জাজিরা এয়ারওয়েজ বাংলাদেশের, চট্টগ্রামে ফ্লাইট চালু করেছে সপ্তাহে ৩ দিন….

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জাজিরা এয়ারওয়েজ ২৩ শে জানুয়ারী (আজ) থেকে কুয়েত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি নতুন পরিষেবা চালু করেছে। সাপ্তাহিক তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে #চট্টগ্রামের শাহ্ আমানাত বিমানবন্দরে।

কুয়েতে বসবাসকারী ২ লাখ এরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসীকে সেবা দিচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জুড়ে আরও অনেক দেশের সাথে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

নোটঃ নিজ দায়িত্বে টিকেটের জন্য যোগাযোগ করবেন বা টিকেট কাটবেন। বিস্তারিত ট্রার্ভেলস বা জাজিরা এয়ারওয়েজ থেকে জেনে নিবেন।

ধন্যবাদ। 😍

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোটা বাতিল করল সরকার

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

বিদেশি কর্মী নিয়োগে আর থাকবে না স্পেশাল কোটা ব্যবস্থা। ২২ জানুয়ারি শনিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি হামজাহ জয়নুদ্দিন বিদেশি কর্মী নিয়োগে কোটা বাতিলের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে আসা প্রত্যেকটি আবেদন এখন থেকে মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে নির্ধারিত শর্ত পূরণসাপেক্ষে যোগ্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

হামজাহ বলেন, লোকজন যাই বলুক না কেন, কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে চাইলে তাকে আইন অনুযায়ী কমিটির অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ দিতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে দেশটির বৃক্ষরোপণ খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়োগকর্তাকে বিদেশি কর্মী কোটা এবং কতজন এই খাতের কাজের জন্য প্রয়োজন তা জানতে হবে। ধরা যাক, কোনো বাগানে কাজের জন্য ১০০০ কর্মীর প্রয়োজন, কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা মাত্র ৪০০ জন শ্রমিক নিয়োগ দিতে পারবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো নিয়োগকর্তা অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ দিতে চান, তাহলে দ্বিতীয় দফায় মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন অথবা পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করতে হবে। শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়া আগের চেয়ে কঠোর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করতে হতো নিয়োগ কর্তাদের। তবে এখন বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের অভিন্ন নীতি এবং পদ্ধতি নিশ্চিত করার জন্য দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে।

প্রবাসী সেলিম ভূঁইয়ার মৃতদেহ পড়ে আছে লাশঘরে

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

প্রবাসে বাংলাদেশিদের মৃত্যু অনেকটাই নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। ভাগ্য বদলাতে দূর দেশে যান প্রবাসীরা; কিন্তু সবার ভাগ্য কি বদলায়! অনেকে যান স্বপ্ন পরিবর্তনের আশায় শার্ট-প্যান্ট পরে কিন্তু ফিরে আসেন কফিনবন্দি হয়ে নিথর দেহ নিয়ে। 

প্রবাসে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর বড় একটি কারণ হতাশায় কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অন্য আরেকটি বড় কারণ হৃদরোগ বা হার্টঅ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মহামারি করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এ রোগে মারা গেছেন।

মালদ্বীপ প্রবাসী মো. সেলিম ভূঁইয়া গত ১৮ জানুয়ারি কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ করেই অসুস্থ হলে বাসায় ফিরে যান কিন্তু বাসায় তার অবস্থার আরও অবনতি হলে রুমে থাকা সহকর্মীদের সহযোগিতায় হুলেমালে থ্রি-টপ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক প্রথমিক চেকআপ শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বিগত পাঁচ বছরে ধরে অনিয়মিত ডকুমেন্টারি হয়ে দ্বীপরাষ্ট্রের হুলেমালে সিটিতে একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন।


মৃত সেলিম ভূঁইয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলার সেকেরহাট গ্ৰামের মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়ার ২য় সন্তান। মৃত সেলিম ভূঁইয়ার স্ত্রী এবং দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

তার পারিবারিক অবস্থা তেমন সচ্ছল না থাকার কারণে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনার এবং প্রবাসীদের সহযোগিতায় লাশ দেশে পাঠানোর সার্বিক প্রচেষ্টা চলছে। বর্তমানে তার মৃতদেহ মালদ্বীপের মালে সিটির (IGMH) হাসপাতাল মর্গে আছে। 

পরিবারের সদস্যরা মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের সহযোগিতায়, বাংলাদেশ প্রবাস কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির লাশ দেশে পাঠানোসহ তার পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা কামনা করেন।

