বিনোনওয়াইন নামে এক টুইটার গ্রাহক এই ধাঁধাটি শেয়ার করছেন।
নেটমাধ্যমে সম্প্রতি একটি দৃষ্টিভ্রমের ছবি ভাইরাল হয়েছে। সাদাকালো সেই গোল ছবির পিছনে কয়েকটি সংখ্যা লুকিয়ে রয়েছে। বিনোনওয়াইন নামে এক টুইটার গ্রাহক এই ধাঁধাটি শেয়ার করছেন।
ছবিটি শেয়ার করার পর প্রশ্ন করেছেন, ‘এর মধ্যে কোনও সংখ্যা দেখতে পাচ্ছেন? যদি দেখতে পান, তা হলে সেই সংখ্যা কত বলতে পারবেন?’
টুইটার গ্রাহকের এই ছবি নিয়ে নেটাগরিকদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে। সংখ্যার খেলা নিয়ে মেতেছেন তাঁরা। ছবিটিতে ভাল করে খেয়াল করলে প্রথমেই যে সংখ্যা নজরে আসবে, তা হল ৫২৮। তা দেখেই হয়তো আপনি সহজে বলে দেবেন এই তিনটে সংখ্যা রয়েছে।
দাঁড়ান। একেই বলে দৃষ্টিভ্রম। ওই তিনটে সংখ্যা নয়। আরও সংখ্যা আছে। সেগুলি তা হলে কী?
এক টুইটার গ্রাহক বলেছেন, ‘১৫২৮৩।’ আবার আরও এক জন বলেছেন, ‘৪৫২৮৩।’ অন্য এক জন বলেছেন, ‘৩৪৫২৮৩৯’। আপনার চোখে কোন সংখ্যাগুলি ধরা পড়ছে, দেখুন তো।
বেশ কিছু গবেষণায় অমিক্রনের প্রধান উপসর্গ হিসেবে গলা ও শরীরব্যথা, বিশেষত কাঁধ ও পায়ে ব্যথার বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক করোনা ট্র্যাকার অ্যাপ জো কোভিডের গবেষণায় দেখা যায়, অমিক্রনে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তি (হালকা বা গুরুতর) ও হাঁচি দেখা গেছে।
করোনার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। ২ মার্চ থেকে শুরু হবে সশরীরে পাঠদান।
রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৩ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনা মোতাবেক ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত সব ধরনের সরকারি/বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ থাকবে।
আগামী ২ মার্চ থেকে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা গেল।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯৬৫ জনে।
একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৮৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে । এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ২৯১ জনে। শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ।
রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জনের মৃত্যু খবর জানানো হয়। এদিন শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ১৫০ জন। শনাক্তের হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
স্বামী বিদেশে থাকায় পরিবারের সবকিছুই সামাল দিতে হয় গৃহবধূ শাহানা পারভিন জ্যোৎস্নাকে (৩৪)। তাই গত বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলেও ওষুধ কেনার কথা বলে ঘর থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘক্ষণ ঘরে না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজির পরও স্বজনদের সন্দেহ হয় ফার্মেসির মালিকের ওপর। পরের দিন বৃহস্পতিবার তার বাসায় খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন পরিবার নিয়ে ভোরে পালিয়েছেন ফার্মেসি মালিক। এরপর সন্দেহ আরও বেড়ে গেলে ফার্মেসির তালা ভাঙলে জ্যোৎস্নার ৬ টুকরো খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনাটি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর অভিযুক্ত ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ অভিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এরপরেই হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, জোৎস্না কিছুদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সমস্যার কথা স্থানীয় ফার্মেসি মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে জানালে তিনি তাকে ফার্মেসিতে যেতে বলেন। এরপর ফার্মেসিতে গেলে পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হন জোৎস্না। ধর্ষণের কথা সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে জিতেশসহ তিনজন জোৎস্নাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ফল কাটার ছুরি দিয়ে মরদেহ ৬ টুকরা করে।
সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আবদুল মতিন মার্কেটের অভি মেডিকেল হল নামের একটি ওষুধের দোকান থেকে জোৎস্নার ৬ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি বলেন, জোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরের নিজ বাসায় দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকেন। তার স্বামী ছরকু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সৌদিপ্রবাসী। পরিবারের সদস্যদের ওষুধ কেনার সুবাদে ফার্মেসি মালিকের সঙ্গে জোৎস্নার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জোৎস্না কিছুদিন ধরে শারীরিক গোপন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জিতেশ জোৎস্নার মায়ের প্রেসার মাপার জন্য তাদের বাড়িতে যায়। তখন জোৎস্না তার গোপন সমস্যার কথা জিতেশকে জানালে সে তাকে ফার্মেসিতে যেতে বলে। ওইদিন বিকেলে জোৎস্না দোকানে গেলে দোকানে কাস্টমার রয়েছে বলে তাকে অপেক্ষা করতে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এদিকে রাত গভীর হলে জোৎস্নার বাসায় যাওয়ার অস্থিরতা বেড়ে যায়। তখন ওই ফার্মেসির মধ্যে জোৎস্নাকে একটি ঘুমের ওষুধ খেতে দেয় জিতেশ। এতে তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তখন জিতেশ তার দুই সহযোগী অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত গোপকে নিয়ে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। এরপর রাত গভীর হলে আশপাশের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তখন জিতেশ ও তার দুই সহযোগী এনার্জি ড্রিংকস পান করে জোৎস্নাকে জোরপূর্বক সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে।
সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি জোৎস্না তার পরিবারকে জানাবে বলে জানান। তখন জিতেশ ও তার সহযোগীরা জোৎস্নার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মুখে বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
মুক্তা ধর বলেন, পরে ওই ফার্মেসিতে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে জোৎস্নার দুই হাত, দুই পা ও বুক-পেটসহ ৬ টুকরা করে। এরপর দোকানে থাকা ওষুধের কার্টন দিয়ে খণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে তারা ফার্মেসি তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওই মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাশের একটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় ও লোকজন চলে আসায় তারা সেই কাজটি করতে পারেনি।
এই ঘটনার পর সিআইডির এলআইসি শাখার একাধিক দল আসামিদের গ্রেফতারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায়। শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ভাটারা থানার নুরেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিতেশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জগন্নাথপুর থানার পৌর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনজিৎ ও অসীত গোপকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুত্রঃ আরটিভি নিউজ।
কুয়েত সিটি: বিচারক নাসর সালেম আল হায়দের নেতৃত্বে আপিল আদালত, ঘুষ গ্রহণের পরে সাবাহ আল-সালেম স্বাস্থ্য পরীক্ষাগারে রক্ত পরীক্ষার ফলাফল হেরফের করার জন্য ভারত ও মিশরের আট প্রবাসীকে ১০ বছরের কঠোর শ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।
নতুন ভিসায় কুয়েতে আগত প্রবাসীদের শরীরে সংক্রমণের জন্য রক্ত পরীক্ষার ফলাফল নির্ধারণে ঘুষ নিত দন্ডিত প্রবাসীরা।
আল-সেয়াসাহ’র সুত্রে আরব টাইমসে প্রকাশিত সংবাদে জানাযায় যে, আসামীদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, পাঁচজন দেশ থেকে পালিয়েছে।
সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রবাসীদের বিষয়গুলো অনুসরণ করার দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলো, রেসিডেন্সি অ্যাফেয়ার্স বিভাগসহ, তদন্ত করে এ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে।
সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী ফলো-আপ জেনারেল বিভাগ থেকে একটি ফোন পাওয়ার পর তাদের আটক করা হয়েছিল।
তাই, চারজন প্রবাসীকে আবার পরীক্ষা করতে বলা হয়েছিল (সম্পূর্ণ শরীর পরীক্ষা) – হেপাটাইটিস বি এবং সি এবং এইচআইভির জন্য রক্ত পরীক্ষা, সেইসাথে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইউনিটে বুকের এক্স-রে।
প্রবাসীদের মধ্যে দুজন হেপাটাইটিস বি এবং অন্য দুজন হেপাটাইটিস সি-এর পরীক্ষা ইতিবাচক ছিল।
অন্য চার প্রবাসীর এক্স-রে ফলাফল স্বাভাবিক ছিল সূত্র যোগ করেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ১৯৪৫ সালের পর রাশিয়া ইউরোপে সবথেকে বড় যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছে। বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
বরিস জনসন বলেন, সব লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, রাশিয়া আক্রমণের পরিকল্পনা শেষ করে ফেলেছে।
গোয়েন্দা তথ্য উদৃত করে যুক্তরাজ্যের এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন হানা দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছে এবং ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভও হামলার লক্ষ্যস্থল হবে। হামলা হলে তার মানবিক মূল্য হবে প্রচুর।
বরিস জনসনের এই কথার অর্থ- রাশিয়ার হামলায় অনেক প্রাণহানি ঘটবে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, জার্মানির মিউনিখে থেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এসব কথা বলেছেন। বিশ্বনেতারা সেখানে বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ইউক্রেন সীমান্তের তিনদিকে রাশিয়া ১ লাখ ৬৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার পর্যন্ত সেনা জড়ো করেছে। রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সংক্ষিপ্ত নির্দেশে, যেকোন দিন যেকোনো সময় এই সেনারা ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ করবে।
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে ভাইরাল হওয়া সোহেল মিয়া ওরফে বকুলের প্রথম স্ত্রীর খবর প্রকাশে নিজের সংসার ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী রওশন।
গণমাধ্যম ও সোহেলের প্রথম স্ত্রীর প্রতি হাত জোড় করে রওশন অনুরোধ করেছেন, দয়া করে আমার সুখের সংসারটি ভাঙবেন না।
যমুনা টেলিভিশনকে রওশন বলেন, ‘সোহেলের আগের বিয়ে নিয়ে আমি কিছুই জানতাম না। তা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথাও নেই। তবে আমার সংসার এখন ভাঙার পথে।’
সোহেল মিয়ার প্রথম স্ত্রী শুরাতন বেগমের উদ্দেশে রওশন বলেন, ‘আমার সংসারটা ভাঙবেন না। আমি আপনার মতো সুস্থ না। আমি একজন প্রতিবন্ধী মেয়ে। যদি আপনারা আসতে চান আসুন। আমি হাসিমুখে বরণ করে নেব। যদি আপনারা আসতে চান আসুন। এখন বলছেন উনি আপনার স্বামী। তা হলে সে (বকুল) হারানোর সময় থানায় জিডি করলেন না কেন? হারানোর কথা সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানাতে পারতেন। তাও তো করলেন না।’
সোহেল-শুরাতন দম্পতির বড় ছেলে সিহাব উদ্দীনকেও নিজের সংসারে স্বাগত জানান রওশন।
বলেন, ‘তুমি যদি আসতে চাও বাবা, আমি তোমাকে হাসিমুখে বরণ করে নেব। তুমি কি আসবা? শুনেছি তুমি দোকানদারি করো, আমিও দোকানদারি করি৷ আসতে চাইলে চলে আসো। সবাই একসঙ্গে দোকানদারি করি।’
প্রথম স্ত্রীকে ফেলে ময়মনসিংহে এসে দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামী সোহেলের পক্ষই নিলেন রওশন।
বললেন, ‘আমার স্বামী কী অন্যায় করেছে, অপরাধ করেছে সেটি বিষয় না। আমাকে সে ভালোবাসে, আমিও তাকে ভালোবাসি। আমাদের ১৫ বছরের সংসারে সে আমাকে ছেড়ে কোথাও যায়নি। তার আগে কী করল, না করল এগুলো গণমাধ্যমে কেন আনতেছেন? সে তো আমাকে ভালোবেসে ১৫ বছর ধরে পড়ে আছে। ধনসম্পদ কোনো কিছু তাকে দিতে পারিনি। শুধু ভালোবাসাই আমাদের সম্বল। আমার স্বামীর হয়ে সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। ও যদি শত অন্যায়ও করে ওই পরিবারের কথায় গণমাধ্যমে আর সংবাদ প্রকাশ করবেন না। তা হলে আমার সংসারটা ভেঙে যেতে পারে। আমি প্রতিবন্ধী মানুষ, আমি আমার স্বামীকে নিয়ে থাকতে চাই।’
উল্লেখ্য, বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাইরাল হয় রওশন-সোহেল দম্পতির ভালোবাসার কাহিনি। ময়মনসিংহের ত্রিশালের প্রতিবন্ধী স্ত্রী রওশন আরাকে ঘাড়ে নিয়ে চলাফেরা করে খ্যাতি অর্জন করেন সোহেল।
তিনি জানিয়েছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে পড়ে। ত্রিশালের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকতারুজ্জামানকে তার পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী প্রদান ও খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরই মধ্যে জানা যায়, মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন সোহেল। তার নাম সোহেল নয়; জাহাঙ্গীরনগর তো দূরের কথা অষ্টম শ্রেণির বেশি পড়ালেখা করেননি তিনি।
তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের শামপুর গ্রামের শ চা দোকানি। তার নাম মোকলেসুর রহমান বকুল।
প্রায় ২০ বছর আগে একই ইউনিয়নের সন্তোষপুর গ্রামের সাজ্জাদ আলীর মেয়ে শুরাতন বেগমকে বিয়ে করেন বকুল। অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় বকুল প্রায় ১৫ বছর আগে এলাকায় স্ত্রী-সন্তানদের রেখে চলে যান। যাওয়ার পর তাদের খোঁজখবর রাখেননি।
এ ব্যাপারে সোহেল মিয়া ওরফে বকুল যুগান্তরকে বলেন, মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ায় আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নই। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছি। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে ত্রিশালে এসেছি। এখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে আমার মতো থাকতে বলেছে।