে তার আগে ইউক্রেনকে একটা ‘নিরপেক্ষ অবস্থান’ ঘোষণা করতে হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ওই নিরপেক্ষ অবস্থানের অন্তর্ভুক্ত থাকবে ‘বেসামরিকীকরণ’।
রাশিয়া বরাবরই বলে আসছে তারা চায় না, ইউক্রেন কখনই ন্যাটোতে যোগদান করে।
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন, কিন্তু রাশিয়ার শর্তে তিনি আলোচনায় বসতে সম্মত হবেন কিনা সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
আলোচনার ভেন্যু হিসেবে মিনস্ক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৪ সালে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল নিয়ে সংঘাত অবসানের চেষ্টায় এই মিনস্কেই একটা চুক্তি সই হয়েছিল।
ইউক্রেন আক্রমণের মধ্যে দিয়ে রুশ নেতা সেই চুক্তিপত্র কার্যত ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছেন।
এর আগে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ইউক্রেনের সৈন্যরা যতক্ষণ না অস্ত্র নামিয়ে নিচ্ছে, ততক্ষণ কোনো রকম আলোচনা হবে না।
এদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও বৃহস্পতিবার রাশিয়ার জাতীয় বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লটের বিমান ব্রিটেনে অবতরণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। এর জবাবে শুক্রবার রাশিয়ার বিমানবন্দরে ব্রিটিশ বিমান অবতরণ নিষিদ্ধ করেছে রাশিয়া। এমনকি নিজের আকাশসীমাতেও ব্রিটিশ বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সম্পদ জব্দ করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পুতিন ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর ইইউ এ নিয়ে ইইউ তৃতীয় দফায় নিষেধাজ্ঞা আরো
আজকের রাশিয়া এক হাজার বছর আগে ‘কিয়েভ রুশ’ সভ্যতার অংশ ছিল, অর্থোডক্স খ্রিষ্টধর্ম, যা রাশিয়ায় প্রচলিত, তা-ও এই কিয়েভ থেকেই পাওয়া। ফলে দীর্ঘদিন থেকে এই দুই জনপদ নানাভাবে একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ১৯১৭ সালে রুশ বিপ্লবের পর এই সম্পর্ক আরও নিকটতর হয়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর সে রাজনৈতিক সম্পর্কে ছেদ পড়ে। তারাস শেভচেঙ্কো ইউক্রেনীয় ভাষার সেরা কবি (পুশকিন যেমন রুশ ভাষার)। ইউক্রেনীয় সংস্কৃতির তিনি প্রতীক, ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদেরও। ১০ মার্চ, ১৮৬১ সালে তিনি আজকের সেন্ট পিটার্সবুর্গে মারা যান, সেখানেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। কিন্তু ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীদের দাবিতে তাঁর মরদেহ ইউক্রেনে এনে ৮ মে নতুন করে সমাহিত করা হয়। দিনটিকে ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যাতে এই কবির স্মৃতিকে ঘিরে সোভিয়েতবিরোধী কোনো আন্দোলন দানা পাকাতে না পারে, সে জন্য ইউক্রেনে দিনটি পালন নিষিদ্ধ। রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিভাজ্য গত বছর জুলাই মাসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক লম্বা—প্রায় হাজার পাঁচেক শব্দের প্রবন্ধে ইতিহাসের নানা তথ্য-উপাত্ত হাজির করে দাবি করেন, রুশ ও ইউক্রেন আসলে একই দেশ, একই সভ্যতা। পশ্চিমা দেশগুলো সে ইতিহাস উপেক্ষা করে ইউক্রেনকে রাশিয়া থেকে আলাদা করে ফেলতে চাইছে। সে লেখায় পুতিন দাবি করেন, একমাত্র রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারির মাধ্যমে ইউক্রেনের পক্ষে প্রকৃত সার্বভৌমত্ব অর্জন সম্ভব। অধিকাংশ পশ্চিমা ভাষ্যকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, পুতিন আসলে শুধু ইউক্রেন নয়, পুরোনো সোভিয়েত ইউনিয়নকে পুনর্গঠিত করতে চান। এর আগেও বহুবার তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে নিজের ক্রোধ প্রকাশ করেছেন, বলেছেন, এটি ছিল বিশ শতকের সর্ববৃহৎ ভূরাজনৈতিক দুর্যোগ। ইউক্রেন ও অন্যান্য সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র সমাজতান্ত্রিক ঐক্য থেকে ছিটকে বেরিয়ে যাওয়াকে তিনি রাশিয়ার শরীর কেটে ফেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। লিখেছেন, ‘এক হাজার বছর বেশি সময় ধরে যেসব মানুষ আমাদের অঙ্গীভূত ছিল, তারা এখন বিচ্ছিন্ন। এটা মানা কঠিন।’ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার বাহ্যিক ফলও ছিল। একদিকে সোভিয়েত বলয়ভুক্ত অধিকাংশ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তি, অন্যদিকে পূর্ব ইউরোপে রুশ সীমান্ত ঘেঁষে থাকা কয়েকটি দেশের ন্যাটোর সদস্য পদ গ্রহণ। ১৯৯১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার আগে ইউক্রেন স্বাধীনতা ঘোষণা করে। শুধু স্বাধীনতা নয়, রাশিয়ার সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক ছেদ করে পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে উদ্যোগী হয়। মস্কোর ইচ্ছা ছিল ইউক্রেন ও বেলারুশকে নিয়ে একটি কনফেডারেশন গঠিত হবে, স্বাভাবিকভাবে যার নেতৃত্বে থাকবে রাশিয়া। ইউক্রেন তাতে সম্মত হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন নামের ১৫টি প্রজাতন্ত্রের ভিত্তিতে যে বহুজাতিক সাম্রাজ্য মস্কো গড়ে তোলে, তাতে ইউক্রেন ও অন্যদের অবস্থান কখনোই সমানাধিকারের ভিত্তিতে গঠিত হয়নি। ফলে মস্কোর বজ্র আঁটুনি থেকে মুক্ত হওয়ামাত্রই সে হাত বাড়ায় পশ্চিম ইউরোপের দিকে। রাশিয়া তাকে যেকোনো সময় গিলে খেতে পারে, এই ভয় থেকে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। ব্যাপারটাকে পুতিন এবং অধিকাংশ রুশ নাগরিক ইউক্রেনীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই দেখেছেন। পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার বাহ্যিক ফলও ছিল। একদিকে সোভিয়েত বলয়ভুক্ত অধিকাংশ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তি, অন্যদিকে পূর্ব ইউরোপে রুশ সীমান্ত ঘেঁষে থাকা কয়েকটি দেশের ন্যাটোর সদস্য পদ গ্রহণ। এর ফলে পোল্যান্ড বা রোমানিয়ার মতো দেশ শুধু যে ন্যাটোর সদস্য হয়ে যায়, তা-ই নয়, এসব দেশে ন্যাটো সৈন্য ও সমরাস্ত্র মোতায়েন করা হয়। দুই বছর আগে পোল্যান্ডে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করার কথা উঠেছিল, নানা মহলের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। পূর্ব ইউরোপের নতুন ন্যাটো সদস্যদের যুক্তি, নিজেদের আত্মরক্ষার জন্যই তারা এই পশ্চিমা সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাশিয়ার নাম নেই, কিন্তু সাবেক সোভিয়েত সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলো সে কথাই বুঝিয়েছিল। একই কারণে ইউক্রেনও ন্যাটোতে যোগ দিতে আগ্রহী। দেশটি জানে পুতিনের নেতৃত্বে নব্য রাশিয়া তার পুরোনো সাম্রাজ্য ফিরে পেতে আগ্রহী। হাত