দুবাই এক্সপোতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ পবিত্র কুরআন শরীফ

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক্সপোতে প্রদর্শন করা হবে স্বর্ণে লেখা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পবিত্র কুরআন শরীফ। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) এক্সপোর পাকিস্তানি প্যাভিলিয়নে দুবাইয়ে বসবাসরত পাকিস্তানি শিল্পী ও পাণ্ডুলিপির অন্যতম প্রস্তুতকারী শাহিদ রাসসাম এটি প্রদর্শন করবেন।

এক্সপোতে পাণ্ডুলিপির সুরা আর রহমানের অংশ প্রদর্শন করা হবে। পাণ্ডুলিপিটি দৈর্ঘ্যে ৮ দশমিক ৫ ফুট ও প্রস্থে ৬ দশমিক ৫ ফুট। ১৪শ বছরের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম অ্যালুমিনিয়াম ও স্বর্ণের ব্যবহারে এত বড় করে কুরআন লিখলেন।

শাহিদ রাসসাম এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কুরআনের এ প্রদর্শনী শুধু বিশ্বের বড় আয়োজনই নয়। বরং এটি একটি অনন্য প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে, কেননা কালির বদলে স্বর্ণ দিয়ে এটি লেখা হয়েছে।

তিনি জানান, ১ হাজার ৫৮৫টি অক্ষর, ৩৫২ শব্দ, ৭৮ আয়াত এবং তিন রুকু বিশিষ্ট সুরা আর রহমানকে ক্যানভাসের ওপর স্বর্ণ ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে লেখা হয়েছে। শুধু সুরা আর রহমানেই ১৫ কেজি অ্যালুমিনিয়াম ও এক কেজি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ কুরআন লেখায় শিল্পী, চিত্রকর, ক্যালিওগ্রাফার ও ডিজাইনার মিলিয়ে মোট ২০০ জন চার মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।

আবুধাবি থেকে দুবাই মাত্র ৫০ মিনিটে!

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইতিহাদ রেলের মাধ্যমে যাত্রীরা ৫০ মিনিটে আবুধাবি থেকে দুবাই আসতে পারবেন। এটি এরোডাইনামিক ডিজাইন যা হাইস্পিড ট্রেনের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। ট্রেনটি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বল্প দূরত্বের ট্রেনের বেশিরভাগ বিশ্বমানের সুবিধা ইতিহাদ রেলের প্রকাশিত প্রথম চিত্রগুলোতে দেখা যায়। ট্রেনটি দেশের  ১১টি শহরকে সংযুক্ত করবে।
যাত্রীরা আবুধাবি থেকে দুবাই ৫০ মিনিটে এবং রাজধানী থেকে ফুজাইরা ১০০ মিনিটে ভ্রমণ করতে পারবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে যাত্রীর সংখ্যা বার্ষিক ৩৬.৫ মিলিয়নেরও বেশি পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্রেনের জানালা দিয়ে শহরের আকাশরেখা দেখা যায়, যা নির্দেশ করে যে ট্র্যাকগুলো প্রধান মহাসড়কের সমান্তরালে চলছে।

জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেশন চায় মালয়েশিয়া, বাংলাদেশের ‘না’

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

জনশক্তি রপ্তানিতে মালয়েশিয়া সিন্ডিকেশন চাইলেও চায় না বাংলাদেশ। এই বাজারটি নিয়ে কাটছে না সংশয়! বরং রাঘববোয়ালদের থাবায় উন্মুক্ত বাজারটি বন্ধের উপক্রম।

মালয়েশিয়া সরকার কম অভিবাসন খরচসহ উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে (এমওইউ) বাইপাস করে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে ‘সিন্ডিকেশন’ চায়।

মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানান ১৪ জানুয়ারি এক চিঠিতে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদকে ২৫টি বাংলাদেশ রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির (বিআরএ) মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াা শুরু করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার জন্য পুনর্ব্যক্ত করা একটি চিঠি, ১৪ জানুয়ারি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ সারাভানানের চিঠির জবাব দিয়েছেন।

চিঠিতে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি আবারো বলতে চাই যে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রাসঙ্গিক সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সর্বদা স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং নিরাপদ অভিবাসনের পক্ষে, আমাদের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ সমস্ত বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সুযোগ উন্মুক্ত রেখে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, তারা মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা এবং যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা উন্মুক্ত বজায় রাখার জন্য সারাভানানের চিঠির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি। সমঝোতা স্মারকের পরিশিষ্ট খ-এর সি (ভি) এবং সি (ভিআই) এর বিধানে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার কথা বলা হয়েছে।

