নির্বাচন কমিশন থেকে চিকিৎসাভাতা নেওয়ার কথা স্বীকার করে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদাও তো চিকিৎসাভাতা নিয়েছেন। আসলে তিনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য আমার অসুখের বিষয় আর চিকিৎসাভাতার কথা তুলে ধরার নিকৃষ্ট পথ বেছে নিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
‘নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের চিকিৎসার ব্যয় বছরে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা’- প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা নির্বাচন ভবনে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের এ কথা বলার এক দিন পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মাহবুব তালুকদার।
তিনি বলেন, নির্বাচন বিষয়ে আমার ভিন্নধর্মী অবস্থানের কারণে সিইসি তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য চিকিৎসার বিষয় উল্লেখ করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। তিনি অবশ্য খরচের প্রকৃত হিসেব প্রদান করেননি। তিনি আমাকে রোগাক্রান্ত ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে বিশদভাবে অবহিত করা প্রয়োজন বলে মনে করি।
তিনি আরো বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমি নির্বাচন কমিশনার হওয়ার সময় থেকেই প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত। ক্যানসার ধীরে ধীরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। আমি সিঙ্গাপুর ও ভারতের চেন্নাইয়ে এর চিকিৎসা করিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাসপাতালের চারজন চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড দুই দফা শারীরিক পরীক্ষা করে সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমোদন দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনারদের চিকিৎসাবিধি অনুযায়ী আমার চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে। তবে গত দুই বছরে আমি চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে বিদেশে যাইনি। বরং এই দুই বছরে চিকিৎসার জন্য সম্পূর্ণ নিজের খরচে আমি আমেরিকা গিয়েছি। বর্তমানে কর্মরত নির্বাচন কমিশনারগণ এবং অবসরপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ সকলেই প্রাপ্যতা ও বিধি অনুযায়ী কমিশন থেকে চিকিৎসার খরচ নিয়ে থাকেন। কে এম নূরুল হুদা নিজেও নির্বাচন কমিশন থেকে চিকিৎসার জন্য টাকা নিয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অসুখের যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া আমার মৌলিক অধিকার। চিকিৎসার কারণেই আমি এখন পর্যন্ত বেঁচে আছি। নির্বাচন বিষয়ে আমার ভিন্নধর্মী অবস্থানের কারণেই সিইসি তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য চিকিৎসার বিষয় উল্লেখ করে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের নিকৃষ্ট পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলছে। দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় দেশে ২৮ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু হলো।
এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৪৪০ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭১ জনে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত একদিনে দেশে মোট ৪৬ হাজার ২৬৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৩৭ শতাংশে।
গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩২৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৬২ হাজার ৩৬৯ জন।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
নিজের জন্মভূমিকে এভাবে তালিবানের পদতলে পড়ে থাকতে দেখে হতাশা আর লুকোতে চাননি তিনি।
বর্তমানে আর আফগানিস্তানে (Afghanistan) থাকেন না তিনি। বসবাস করেন ব্রিটেনে (UK)। কিন্তু তালিবান (Taliban)জমানার প্রথম পর্যায়ে শিশু হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছিলেন জেহাদি শাসনের ভয়ানক ছবিটা। তাই বিদেশ বিভুঁইয়ে বসে শিউরে উঠছেন এই মুহূর্তে তাঁর স্বদেশ কী অবস্থায় রয়েছে তা ভেবে। তিনি, ইয়াসমিনা আলি একজন বিখ্যাত পর্ন (Adult movie) তারকা। আফগানিস্তানের সবচেয়ে খ্যাতিমান, অনেকেরই মতে একমাত্র পর্ন তারকা তিনি।
নয়া আফগান যুগে সেই ইয়াসমিনাকেই ক্ষোভ উগরে দিতে দেখা গেল তালিবানরাজের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, তালিবান মুখে যাই বলুক, তারাও পর্ন দেখে। সম্প্রতি ‘আই হেট পর্ন’ নামের এক পডকাস্টে এবিষয়ে কথা বলেন তিনি। সঞ্চালক টমি ম্যাকডোনাল্ডকে তিনি বলেন, ”ওরা আমার কনটেন্টগুলিকে ঘৃণা করে, কারণ ওরা চায় না পর্নের সঙ্গে আফগানিস্তানের নাম জড়িয়ে যাক। হ্যাঁ, আমি আফগান। তাতে কী? হয়তো তালিবানও আমাকে দেখে। আমি নিশ্চিত ওরা আমার কথা আগেই শুনেছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। একবার ‘আফগান পর্ন’ লিখে সার্চ করুন। আপনারা আমাকেই খুঁজে পাবেন। কেবল ওই দু’টি শব্দ লিখলে আমার নামই আসবে।”
তাঁর ‘শরীরের’ অধিকার যে কেবল তাঁরই, সেকথাও জোরের সঙ্গে বলতে শোনা গিয়েছে ইয়াসমিনাকে। তাঁর কথায়, ”ওরা ভাবে, আমার কত সাহস আমি নিজের শরীর দেখাই! আসলে ওরা মনে করে আমার শরীরটাও ওদের দখলে। এবং আমি আমার শরীর নিয়ে কী করব সেটাও ওরাই ঠিক করবে। আমার কোনও অধিকারই নেই তাতে। আর সেটা যদি ফলাতে যাই, তাহলে আমি আর আফগান থাকব না।”
গত শতাব্দীর নয়ের দশকে যখন প্রথমবার আফগানিস্তানের দখল নিয়েছিল তালিবানরা, তখন ইয়াসমিনার বয়স খুবই অল্প। সেই বয়সেই তিনি দেখতে পেয়েছিলেন কীভাবে মেয়েদের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে তালিবানরা। নতুন করে সেই দেশের দখল জেহাদিদের হাতে যাওয়ার পরেও একই ছবি দেখছেন তিনি। আর তা দেখেই মনখারাপ একমাত্র আফগান পর্ন তারকার। নিজের জন্মভূমিকে এভাবে তালিবানের পদতলে পড়ে থাকতে দেখে হতাশা আর লুকোতে চাননি তিনি।
কুয়েতের ভিসা বাণিজ্য যেকোনো মূল্যে র্নিমূল করতে হবে কারণ এটি কুয়েতের কপালে কলঙ্ক স্বরুপ। এটি জাতির প্রতিপত্তিকে কলুষিত করেছে যা মানব পাচারে সভ্য দেশগুলির মধ্যে অগ্রহণযোগ্য…❤
যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে যে কীভাবে এই কুৎসিত ভিসা বাণিজ্য র্নিমূল করবো! তখন আমরা বলি এটি খুব সহজ শুধু চারপাশে দেখুন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অণ্যান্য দেশগুলি ভিসা বাণিজ্যে নিয়ে কী করেছে বা তাদের প্রক্রিয়াগুলো দেখুন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে যদি কেউ কাজ করতে চান তাহলে তাকে সর্বপ্রথম ই-ভিসার জন্য ভিসার জন্য আবেদন করতে হয় যখন কাজের সন্ধান পান বা কর্মী নিয়োগে আগ্রহী হয় দেশটি তখন আবেদনকারী সেই দেশটিতে যাওয়ার অনুমতি পান। আবেদন কারার পর যদি চাকরি খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় বা যেদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছে সেদেশে কর্মীর প্রয়োজন না হয় তবে তিনি ফিরে আসেন (রিজেক্ট হন)।
তবে কুয়েতে ভিসা বাণিজ্যের ফলে একজন দরিদ্র মানুষকে তার ভেড়া, গরু, অন্যান্য জিনিসপত্র সহ এমনকি তার বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য করে কুয়েতে ভিসা পেতে। কারন কুয়েতে কাজের প্রলোভন আকাশে চুম্বী। ভিসা ব্যবসায়ীরা কুয়েতের এমন একটি ছবি এঁকেছে যে- “কুয়েত তেলের কূপে পূর্ণ একটি দেশ এবং প্রতিটি প্রবাসী এক-একটির মালিক।” 🤣
অর্থাত : আগে কাজের সন্ধান করতে হবে যদি কাজ / চাকরি মিলে কেবল তখনই ভিসা প্রদান করা হবে। কুয়েতে আসতে চাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই মূহুর্তে যারা সফরে যাচ্ছেন দয়া করে আপনাদের #সিম কার্ড কুয়েতে কারো কাছে রেখে যাবেন।
কারন – এই সিমের নাম্বার দিয়ে আপনার – মোবাইল আইডি, Moi আইডি, ইমিউন এ্যপ্স, স্লোনিক, মেটা প্লাটফর্ম, সাহেল এপ্স চালু থাকে।
অনেকেই বাংলাদেশে সফরে যাওয়ার পর মোবাইল পরিবর্তন করেন বা মোবাইল চুরি হয়ে যায় নাহয় নষ্ট হয়ে যায় ফলে অন্য মোবাইলে উপরক্ত এ্যপ্স গুলো চালু করতে পারেন না 𝐎𝐓𝐏 কোডের জন্য। কারন সিম আপনার সাথে বাংলাদেশে নিয়ে গেলে ওটিপি কোনো কখনো পাবেননা ফলে এ্যপ্স গুলো ও চালু করতে অক্ষম। তখন পুনরায় কুয়েতে ফেরৎ আসার আগে পরতে হয় বিপাকে। বিশেষ করে – #ইমিউন এ্যপ্স এবং #মোবাইল আইডির ক্ষেত্রে এই সমস্যা গুলো বেশি হয়।
মনে রাখবেন বর্তমান সময়ে – কুয়েত প্রবেশের জন্য অন্যতম এবং গুরুত্বপূর্ণ এ্যপ্স হচ্ছে (𝐈𝐦𝐦𝐮𝐧𝐞) #ইমিউন।
প্রতিদিনই দুই একজনের এই ধরনের সমস্যার মেসেজ পাই। আসলে এখন আমাদের কিছু করার থাকেনা। কারন ইমিউনির নাম্বার চেঞ্জ করতে হলে মিশরেফের আইটি ডেস্কে বর্তমানে কফিল/মন্দুব লাগে।
মোবাইল আইডিতেও সেই সমস্যা প্রথমে এক নাম্বার দিয়ে খুলে ফেললে পরে অন্য নাম্বার দিয়ে ইন্ট্রি করা যায় না। এমতা অবস্থায় যদি কারো মোবাইল আইডি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে বিপদ।
দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৮০৭ জন। শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন আরও ১৫ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৫৮০৭ জনকে নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩১ জনে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন মৃত্যু ১৫ জন নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ হাজার ২৮৮ জন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গতকাল (২৬ জানুয়ারি) শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৫২৭ জন। মারা গেছেন ১৭ জন। আগের দিন সাড়ে ৪৯ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ হাজার ৩৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল, যা মহামারির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ; সেই সঙ্গে ১৮ জনের মৃত্যুর খবর এসেছিল।
বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১০৩৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৬১ হাজার ৪৩ জন।
এতে আরও বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৪৯ হাজার ৫৭৯টি। নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৪৯ হাজার ৪২৫টি। পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা করে মনোরম পরিবেশে স্থাপত্য শৈলী এবং নান্দনিকতার জন্য যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইন্সটিটিউট অব ব্রিটিশ আর্কিটেক্টস (রিবা) পুরস্কার জিতে নিয়েছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল।
বুধবার ২৬ জানুয়ারি, শ্যামনগর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালকে ২০২১ সালের রিবা অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক এ স্থাপত্য সংস্থাটি। ২০২১ সালেও রিবা অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিল ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল।
বিশ্বের ১১টি দেশের ১৬টি ব্যতিক্রমী নতুন স্থাপনা থেকে বাছাই করে তিনটি স্থাপনার সংক্ষিপ্ত তালিকা চূড়ান্ত করে রিবা আন্তর্জাতিক পুরস্কারের পাঁচ সদস্যের জুরি বোর্ড। এর মধ্য থেকে সেরার খেতাব ছিনিয়ে নেয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল।
দৃষ্টিনন্দন এই হাসপাতালটির নকশা করেছেন বিশিষ্ট স্থপতি কাশেফ চৌধুরী। তার প্রতিষ্ঠান আরবানা’র অধীনে তৈরি নকশা অনুসারে নির্মিত হয়েছে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। কাশেফ মাহবুব চৌধুরী ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেন, এই এলাকার সর্বত্রই পানি। কিন্তু সেগুলো সব সময় ব্যবহার উপযোগী নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ক্রমাগত বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে ওই এলাকার ফসলি জমিতে পানি জমে রূপান্তরিত হয়েছে চিংড়ির ঘেরে। আর ভূপৃষ্ঠ পানীয় এত লবণাক্ত হয়ে উঠেছে যে পান করাসহ বেশিরভাগ কাজেই সেটি ব্যবহার করা যায় না। তাই বর্ষাকালে বিশুদ্ধ পানির প্রতিটি ফোঁটাও সংরক্ষণের চেষ্টা করেন স্থানীয়রা।
সেখানকার ভৌগলিক ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বিষয় মাথায় রেখে কাশেফ মাহবুব চৌধুরী এমন একটি ভবনের নকশা করেছেন যেটি বৃষ্টির পানি ধরে রাখার মেশিনে পরিণত হবে। হাসপাতালের প্রতিটি ভবনের ছাদ থেকে এবং চারপাশের আঙিনার সঙ্গে নালার মাধ্যমে খালের সংযোগ করেছেন। বৃষ্টির সময় ছাদ থেকে পড়া পানি সেখানে জমা হতে থাকবে।
পুরস্কার জেতার প্রতিক্রিয়ায় কাশেফ মাহবুব চৌধুরী বলেন, মানবতা ও প্রকৃতির বিষয়টি মাথায় রেখে কোনো স্থাপনার নকশার ক্ষেত্রে এটা আমাদের অনেককে অনুপ্রাণিত করবে এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
এদিকে, উপকূলীয় দূর্যোগ প্রকৃতির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবায় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে শ্যামনগর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল। উপজেলা সদরের কাছে সোয়ালিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে সরকারি মেডিকেল কলেজের সমান স্বাস্থ্যসেবা।
এই হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। আর নির্মাণকাজ শেষে হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু ২০১৮ সালের ২২ জুলাই।
শ্যামনগর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল রিবা অ্যাওয়ার্ড জেতায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক রুনা খান।
তিনি বলেন, “সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবিত লবনাক্ত এলাকায় অবস্থিত এ হাসপাতাল নির্মাণ করেছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’। ২০ বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনে প্রভাবিত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আমরা কাজ করে দেখেছি। এতে আমার বিশ্বাস হয়েছে যে, নিজেদের ছোট ছোট সমস্যা সমাধানেও দরিদ্র মানুষকে বেগ পেতে হয়।
তিনি আরও বলেন, কাশেফ চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। তিনি স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করে দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। গুনগত মান নিশ্চিত করেছেন এবং ফ্রেন্ডশিপের মান-সম্মানকে আরও বাড়িয়েছেন। পর্যাপ্ত আলো, বাতাস, মাটি, পানির সমন্বিত পরিবেশে শ্যামনগরের ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের সৌন্দর্য হয়ে উঠেছে আরও জীবন্ত। জলবায়ু প্রভাবিত কিছু মানুষের জন্য এই ধরণিতে নতুন করে এবং ভালভাবে বাঁচার আশা নিয়ে এসেছে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল।
৬ জন চিকিৎসক, ১২জন নার্স এবং অন্যান্য সহকারীর সমন্বয়ে ৮০ শয্যার হাসপাতালটিতে রয়েছে ৪টি ওয়ার্ড। ৩টি অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে বেশিরভাগ অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে এখানে। প্রত্যন্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ এবং অ্যাম্বুলেন্স সুবিধায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।