বাড়ালে সবার আগে ইউক্রেনই মস্কোর খাদ্যে পরিণত হবে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল ও ইউক্রেনের দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলে রুশ সৈন্য পাঠানোর পর এই ভয় আরও বেড়েছে। কিন্তু মস্কো কোনোভাবেই ইউক্রেনকে ন্যাটোভুক্ত দেখতে চায় না। নিজের গায়ে লাগানো দেশ, সেখানে যদি ন্যাটোর সৈন্য বা সমরাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, তার ফলে রাশিয়ার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। ফলে বিষয়টি রাশিয়ার জন্য ‘রেড লাইন’। এই দাবির বিপরীতে ওয়াশিংটনের বক্তব্য, ন্যাটো ‘খোলা দরজা’ নীতি অনুসরণ করে, কোন দেশ এই সামরিক জোটে অংশ নেবে, সেটি তাদের ব্যাপার। এ প্রশ্নে ভেটো দেওয়ার অধিকার নেই মস্কোর। রাশিয়া পাল্টা যুক্তি দেখিয়েছে, ১৯৯০ সালে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের সময় ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জার্মানির বাইরে পূর্ব ইউরোপ অভিমুখে ন্যাটো সম্প্রসারিত হবে না। ইউরোপের নিরাপত্তা অবিভাজ্য, এই কারণে ন্যাটোর কাঠামো বদলে রাশিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে এই অঞ্চলের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তাকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কিন্তু পশ্চিমা জোট সে কথা কেবল রাখেনি, তা-ই নয়, নতুন পূর্ব ইউরোপীয় সদস্যদের মাধ্যমে তারা রাশিয়াকে চতুর্দিকে ঘিরে ফেলে। সত্যি কি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মস্কোর দাবির যৌক্তিকতা মেনে নিয়েছেন। ১৯৬২ সালে কিউবায় সোভিয়েত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করায় ওয়াশিংটন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিল, এটি তার উঠানে অস্ত্র রাখার শামিল। ইউক্রেন রাশিয়ার উঠান, সে যদি ন্যাটোর সদস্য হয়, তাহলে সেই একই ঘটনা ঘটবে। ২০১৮ সালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সেন্ট পিটার্সবুর্গে এক সম্মেলনে স্বীকার করেন, রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা জোট সদাচরণ করেনি। এর ফলে পশ্চিমের ব্যাপারে রাশিয়ায় যে সন্দেহ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তা অযৌক্তিক নয়। কমলা বিপ্লব, ২০০৪ শুধু ন্যাটোর সদস্য পদের আবেদন নয়, ইউক্রেনের ব্যাপারে রাশিয়া, বিশেষত এর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মাথাব্যথার আরও একটি কারণ রয়েছে। যত দিন পর্যন্ত কিয়েভে একটি মস্কোপন্থী সরকার ক্ষমতায় ছিল, পুতিনের উদ্বেগের তেমন কোনো কারণ ছিল না। অবস্থা বদলে গেল ২০০৪ সালের ‘অরেঞ্জ রেভল্যুশনের’ পর। সে বিপ্লবের লক্ষ্য গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠন হলেও একটি অভিন্ন দাবি ছিল ইউক্রেনকে মস্কোর প্রভাবমুক্ত করে পশ্চিম ইউরোপের নিকটতর করে আনা। এই বিপ্লবের ফলে সেখানে একটি পশ্চিমঘেঁষা সরকার গঠিত হয়, যা খোলামেলাভাবে পুতিনের নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। রুশ লেখক মিখাইল জিগারের কথায়, পুতিনের জন্য এই বিপ্লব ছিল ‘ব্যক্তিগত অপমান’। তখন থেকেই তাঁর চেষ্টা ছিল মস্কোর কথায় ওঠবস করবে, ইউক্রেনে এমন একটি সরকার গঠন। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল ও দেশের পূর্বাঞ্চলে সংখ্যাধিক্য রুশভাষীদের নিয়ে দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘প্রজাতন্ত্র’ দানিয়েস্ক ও লুগানস্ক গঠন সেই চেষ্টারই অংশ। শুধু ইউক্রেন বা অন্যান্য সোভিয়েত বলয়ভুক্ত নব্য স্বাধীন দেশগুলোই নয়, নিজ দেশেও যাতে হলুদ, নীল বা কমলা রঙের বিপ্লব না হয়, পুতিন তা নিশ্চিত করতেও আগ্রহী। জানুয়ারি ২০২২ এ কাজাকিস্তানে সে রকম একটি বিপ্লব সম্ভাবনা দেখামাত্র পুতিন সেখানে সৈন্য পাঠিয়ে পরিস্থিতির শামাল দিয়েছেন। এখন যুদ্ধ তৎপরতা কেন অধিকাংশ পশ্চিমা ভাষ্যকার মনে করেন, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যভুক্তি ঠেকাতে মস্কো যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত। সে উদ্দেশ্যেই তারা দুই দেশের সীমান্তে সোয়া লাখ সৈন্য মোতায়েন করেছে। সরাসরি যুদ্ধ যদি না-ও করে, মস্কো নিদেনপক্ষে তার প্রতি অনুগত একটি সরকার গঠনের চেষ্টায় কিয়েভের জেলেনস্কি সরকারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। বিষয়টি সম্ভবত এমন সরল নয়। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুসারে, রাশিয়া নয়, ইউক্রেনই যুদ্ধের পাঁয়তারা করছে। ন্যাটোর অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা সে তৎপরতার অংশ। কথাটা হাস্যকর, কারণ, পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার কবজির জোর ইউক্রেনের নেই। কিয়েভ ন্যাটোর সদস্য হতে চায়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে তার সে সদস্য পদ লাভের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। সব সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে এই সামরিক জোটে সদস্য পদ অর্জন সম্ভব, কিন্তু ইউক্রেনের ব্যাপারে ন্যাটোর চলতি সদস্যদের মধ্যে কোনো মতৈক্য নেই। শিগগিরই সে মতৈক্য অর্জনের কোনো সম্ভাবনাও নেই। তা সত্ত্বেও মস্কো যে ইউক্রেন সীমান্তে সোয়া লাখ সৈন্য সমাবেশ করেছে, তার প্রধান কারণ, পুতিন হিসাব কষে দেখেছেন, পশ্চিমের কাছ থেকে চাপ দিয়ে কিছু অর্জনের এটাই সবচেয়ে মোক্ষম সময়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এই মুহূর্তে ঘরে-বাইরে বিপদের মুখে রয়েছেন। পশ্চিমা জোটেও চলছে বিভক্তি। জার্মানিসহ বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। শীতকালে সে নির্ভরশীলতা আরও বেড়ে যায়। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিলেও তারা, বিশেষত জার্মানি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে অতি আগ্রহ দেখাবে না। কোনো কোনো রুশ বিশেষজ্ঞও এখন এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত। আনাতোলি লুকিয়ানভের মতো অভিজ্ঞ রুশ পণ্ডিতের ধারণা, পুতিনের লক্ষ্য যুদ্ধ নয়, যুদ্ধের হুমকি দেখিয়ে পশ্চিমের কাছ থেকে কিছু ‘কনসেশন’ আদায়। যেমন ইউক্রেন ন্যাটোভুক্ত হবে না, এই প্রতিশ্রুতি। পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সমরাস্ত্র বা সৈন্য মোতায়েন হবে না, মস্কো সে প্রতিশ্রুতিও চায়। লুকিয়ানভের মতে, পুতিন আরও একটা নিশ্চয়তা চান, আর তা হলো বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সম্মান। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ওয়াশিংটনের চোখে মস্কো কোনো পরাশক্তি নয়, বড়জোর একটি প্রধান শক্তি। প্রেসিডেন্ট ওবামা কিছুটা হালকাভাবেই রাশিয়াকে ‘মেজর পাওয়ার’ নামে অভিহিত করেছিলেন। পুতিন সেই অপমানের বদলা চান। রুশ ভাষ্যকার তাতিয়ানা স্তানোভাইয়া লিখেছেন, গত ৩০ বছরে এই প্রথম পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বিবেচ্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাখোঁর মতো নেতারা রাশিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি কার্যত মেনে নিয়েছেন। অন্য কথায়, খেলায় এগিয়ে পুতিন। বলা যায়, একটা গুলি না ছুড়েও পুতিন তার অধিকাংশ দাবি আদায় করে ছেড়েছেন। তাঁকে খুশি করতে একের পর পশ্চিমা নেতারা মস্কো ছুটে আসছেন। ওয়াশিংটন ইউক্রেনের ন্যাটোভুক্তি প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি না হলেও রাশিয়ার ন্যায্য নিরাপত্তা দাবিগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনায় আগ্রহী বলে জানিয়েছে। এই মুহূর্তে রাশিয়ার জন্য একটি অতিরিক্ত সুবিধা, সে চীনকে নিজের পাশে পেয়েছে। ন্যাটোর চাপের মুখে মস্কো ক্রমাগত চীনের দিকে ঝুঁকছে। চীনা প্রেসিডেন্ট সি ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যৌথভাবে ন্যাটোর বিরুদ্ধে নতুন ব্লক গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। পুতিন যদি তাঁর মুখ্য উদ্দেশ্য অর্জন করে থাকেন, তাহলে এখনো কেন ইউক্রেনের সীমান্তে সোয়া লাখ সৈন্য? কারণ, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এখনো তাঁর ত্যাড়া ঘাড় বাঁকা করেই বসে আছেন। সম্ভব হলে তাঁকে হটিয়ে অনুগত কাউকে সেখানে বসানো পুতিনের ইচ্ছা। তা যদি এই মুহূর্তে সম্ভব না হয়, অন্ততপক্ষে তিনি যেন ন্যাটোমুখী হওয়া থেকে বিরত থাকেন, পুতিন তা-ই চান। পুতিনের আরেক ইচ্ছা, ইউক্রেন বিচ্ছিন্নতাবাদী দুই ইউক্রেনীয় ‘স্বাধীন প্রজাতন্ত্র’কে (দানিয়েস্ক ও লুগানস্ক) মেনে নিক। নিদেনপক্ষে তাদের ‘বিশেষ অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিক। ২০১৪ সালে এই দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার পর জার্মানি ও ফ্রান্সের দূতিয়ালিতে ২০১৫ সালে মস্কো ও ইউক্রেন একটি শান্তি চুক্তি সই করে। ‘মিনস্ক মতৈক্য’ নামে পরিচিত সেই চুক্তি অনুসারে যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বসার ব্যাপার ইউক্রেন সম্মত হয়। মস্কোর ভাষ্য অনুসারে, এই আলাপ-আলোচনার লক্ষ্য এই দুই অঞ্চলের আংশিক স্বায়ত্তশাসন মেনে নেওয়া। সাত বছর আগে স্বাক্ষরিত হলেও এই চুক্তি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, কিয়েভ সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কোনো স্বীকৃতিও দেয়নি। কোনো কোনো মহল থেকে বলা হচ্ছে, মিনস্ক চুক্তি মেনে নিলেই সব ল্যাটা চুকে যায়। কিন্তু রাশিয়ার শর্তে যদি তা মানা হয়, তার অর্থ দাঁড়াবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব মস্কোর পদানত করা। প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মিনস্ক চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন চান। মস্কোতে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সে কথার পুনরুক্তি করেন। তিনি বলেন, জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই চুক্তির কোনো শর্তই তাঁর পছন্দ নয়, কিন্তু এই চুক্তির বাস্তবায়িত না হলে তিনি শেষমেশ নিজের দেশই হারাবেন। জেলেনস্কিকে তিনি ‘মাইয়া ক্রাসাভিৎসা’ নামে সম্বোধন করে বলেন, ‘তোমার পছন্দ হোক বা না হোক, এই চুক্তি বাস্তবায়ন তোমার দায়িত্ব।’ মাইয়া ক্রাসাভিৎসা কথাটার আক্ষরিক অর্থ ‘হে আমার সুন্দরী’। ঠাট্টা করে ‘মাইয়া ক্রাসাভিৎসা’ (ডার্লিং) বলা হয় কিন্তু পুতিন যেভাবে কথাটা বলেন, তাতে ঠাট্টা নয়, স্পষ্ট অবজ্ঞা ও ঘৃণা মেশানো ছিল। চাইলে তিনি ইউক্রেনকে হাসতে হাসতে পিষে ফেলতে পারেন, কার্যত সেই হুমকিই তিনি দিলেন। বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল দুটিকে যদি স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তাহলে দেশের ভেতরে যে প্রবল বিক্ষোভের সৃষ্টি হবে, তার ফলে জেলেনস্কির পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব হবে। তাহলে উপায় কী? এই সংকট থেকে বেরোনোর একটি সরল পথ বাতলেছেন হেনরি কিসিঞ্জার। সেই ২০১৪ সালেই তিনি লিখেছিলেন, নিজের স্বার্থেই ইউক্রেনের উচিত হবে পূর্ব ও পশ্চিম উভয় বলয় থেকে নিজেকে দূরে রাখা। রাশিয়ার উচিত হবে ইউক্রেনকে নিজ বলয়ভুক্ত করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকা। কারণ, সে চেষ্টার ফলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক বিবাদে জড়িয়ে পড়বে। অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোরও উচিত হবে ইউক্রেনকে ন্যাটোর ভেতর টেনে না আনা। রাশিয়ার কাছে সে কখনোই ‘বিদেশি’ কোনো দেশ হবে না। নিজের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে মস্কোর যে ন্যায়সংগত উদ্বেগ রয়েছে, তা মেনে নিয়ে এগোলেই সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে। যুদ্ধ যুদ্ধ বলে ওয়াশিংটন যতই চেঁচাক, এই মুহূর্তে গাড়ির চালকের আসনে মস্কো। তার লক্ষ্য যুদ্ধ নয়, যুদ্ধের ভান করে নিজের দাবি আদায় করে নেওয়া। তা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সে শিগগির নিজ সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেবে, তা মনে হয় না।
এ বছরের ৬ মে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বেধে গেল যুদ্ধ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া।
যুদ্ধের ধামামার মধ্যেই বিয়েটা আগেভাগে সেরে ফেলতে হলো ইউক্রেনের তরুণ-তরুণীর। খবর সিএনএনের নিউজের।
যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দের মাঝে বৃহস্পতিবার রাজধানী কিয়েভের সেন্ট মাইকেল ক্যাথেড্রালে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারলেন স্ভিয়াতোস্লেভ ফারসিন (২৪) ও ইয়ারিনা আরিয়েভা (২১)।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক সুন্দর রেস্তোরাঁর ছাদ বারান্দায় উদ্যাপন করার কথা ছিল জীবনের অন্যতম এই মুহূর্তটা।
তার পাশে বহমান দিনেপার নদী। ২১ বছর বয়সী আরিয়েভার ভাষায়, ‘কেবল আমরা ও নদী। সঙ্গে সুন্দর আলো।’
কিন্তু সেই স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে যুদ্ধে যোগ দিচ্ছেন তারা। এই দম্পতি জানেন না, ভবিষ্যৎ তাদের জন্য কী বয়ে আনছে। যুদ্ধের ভয়ে যখন ইউক্রেনের মানুষ দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে, তখন বিয়ের পর নিরাপত্তার খোঁজে কোথাও যাচ্ছেন না এই দম্পতি।
তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, দেশেই থাকবেন এবং যুদ্ধ করবেন। দেশকে সাহায্য করতে স্থানীয় টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স সেন্টার বা প্রতিরক্ষা কেন্দ্রে যোগ দিচ্ছেন এই নবদম্পতি।