বিধান অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ সরকার থেকে প্রদত্ত তালিকা থেকে অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিআরএ নির্বাচন করবে এবং মালয়েশিয়া সরকার কোটা নির্বাচন ও বণ্টনে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে।

এ বিষয়ে জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলেছেন, এমনটি হলে দুই দেশের ভাবমূর্তি সংকট দেখা দেবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বার বার সতর্কতা সত্ত্বেও কিছু কর্মকর্তা ও কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে।

রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকরা ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্টদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন। বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্ট বলেছেন, নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ইন্দোনেশিয়া অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যারা তাদের রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠায়।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর জন্য ইন্দোনেশিয়ার ১,০০০টিরও বেশি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নেপালের ৮৮৪টি রয়েছে। উভয় দেশের জন্য নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর কোনো অগ্রাধিকার তালিকা নেই। বাংলাদেশে একটি ছোট গ্রুপের রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার পীড়াপীড়ি রহস্যজনক, যা শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রভাবশালী চতুর্থাংশকে লাভবান করার জন্য পুরো প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।

অল্প সংখ্যক ফার্মের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো অভিবাসন খরচ কম রাখার সরকারি প্রচেষ্টা ও উদ্দেশ্যকে হেয় করবে। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ১০টি রিক্রুটিং ফার্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা ছিল বিপর্যয়। সিন্ডিকেশনের যেকোনো পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশ সরকার এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই হবে দ্বিগুণ আঘাত।

যেহেতু বাংলাদেশের প্রায় ২,০০০ বৈধ জনশক্তি রপ্তানিকারক রয়েছে, তাদের মধ্যে মাত্র ২৫ জনকে ব্যবসার জন্য অনুমতি দেওয়া শুধুমাত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং অভিবাসন-সম্পর্কিত খরচ বাড়াবে।

জনশক্তি বিশেষজ্ঞ এবং অধিকার কর্মীরাও সিন্ডিকেশনের বিরুদ্ধে যখন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) সরকারকে কোনো সিন্ডিকেশনের অনুমতি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় থাকা সরকার সিন্ডিকেট ভাঙতে ব্যর্থ হলে বাজার আবারও হারিয়ে যেতে পারে। তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক বাজার অনুপস্থিত হলে অভিবাসন ব্যয় বাড়বে।

বায়রার সাবেক সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, বায়রার সদস্যদের কর্মী পাঠানোর সুযোগ থাকতে হবে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শ্রমবাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে। উন্মুক্ত বাজারে কোনো সিন্ডিকেট গঠন করা উচিত নয়।

মিশরে বাংলাদেশি কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

মিশরের বন্দর নগরী আলেক্সজান্দ্রিয়ার ফ্রি জোন এলাকায় দুটি পোশাক শিল্প কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবস্থাপক।

সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশি মালিকানাধীন পোশাক শিল্প কারখানা ত্রিস্টার ও এলেক্স অ্যাপারেল পরিদর্শন করেন।

এসময় কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মুহাম্মদ ইসমাঈল হোসাইনকে দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে বলেন।

সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন এলেক্স অ্যাপারেলসে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে কারখানাতেই কথা বলেন ও তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।

প্রবাসী কর্মীরা তাদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ কার্ডের সফট কপির পরিবর্তে হার্ড কপি অর্থাৎ স্মার্ট কার্ড সরবরাহ ও মিশর থেকে বাংলাদেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, নতুন করে যারা সদস্যপদ অন্তর্ভুক্তি হবেন তাদের মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করতে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মুহাম্মদ ইসমাঈল হোসাইনকে দিকনির্দেশনা দেন।

প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশে তাদের পরিবারের কাছে বৈধপথে পাঠানোর জন্য রাষ্ট্রদূতের পরামর্শক্রমে মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়।

প্রতিনিধি দলটি কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন এবং দেশটিতে শ্রমবাজারের সম্ভাবনা বিষয়ে দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মিশরে বাংলাদেশি শ্রম বাজারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ও সচিবকে অবহিত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধিরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রথম সচিব (শ্রম) মুহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন, তৃতীয় সচিব আতাউল হক ও দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, উপ-সচিব সুষমা সুলতানা, উপ-সচিব সন্দীপ কুমার সরকার ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর এপিএস রাশেদুজ্জামান।

ইতালিতে সিজনাল ও স্পন্সর ভিসা: বাংলাদেশিদের যা জানা প্রয়োজন

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সম্প্রতি ইতালিতে কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে সিজনাল ও স্পন্সর ভিসার ডিক্রি ও গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা ধরনের চটকদার বিজ্ঞাপন।

বাংলাদেশসহ আরও বেশ কিছু দেশ থেকে ৬৯ হাজার ৭০০ জন অভিবাসী কর্মী আনার অনুমতি দিয়ে ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর একটি ডিক্রি জারি করে ইতালির শ্রম ও সামাজিক পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যেখানে কোন খাতে কতজন এবং কোন কোন দেশ থেকে আসতে পারবেন সেটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

জারিকৃত ডিক্রিটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ১৭ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী নন সিজনাল ওয়ার্কার, স্টার্ট আপ বা উদ্যোক্তা ভিসায় ইতালিতে আসতে আগ্রহীরা ২৭ জানুয়ারি থেকে সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে পারবেন।

অপরদিকে সিজনাল বা মৌসুমি ভিসার আবেদন করা যাবে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ থেকে। উভয় ক্ষেত্রে আবেদনের সময়সীমা থাকবে ১৭ মার্চ, ২০২২ পর্যন্ত। এই কাজের ভিসাগুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, বসনিয়া ও হ্যারৎসেগোভিনা, উত্তর কোরিয়া, আইভরি কোস্ট এবং মিশর থেকে আসা অভিবাসী কর্মীদের দেওয়া হবে।

ইতালির শ্রম ও সামাজিক পরিকল্পনা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভিসার মধ্যে ১৪ হাজার কোটা কৃষিখাতের মৌসুমি বা সিজনাল ভিসার জন্য নির্ধারিত থাকবে। এছাড়া ২৬ হাজার কোটা স্পন্সর ও উদ্যোক্তা ভিসার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে যার মধ্যে ২০ হাজার কোটা নির্মাণখাত, সড়ক ও যোগাযোগ এবং হোটেল রেস্তোরাঁর জন্য বরাদ্দ থাকবে।

ইতালি বা যেকোন দেশে কর্মী নিয়োগের কোনো সার্কুলার দেওয়া হলে বাংলাদেশ থেকে আগ্রহী বেশিরভাগ আবেদনকারী সাধারণত বেসরকারি এজেন্সিগুলোতে ভিড় করেন। কিন্তু এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য দেশগুলোর মতো ইতালিতে চাইলেই কোনো এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা যায় না।

কৃষি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, নির্মাণ খাতসহ সার্কুলারে তালিকাভুক্ত খাতগুলোতে মৌসুমি ও স্পন্সর উভয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন একমাত্র নিয়োগকর্তা। অর্থাৎ, ইতালিতে কৃষি বা অন্যান্য খাতে ব্যবসা করছেন এমন কোনো মালিক যদি তার প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মীর প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে তিনি আবেদনকারীর বিস্তারিত তথ্য ও যাবতীয় সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে সরকারের নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করবেন।

সরকার যাচাই বাছাই করে আবেদন মঞ্জুর করলে পরবর্তীতে নিয়োগকর্তা ভিসাসহ অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য আবেদনকারীকে অবহিত করবেন।

অবৈধ এজেন্সি ও অবাস্তব বেতন নিয়ে সতর্কতা

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আবেদনকারীরা ইতালির বেতন কাঠামো এবং যাবতীয় তথ্য যাচাই না করেই অনেক সময় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মতো বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যান।

পরবর্তীতে দেখা যায় একজন ব্যক্তি যে পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ইতালিতে এসেছেন সেটি তার পুরো বছরের বেতনের সমান বা তার থেকেও কম। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আছেন যারা তাদের ব্যবসায় প্রয়োজনীয় কর্মী না লাগার পরেও শুধু মৌসুমি মুনাফা লাভের আশায় বিপুল অর্থের বিনিময়ে লোকজনকে ভিসার প্রস্তাব দিয়ে থাকেন।

যেখানে একটি মৌসুমি ভিসার মেয়াদ থাকে মাত্র ছয় মাস সেখানে চুক্তিতে থাকা কর্মঘণ্টার দ্বিগুণ কাজ করার পরেও একজন ব্যক্তির পক্ষে এত বিশাল অংকের টাকা আয় করা সম্ভব হয়ে উঠে না। এছাড়া অনেক অভিবাসীকে মৌসুমি ভিসার মেয়াদের পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বলা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে তারা বিপদে পড়েন। বসবাসের অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিক কারণ না থাকায় পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে তাদের আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এরই মধ্য়ে গ্রিস ও জার্মানি থেকে এমন অনিয়মিত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো শুরু হয়েছে।

ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা

কোনো আবেদনকারী যদি যথাযথ নিয়োগকর্তা যোগাড় করতে সক্ষম হোন তাহলে আবেদনের পাশাপাশি তিনি যে কাজের জন্য যাবেন সেই বিষয়ে তার পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতা এবং ন্যূনতম ইতালীয় ভাষা জানা থাকা উচিত।

যেমন কেউ যদি নির্মাণ খাতে সাধারণ বা আধাদক্ষ কর্মী হিসেবে আসতে আগ্রহী হন তাহলে ইতালির আবহাওয়া এবং নির্মাণখাতের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

এটি হোটেল-রেস্তোরাঁ, কৃষিসহ সবখাতে আসতে আগ্রহীদের জন্যই প্রযোজ্য। গত বছরগুলোতে এসব ভিসায় এসে অনেকেই অনিয়মিত অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার পর তাদের পুনরায় বৈধতা পেতে বছরের পর বছর সময় লেগেছে। আবার অনেককে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।

সর্বোপরি একজন আবেদনকারীর উচিত সরকারি বেতন কাঠামো এবং থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ সম্পর্কে অবগত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে ভিসার প্রস্তাব দেওয়া নিয়োগকর্তারা অনেক ক্ষেত্রেই অসাধু ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন।

ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ৭০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কয়েকদিনে সাতশ জনের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। লিবিয়ার উপকূল থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে এসব অভিবাসনপ্রত্যাশী ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন।

বেসরকারি সংস্থা ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স পরিচালিত জাহাজ ‘গেও বারেন্টস’ এবং ইতালির ‘মারে ইয়োনিও’ তাদের উদ্ধার করে।

এক টুইট বার্তায় ডক্টর্স উইদাউট বর্ডার্স জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত তাদের জাহাজ গেও বারেন্টস একটি ছোট নৌকা থেকে ৬৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধারদের অনেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

এদিকে শুক্রবার আরেক অভিযানে সংস্থাটি ১২ জন শিশুসহ ৭৬ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার পরিচালিত আলাদা আলাদা অভিযানে প্রায় তিনশজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারদের মধ্যে দুজন শিশুও আছে বলে। ছোট ছোট নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তারা প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় সারারাত সমুদ্রে ভাসছিলেন। নৌকায় থাকা অনেকেই হাইপোথার্মিয়ায় ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

সংস্থাটি জানায়, তাদের জাহাজটিতে এই মুহূর্তে ৪৩৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী রয়েছেন। এদিকে মেডিটারিয়ান সেভিং হিউম্যানস নামে ইতালির বেসরকারি সংস্থার পরিচালিত জাহাজ মারে ইয়োনিও গত কয়েকদিনে দুইশ আট জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে।

শুক্রবার সকালে সাগরে পরিচালিত এক অভিযানে নৌকায় বিপদাপণ্ন অবস্থায় ভাসতে থাকা মোট একশ সাত জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে জাহাজটি। উদ্ধারদের মধ্যে ১৪ জন নারী রয়েছেন।

মঙ্গলবার রাতে ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টার একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে তারা একশজন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে।

সংস্থাটি জানায়, উদ্ধারকৃত এ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কাঠের নৌকায় করে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাটি প্রায় ডুবে যাচ্ছিল।

দেশে,শনাক্তের হার বেড়ে ৩১.২৯, আক্রান্ত ১০ হাজার ৯০৬ জন

রোববার, ২৩ জানুয়ারী ২০২২, ০৯ মাঘ ১৪২৮, ১৯ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলছে। 

দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় দেশে ২৮ হাজার ২২৩ জনের মৃত্যু হলো। 

এ সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৬ জন।  এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জনে। 

রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, গত একদিনে দেশে মোট ৩৪ হাজার ৮৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২৯ শতাংশে।

গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৭৮২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬১ জন।  

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। 

এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর গত বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ। সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ। 

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু এরমধ্যেই বিশ্বে শুরু হয় ওমিক্রন ঝড়। ৩ জানুয়ারি দৈনিক শনাক্তের হার ৩ শতাংশ এবং ৬ জানুয়ারি তা ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এরপর থেকে সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে।