করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৮৮৭ জনে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯২৯ জনের। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৩১ জনে। শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ২০ শতাংশে।
মঙ্গলবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ৭৪৬ জনের।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
কুয়েত রেসিডেন্স অ্যাফেয়ার্সের জেনারেল ডিপার্টমেন্ট ৩ এশিয়ান নাগরিককে অবৈধ হোম নার্সিং সার্ভিস দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ।
আজ বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) আল ওয়াতন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে আরো জানা যায় যে, একামা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আমগারা এলাকা থেকে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫ জন প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছে বলে আরটিএম নিউজকে নিশ্চিত করেন একজন প্রবাসী ।
তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট রেফার করা হয়েছে ।
কুয়েত রেসিডেন্স অ্যাফেয়ার্সের জেনারেল ডিপার্টমেন্ট ৩ এশিয়ান নাগরিককে অবৈধ হোম নার্সিং সার্ভিস দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ।
আজ বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) আল ওয়াতন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে আরো জানা যায় যে, একামা আইন লঙ্ঘনের দায়ে আমগারা এলাকা থেকে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫ জন প্রবাসীকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছে বলে আরটিএম নিউজকে নিশ্চিত করেন একজন প্রবাসী ।
তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট রেফার করা হয়েছে ।
ইউক্রেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদেরকে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে পার্শ্ববর্তী পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ পরামর্শ দেয়া হয়।
এদিকে, যুদ্ধ আতঙ্কের কারণে ইউক্রেনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। ইউক্রন থেকে কেউ দেশে ফিরতে চাইলে বাংলাদেশ সহায়তা করবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সকল বাংলাদেশিকে অত্যাবশ্যকীয় না হলে ইউক্রেনে সব ধরনের ভ্রমণ বাতিল করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পাকিস্তানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তারকা ও মডেল কান্দিল বেলুচকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তার ভাই মুহাম্মদ ওয়াসিমকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে ‘অনার কিলিং’-এর শিকার হন ২৬ বছর বয়সী ঐ তারকা।
হত্যার ঘটনা নিয়ে পুলিশের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোন কান্দিলকে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন মুহাম্মদ ওয়াসিম। হত্যার তিন বছর পর আদালত তার ভাইকে দণ্ড দেন। ২০১৯ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত হওয়ার পর প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেন মুহাম্মদ ওয়াসিম।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনজীবীরা বলেছেন, সোমবার পাকিস্তানের ‘লাহোর হাইকোর্টের মুলতান বেঞ্চ ওয়াসিমের দণ্ড মওকুফ করেন। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াসিমকে মুক্তি দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় এক দশক পর সোমবার দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোগান। আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের আমন্ত্রণে এরদোগানের এই সফর। খবর আনাদোলুর। সফরের প্রথম দিন সোমবার রাতে এরদোগানের সম্মানে জমকালো এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। আবুধাবিতে পৌঁছলে সোমবার তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে তাকে যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সরকারি বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরদোগান সেখানে পরিদর্শন বইয়ে লেখেনÑ ‘আমার প্রিয় ভাই শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের আমন্ত্রণে আমিরাত সফরে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমি আশা করি এখানে আমরা দুই দেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের কল্যাণে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা চুক্তি করতে পারব।’ সোমবার এরদোগানের সফরের প্রথম দিনে আমিরাতের সঙ্গে ১৩টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ক‚টনীতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক ইস্যু ছাড়াও দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়। সফরের শেষ দিনে মঙ্গলবার দুবাই এক্সপো পরিদর্শন করেন এরদোগান। এক দশক আগে কথিত আরব বসন্ত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে নামে তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এর অংশ হিসেবে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, একইভাবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনীতিতেও দুই দেশের অবস্থান দুই মেরুতে। শুধু সিরিয়া ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান অনেকটা এক বিন্দুতে ছিল। গত বছরের আগস্টে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান জানান, তার দেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে, যার ধারাবাহিকতায় আমিরাত তুরস্কে ১০ বিলিয়ন ডলারের বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে পারে। আনাদোলু।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ’আমি প্রবাসী অ্যাপস ’নিয়ে চলছে তুঘলকি কাণ্ড। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর নিকট আত্মীয় নামিরা আহমাদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সচেতন কর্মকর্তারা পড়েছেন বেকায়দায়। কেবিনেট ক্রয় কমিটির সুপারিশ নেয়ার উদ্যোগ না নিয়ে বিএমইটি কর্তৃপক্ষ আমি প্রবাসী লি. এর সাথে দ্বিতীয় দফা চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠছে। কার স্বার্থে তড়িঘড়ি দ্বিতীয় চুক্তি পাকাপোক্ত করা হচ্ছে তা নিয়ে খোদ প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে নানা কানাঘুষা শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে যারা বিরোধিতা করেছেন তাদেরকে বিএমইটি থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন এডিজি ও একজন ডিরেক্টরও রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসী কর্মীদের সহজ তথ্যপ্রাপ্তির জন্য অ্যাপ কেনার সিদ্ধান্ত নেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। নাম ‘আমি প্রবাসী’। থ্যান সিস্টেম নামের একটি কোম্পানি অ্যাপটি সরবরাহ করে। এজন্য মন্ত্রণালয়ের খরচ হয় ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। গত বছর ৮ মে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এটি উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ। প্রবাসীমন্ত্রীর কথিত ভাতিজা নামির আহমাদ উক্ত কোম্পানির অংশিদার বলে জানা গেছে। প্রবাসী মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে আমি প্রবাসী অ্যাপ মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রথম চুক্তির সুযোগ হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সরকারি অ্যাপের নাম এবং লোগো দিয়ে ইতোমধ্যেই খোলা হয়েছে লিমিটেড কোম্পানি। ইতোমধ্যে সাড়ে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রভাবশালী চক্রটি।
মন্ত্রী সম্পর্কে ফুপা হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অনেকেই মুখ খুলতে নারাজ। ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও নথিতে আপত্তি জানাতে পারছেন না তারা। এ সুবাদে মন্ত্রীর কথিত আত্মীয় নামির আহমাদ জবরদখলের এই বাণিজ্যে আরো এক ধাপ এগিয়ে যেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। প্রথমে সমঝোতা স্মারক করলেও এবার একেবারে দ্বিতীয় চুক্তির সব বন্দোবস্ত চূড়ান্ত প্রায়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রবাসী মন্ত্রীর দফতরে প্রবাসী সচিব ড. আহমদ মুনিরুছ সালেহীনের সাথে আমি প্রবাসী অ্যাপের সাথে দ্বিতীয় চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি দ্রুত সম্পন্ন করতে দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হন ভাতিজা নামিরা আহমাদ। তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা’ জানা যায়নি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত আমি প্রবাসী অ্যাপের ব্যাপারে প্রবাসীমন্ত্রী ও সচিবের বক্তব্য নেয়ার জন্য গতকাল সরেজমিনে প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে গেলে মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান ইনকিলাবকে বলেন, মন্ত্রীর সাথে দেখার কোনো সুযোগ নেই। স্যার আজ খুবই ব্যস্ত।
প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সচেতন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, চুক্তি হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সবাইকে দুদকের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কেউই দায় এড়াতে পারবেন না। প্রবাসীমন্ত্রীর নিকট আত্মীয় নামিরের কাছ থেকে নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে আমি প্রবাসী লিমিটেডের প্রস্তাবিত আরো ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রদানে দ্বিতীয় চুক্তি করার লক্ষ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্ত বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে মতামত চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সারওয়ার আলম তার দফতরে ইনকিলাবকে বলেন, আসলে বিএমইটির ডিজিই নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদেশগামীদের সুবিধার্থে আধুনিক অ্যাপ স্থাপনের উদ্যোগ নিতে পারেন। তিনি বলেন, কেউ যদি জেগে থেকে ঘুমের ভান ধরে থাকেন তাহলে যা হবার তাই হবেই।
প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, এভাবে একটি বেসরকারি কোম্পানিকে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া অনৈতিক এবং দুর্নীতির শামিল। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার কারণে লাখো প্রবাসী ইতোমধ্যে অ্যাপের দিকে ঝুঁকছে। ১১ লাখের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী নিবন্ধন করেছেন এই অ্যাপে। ফলে প্রবাসীদের বিশাল তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারেরও আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র বলছে, এই অ্যাপে ভ্যাকসিনের নিবন্ধন করতে গিয়ে জটিলতার মুখে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী। নিবন্ধন সম্পন্ন না হলেও টাকা কেটে নেয়া হয়েছে অনেকের। আবার এক জায়গায় নিবন্ধন পেন্ডিং থাকায় সুরক্ষা অ্যাপেও নিবন্ধন করা যাচ্ছে না। ফলে অপেক্ষমাণ অনেকের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। দিনদিন ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
আমি প্রবাসী অ্যাপসের প্রথম চুক্তিতে স্বচ্ছতা নেই, দ্বিতীয় চুক্তির জন্য বিএমইটি মরিয়া এবং ওপেন টেন্ডর করছেন না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএমইটির ডিজি শহীদুল আলম গতকাল বলেন, আমি প্রবাসী লি. অ্যাপস নিয়ে আমার বলার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি। এছাড়া উচ্চ পদোন্নতির লোভে কেউ কেউ আমি প্রবাসী লি. অ্যাপের সাথে দ্বিতীয় চুক্তি সম্পাদনে তড়িঘড়ি করছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
মন্ত্রীর ভাতিজা নামির আহমাদ গতকাল মঙ্গলবার রাতে ইনকিলাবের সাথে আলাপকালে দাবি করেন, ‘অ্যাপ প্রবাসী অ্যাপস ডেভেলপ থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা বা চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি। প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পাদিত হয়েছে আইনকানুন মেনে। আমি ঐ কোম্পানির সাথে ২০১৬ সাল থেকে জড়িত রয়েছি। তিনি বলেন, আমি প্রবাসী অ্যাপস চালু হওয়ায় বিএমইটির ডেমো অফিসগুলোতে বিদেশগামী কর্মীরা নিবন্ধন করতে যাচ্ছে না। ডেমো অফিসের কর্মকর্তারা একজন বিদেশগামী কর্মীর নিবন্ধন করতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। নামির আহমাদ বলেন, মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট চক্র আমি প্রবাসী অ্যাপস নিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত। প্রবাসীমন্ত্রী সম্পর্কে তার ফুপা হলেও এ সম্পর্কের খাতিরে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো অবৈধ সুবিধা নেননি বলে তিনি দাবি করেন।
কর্নাটকের শিক্ষাক্ষেত্রে হিজাব নিষিদ্ধ নিয়ে তোলপাড় দেশ। মামলা গড়িয়েছে শীর্ষ আদালতে। এ প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশের একটি কলেজে নিষিদ্ধ হল হিজাব। গতকাল মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া জেলার এক সরকারি কলেজে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মহিলা মোর্চা ‘দুর্গা বাহিনী’র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর। ‘দুর্গা বাহিনী’র দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসে মুসলিম ছাত্রীরা হিজাব পরে আসতে পারবেন না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হল নয়া বিতর্ক।
কর্নাটক হাইকোর্টের অন্তর্র্বর্তীকালীন নির্দেশে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত আপাতত সে রাজ্যের শিক্ষার্থীরা হিজাব পরে স্কুল বা কলেজে আসতে পারবেন না। এ নিয়ে মঙ্গলবারও একাধিক মামলার শুনানি চলে আদালতে। তার মধ্যেই সামনে এল মধ্যপ্রদেশের ঘটনা।
গত সোমবার দাতিয়া সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল ডিআর রাহুল জানান, কোনো সম্প্রদায়ের পরিচ্ছদ বলে পরিচিত এমন কোনো পোশাক পরে আসতে বারণ করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের। সেটা হিজাব হতে পারে কিংবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের পোশাক-পরিচ্ছদ।
জানা গেছে, সোমবার দুই কলেজছাত্রী হিজাব পরে ক্লাসে ঢোকার পর আন্দোলন শুরু করে ‘দুর্গা বাহিনী’। ঘেরাও হন কলেজের প্রিন্সিপাল । তাদের দাবি, কলেজ ক্যাম্পাসে হিজাব নিষিদ্ধ করতে হবে। তার পরেই কলেজ কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত বলে খবর। তবে প্রিন্সিপালের দাবি, কলেজের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার আরো দাবি, আগে কলেজে কেউ হিজাব পরে আসতেন না। কিন্তু কর্নাটকে হিজাব-বিতর্ক শুরু হওয়ার পরপরই কয়েকজন ছাত্রী হিজাব পরে ক্লাসে আসতে শুরু করেন।
অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের দাবি, মধ্যপ্রদেশে হিজাব নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। দাতিয়া কলেজের ঘটনা শুনে জেলাশাসককে কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে সাতনার একটি কলেজে হিজাব পরে আসার ‘অপরাধে’ এক ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দিতে বলেন প্রিন্সিপাল।
মুসলিমরা এ নিষেধাজ্ঞাকে একটি সম্প্রদায়কে প্রান্তিক করার আরেকটি উপায় হিসেবে সমালোচনা করেছে যারা হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতের ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে, দেশের উত্তরে এবং নয়াদিল্লির সীমান্তবর্তী, দুই ডজনেরও বেশি যুবকের একটি দল সোমবার আলিগড় জেলার ধর্ম সমাজ কলেজে পৌঁছে এবং এর আধিকারিকদের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেছে যাতে হিজাবের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
তাদের গলায় ছিল গেরুয়া শাল যা সাধারণত বিজেপি সমর্থিত হিন্দুরা পরে থাকে। কলেজের প্রধান প্রক্টর মুকেশ ভরদ্বাজ বলেন, তিনি লোকেদের চিনতে পারেননি। বর্তমানে, শ্রেণিকক্ষে ধর্মীয় পোশাকের অনুমতি নেই, তবে ক্যাম্পাসের অন্য কোথাও পরা যেতে পারে।
ভরদ্বাজ মঙ্গলবার ফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘দুই বছর আগে একই ইস্যুটি উত্থাপিত হয়েছিল এবং এটি আবারও উত্থাপিত হয়েছে। আমরা কোনো ধরনের ধর্মীয় ইউনিফর্মের অনুমতি দিই না এবং আমাদের সবার জন্য ইউনিফর্মের নাগরিক কোড রয়েছে’।
‘মেয়েদের জন্য একটি চেঞ্জিং রুম রয়েছে এবং তারা ক্লাসে যাওয়ার আগে সেখানে তাদের পোশাক পরিবর্তন করতে পারে’, তিনি বলেন। ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি’।
প্রায় ব্রাজিলের সমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত উত্তরপ্রদেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল থেকে হিন্দু সন্ন্যাসী যোগী আদিত্যনাথ শাসত করেন যেখানে বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচন চলছে এবং হিন্দু-মুসলিম বিরোধ প্রায়ই রাজ্যে রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহৃত হয়।
এর আগে গত সোমবার হাইকোর্ট স্কুল ও কলেজগুলোতে হিজাব বা অন্য কোনো ধর্মীয় পোশাকের অনুমতি না দেয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছে। সেই অন্তর্বর্তী আদেশ এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট।
বর্তমান হিজাব বিতর্কের মধ্যে সোমবার কর্ণাটক হাইকোর্ট স্কুল ও কলেজে হিজাব নিষিদ্ধকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনের শুনানির পরে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মামলা মুলতুবি করে। শুনানির আগে কর্ণাটক হাইকোর্ট মিডিয়াকে ‘আরো দায়িত্বশীল হতে’ আবেদন জানিয়েছে। হাইকোর্টের স্কুল ও কলেজগুলোতে হিজাব বা অন্য কোনো ধর্মীয় পোশাকে অনুমতি না দেওয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অন্তর্বর্তী আদেশ এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট।
বর্ষীয়ান আইনজীবী দেবদত্ত কামাত আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত হয়ে কর্ণাটক হাইকোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেন। কামাত বলেন যে, মুসলিম মহিলাদের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে মাথার স্কার্ফ পরার অনুমতি রয়েছে। তিনি যোগ করেছেন যে, ‘এটি এমন একটি ঘটনা যেখানে ছাত্ররা বছরের পর বছর ধরে হেডস্কার্ফ পরে আসছে’। কামাত আরো বলেন, যতদূর পর্যন্ত মূল ধর্মীয় অনুশীলনের বিষয়, তা ২৫ (১) ধারা থেকে আসে।
আইনজীবী কামাত বলেন, ‘যদি মূল ধর্মীয় চর্চা জনসাধারণের শৃঙ্খলার ক্ষতি করে বা আঘাত করে তবে তা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে’। এর প্রেক্ষিতে কর্ণাটক হাইকোর্ট কামাতকে জিজ্ঞাসা করেন যে, কোরআনে কি হিজাবকে অপরিহার্য ধর্মীয় অনুশীলন বলে বর্ণনা করা হয়েছে? এর জবাবে কামত বলেন, আমি তা বলছি না।
আবেদনকারীরা যুক্তি দেন যে, কোরআন অনুযায়ী হিজাব পরা ‘ফরজ’ বা কর্তব্য। শিক্ষার্থীরা তাদের ইউনিফর্মের মতো একই রঙের হিজাব পরতে চাইছে। আবেদনকারীরা আদালতের কাছে মেয়েদের হিজাব পরে ক্লাসে যোগ দেওয়ার এবং তাদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন। তবে কর্ণাটক সরকারের পক্ষে জানানো হয়েছে, ইসলামে হিজাব অপরিহার্য কিনা তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
এদিকে, হিজাব নিয়ে রাজ্যের কিছু অংশে অপ্রীতিকর ঘটনার পর গত বুধবার থেকে বন্ধ থাকার পর সোমবার কর্ণাটকের উচ্চ বিদ্যালয়গুলো আবার চালু হয়েছে। ফৌজদারি আইনের ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে উদুপি, দক্ষিণ কন্নড় এবং বেঙ্গালুরু জেলার সংবেদনশীল এলাকায়।
রোববার মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোমাই আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন যে, রাজ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিগ্রি কলেজ পুনরায় খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এর আগে শুক্রবার সরকার জানায় যে, উচ্চশিক্ষা বিভাগের অন্তর্গত বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজিয়েট অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন (ডিসিটিই) অধিদফতরের অধীনস্থ কলেজগুলোর জন্য ঘোষিত ছুটি ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
উদুপি জেলায় সোমবার শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর যে, উচ্চ বিদ্যালয়গুলো আবার খুলেছে। সমস্ত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। হিজাব পরে স্কুল ক্যাম্পাসে আসা মুসলিম মেয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে প্রবেশের আগেই তা সরিয়ে দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এদিন নির্ধারিত পরীক্ষা চলেছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উদুপি শহরে এবং স্কুলের কাছাকাছি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
উদুপি জেলা প্রশাসন শান্তি বজায় রাখার জন্য সোমবার থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলার সমস্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ মিটার ব্যাসার্ধে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। উদুপি তহসিলদার প্রদীপ কুরুদেকর, যিনি কয়েকটি স্কুল পরিদর্শন করেছেন, বলেছেন যে, মুসলিম ছাত্ররা ক্লাসে প্রবেশের আগে হিজাব সরিয়ে হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ মেনে চলছে।
হিজাব বিতর্কে মুখ খুললেন নীতীশ কুমার বিগত কয়েকদিন যাবত দেশজুড়ে ঝড় উঠেছে কর্ণাটকের হিজাব বিতর্ক নিয়ে। ইতোমধ্যেই এই বিতর্কে লেগেছে রাজনৈতিক রঙ। একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিজাব বিতর্কে স্বপক্ষে এবং বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন। আর এই নিয়ে এবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার জানিয়ে দিলেন হিজাব কোন ইস্যু নয় বিহারে। এখানে যেকোনো ছাত্রী মাথার ওপর কাপড় জড়িয়ে স্কুলে আসতেই পারে। একে অপরে ধর্মীয় ভাবাবেগকে মর্যাদা দেওয়া হয় বিহারে বলে জানালেন নীতীশ কুমার। কার্যত নীতীশ কুমারের মতে, অনর্থক বিতর্ক চলছে দেশজুড়ে। পাশাপাশি বুঝিয়ে দিলেন কর্ণাটকের বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এনডিএর শরিক দল জনতা দল ইউনাইটেড মোটেই একমত নয়। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা নীতীশ কুমারের এই বক্তব্যের পেছনে একাধিক সমীকরণ তুলে আনছেন। তবে বিজেপির সহযোগী দল থেকে নীতীশ কুমার যেভাবে হিজাব বিতর্ককে হালকা করে দিলেন, তা নিয়ে কিন্তু ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে গুঞ্জন।
পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হল না কর্নাটকের দুই শিক্ষার্থীকে কর্নাটকে হিজাব বিতর্ক ক্রমশঃ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সোমবার এ রাজ্যের কিছু স্কুলে হিজার পরিহিতা ছাত্রীদের স্কুলে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবারও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি অব্যাহত ছিল। অভিভাবকদের অভিযোগ, এক স্কুল ছাত্রীর অভিভাবক জানিয়েছেন যে, তাদের মেয়েকে স্কুলের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক পরে আসার অনুমতি নেই। রাজ্যের এ নির্দেশ অমান্য করলে পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উদুপির সরকারি স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর পড়ুয়ার অভিভাবক বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা (হিজাব) এখানে আগে ছিল না। আমাদের সন্তানদের আলাদা ঘরে বসানো হচ্ছে। সোমবার শিক্ষিকারা শিশুদের ওপর চিৎকার করেন, তারা (স্কুল) আগে কখনও এ ধরনের আচরণ করেননি’। ওই অভিভাবক এও বলেছেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হিজাব পরে যারা রয়েছে তারা বাইরে বসে থাক, যারা হিজাব ছাড়া রয়েছে তারা ক্লাসে আসুক।’ ওই অভিভাবক প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের সন্তানরা হিজাব পরতে চায় এবং তারা শিক্ষাও চায়। হিন্দু শিক্ষার্থীরা সিঁদুর পরে, খ্রিষ্টানরা জপমালা, তাহলে আমাদের সন্তানেরা হিজাব পরলে তাতে দোষের কোথায়’?
একই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রীর এক অভিভাবক এ প্রসঙ্গে জানান যে, গত তিনবছর ধরে তার সন্তান হিজাব পরে স্কুলে আসছে, আর সেই সময় কেউ কোনওদিন অভিযোগ করেনি। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে ক্লাসে হিজাব পরে গিয়েছিল। তাকে হিজাব খুলে রেখে স্কুলের দৈনিক প্রার্থনায় অংশ নিতে বলা হয়। পুলিশ যখন তাকে হুমকি দেয় তখন সে বাধ্য হয় হিজাব খুলতে’। স্কুল কর্তৃপক্ষের থেকে হুমকির মতো আচরণ পাওয়ার অভিযোগ করেন ষষ্ঠ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবকও। ওই অভিভাবক জানিয়েছেন, স্কুলের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয় যদি নিয়ম অমান্য করা হয় তবে ছাত্রীদের পুলিশে পাঠানো হবে, তাই তারা স্কার্ফ খুলে স্কুলে ঢোকে।
পরীক্ষা দিতে না পারা এক শিক্ষার্থী হিনা বলেন, ‘আমি হিজাব খুলিনি। আমি এর আগে হিজাব পরেই স্কুলে গিয়েছি। স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের বলেছিল, নয় হিজাব খুলে ফেল আর নয়ত এই জায়গা ছেড়ে চলে যাও। হিজাব পরে আমাদের পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি’। সাবরিন নামে আর এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি পরীক্ষা দিতে পারিনি কারণ আমাকে হিজাব খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল’। অন্যান্য অভিভাবকরা জানিয়েছেন, কর্নাটক হাইকোর্ট, যে ছয়জন শিক্ষার্থীর হিজাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে পিটিশনের শুনানি চলছে, এ বিষয়ে নিয়ম করার পরই তারা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন। হিজাব বিতর্কে উত্তপ্ত রাজ্য হিজাব নিষিদ্ধ করা নিয়ে রাজ্যের কোডাগু জেলার কিছু স্কুল শিক্ষার্থীরা মঞ্চ করে প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। প্রসঙ্গত, কর্নাটকের স্কুলগুলো এক সপ্তাহের জন্য এ হিজাব কাণ্ডের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। সোমবার থেকে স্কুল পুনরায় খোলা হলেও কিছু ছাত্রীকে হিজাব খুলে স্কুলে ঢোকার দৃশ্য সামনে আসতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জনবহুল রাস্তার মাঝেই শিক্ষিকারা ছাত্রীদের হিজাব খুলতে বাধ্য করছে। ক্লাসরুমে হিজাব পরা নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে সোমবার শিক্ষার্থীরা যুক্তি দিয়েছিল যে তাদের এটি করতে নিষেধ করার মতো কোনো আইন নেই। তাদের পক্ষ থেকে শীর্ষ আইনজীবী দেবদত্ত কামাত জানিয়েছিলেন যে, হিজাব পরার অধিকার সংবিধান দ্বারা প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধীনে সুরক্ষিত। সূত্র : ডন, এবিপি, এশিয়ানেট নিউজ।
ভারতের কন্ঠশিল্পী ও সংগীত পরিচালক বাপ্পী লাহিড়ী আর নেই। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। খবরে বলা হয়, গত বছরের এপ্রিল মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে কিছুদিন পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। এদিকে, হিন্দি সিনেমায় ১৯৭০ থেকে ৮০ দশকে অন্যতম জনপ্রিয় নাম বাপ্পি লাহিড়ী। ডিস্কো ডান্সার, চলতে চলতে, শারাবী, বাংলায় অমর সঙ্গী, আশা ও ভালোবাসা, আমার তুমি, অমর প্রেম প্রভৃতি ছবিতে সুর দিয়েছেন। গেয়েছেন একাধিক গান।
ওমানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আপন দুইভাই নিহত হয়েছেন এবং আরো দুইজন আহত। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত দুই ভাইয়ের নাম জারা ও অপরজনের নাম আদিব। দুইজনের মধ্যে একজনের বয়স ১৪ বছর এবং অপর জনের বয়স ১২ বছর। তাদের মা ওমানে বাংলাদেশী চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন এবং বাবা দেশে থাকেন। গতকাল ওমানের সেনাও নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের বাবার নাম তুহিন। গ্রামের বাড়ি রাজশাহী জেলায়। নিজের দুই সন্তানের মরদেহ শেষ বারের মতো দেখতে আজ ওমানে যাচ্ছেন তুহিন।
স্থানিয় সূত্রে জানাগেছে, সোমবার (১৪-ফেব্রুয়ারি) রাতে তাদের মা ঘুমিয়ে গেলে দুইভাই গাড়ির চাবি নিয়ে রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে ঘুরতে বের হয়। তাদের সাথে আরো দুইজন বন্ধুও যায়। যারা সবাই বাংলাদেশী ছিলো। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত হয়। বাকিদের গুরতর অবস্থায় স্থানীয় একটি হাঁসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের মধ্যে একজনের বাবার নাম শেখ জসিম। জিনি ওমানের প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী ব্যবসায়ী শেখ সেলিমের ছোট ভাই। মর্মান্তিক এমন দুর্ঘটনায় নিজের দুই সন্তানকে হারিয়ে শোঁকে স্তব্দ গোটা পরিবার। একইসাথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা ওমানের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে শোঁকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্তমানে নিহতদের মরদেহ স্থানীয় একটি মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানাগেছে।