বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৫৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের দাপটে বিশ্বে প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে শনাক্ত রোগী। এর সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু, যা এখন ৫৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথমবার কভিড-১৯ শনাক্ত হয় ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরের বছরের জানুয়ারি থেকে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার খবর আসতে থাকে।

গত দুই বছরে দেশে দেশে লকডাউন, বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবিধি পালন ও সর্বশেষ গণ টিকাদান সত্ত্বেও করোনা এখনো দাপট দেখিয়ে যাচ্ছে। অতি সংক্রমণশীল ডেল্টার পর এখন আরও দ্রুত ছড়াচ্ছে ওমিক্রন।

পরিসংখ্যান ভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার শনিবার সকাল ৯টা নাগাদ জানায়, এ পর্যন্ত বিশ্বে মারা গেছে ৫৬ লাখ ৩ হাজার ১৬০ জন।

মোট শনাক্ত হয়েছে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩২ জন রোগী। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৭ কোটি ৬৫ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৩ জন।

আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। মৃত্যুতেও দেশটি এক নম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৭ কোটি ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৭৯ জন। মারা গেছে ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৪৩ জন।

৩ কোটি ৮৯ লাখ ১ হাজার ৪৮৫ জন শনাক্তের হিসাব নিয়ে সংক্রমণে দ্বিতীয় ভারত। দেশটিতে মারা গেছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯১১ জন।

উত্তাল আটলান্টিক মহাসাগরে নৌকায় সন্তান জন্ম

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

ডিঙি নৌকায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টাকালে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন অভিবাসনপ্রত্যাশী এক মা। স্পেনের কোস্টগার্ড সদস্যরা নবজাতকসহ নৌকায় থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করেছেন৷

নবজাতক ও তার মা দুজনেই সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।

জানা গেছে, স্পেনের উপকূলরক্ষীরা গত বুধবার রাতে দেশটির ক্যানারি দ্বীপের উপকূল থেকে প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দূরে সাগরে ভাসমান এ ডিঙি নৌকাটি উদ্ধার করে। নৌকাটিতে মোট ৬০জন অভিবাসী ছিলেন বলে জানা গেছে। তারা সবাই উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরোপে পাড়ি জমাতে উঠেছিলেন।

এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে পৌঁছার চেষ্টা করেন। অনেকক্ষেত্রে যাত্রার জন্য ব্যবহৃত হয় মাঝারি আকারের রাবারের ডিঙি, যা এই বিপদসঙ্কুল যাত্রার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রায় নৌকাডুবিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তাছাড়া স্পেন, ইটালি, গ্রিস এবং লিবিয়ার উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন সময়ে বিপজ্জনক অবস্থায় নৌকায় ভাসমান অভিবাসীদের উদ্ধার করে, এমন খবরও প্রতিনিয়তই পাওয়া যায়।

স্পেনের বার্তাসংস্থা ইএফই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ৬০ জন অভিবাসীর এ দলটি রাবারের ডিঙিতে করে যাত্রা করছিল।পথিমধ্যে ডিঙিতে থাকা এক নারী সন্তান জন্ম দেন। নবজাতক ও তার মা সুস্থ আছেন উল্লেখ করে বার্তা সংস্থাটি জানায়, উদ্ধারকৃত অভিবাসীদের গ্রান তারজালা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

করোনায় ১৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯ হাজার ৬১৪

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৬১৪ জন। শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ০২ শতাংশ। করোনায় এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে; শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার ২৩০ জনে।

আজ শনিবার (২২ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। গতকাল শুক্রবার জানানো হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হন ১১ হাজার ৪৩৪ জন। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে।

সদ্যোজাত শিশুর কান্না শুনে কোমা থেকে ফিরে এলেন মা,,,,?

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

এ অলৌকিক ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের হায়দরাবাদের খাম্মাম জেলায়। জানা যায়, একজন গর্ভবতী নারী কোমায় চলে গিয়েছিলেন, এবং ডাক্তাররা তার সন্তানকে বাঁচাতে তার অপারেশন করতে বাধ্য হয়েছিল। পরে তার সদ্যোজাত শিশুর কান্না তাকে কোমা থেকে ফিরিয়ে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে ভদ্রাচলম সরকারি হাসপাতালে।

টেকুলাবরুগাঁও কোটাওয়ারাম মন্ডলের বাসিন্দা নাগমণির ৪ ফেব্রুয়ারি প্রসব হওয়ার কথা ছিল। তবে, রক্তচাপের ওষুধ ব্যবহার করার কারণে তার শ্বাসকষ্ট হয়েছিল যার কারণে তাকে প্রাথমিকভাবে কর্তালাগুত্তার সিএইচসি কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে ভদ্রাচলম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর ভদ্রাচলম হাসপাতালে ভর্তির সাথে সাথেই কোমায় চলে যান তিনি। হাসপাতালের ডাক্তারদের অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও, নারীটি তার চেতনা ফিরে পাননি।

অন্যদিকে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ডা. কোটিরেড্ডি এবং ডা. পালিয়া ভদ্রাচলম হাসপাতাল সুপার রামকৃষ্ণের অনুমতি নিয়ে শিশুটিকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। যার জেরে তার স্বামী সত্যনারায়ণ এবং তার ভাই নাগেশ্বর রাওয়ের কাছ থেকে অনুমোদন নেয়ার পর, ডা. রামকৃষ্ণনের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের একটি দল গর্ভবতী নারীর সন্তান প্রসবের জন্য অপারেশন করেন।

আর এরপরেই নবজাতক শিশুর কান্না অলৌকিকভাবে নারীটিকে তার কোমা থেকে নিয়ে এসেছে। সদ্যোজাত শিশুর কান্না শুনে তার জ্ঞান ফিরে পাওয়ার ঘটনায় চিকিৎসকরাও অবাক হয়ে যান। তাকে অবিলম্বে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই ভালো আছে। সূত্র : পুবের কলম

কুয়েত এয়ারওয়েজ শ্রীলঙ্কার ফ্লাইট স্থগিত করেছে এতে উদ্বিগ্ন আমাদের #বাংলাদেশি প্রবাসীরা…

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সবাই ভাবছে হয়তো মহামারীর কারনে শ্রীলঙ্কায় কুয়েতে এয়ারওয়েজ ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে হয়তো বা #বাংলাদেশের সাথেও ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে পারে।

**আমি বারবার যে কোনো বিষয়ে পূর্ণরুপে না জেনে কথা বলা, মন্তব্য করা, পোষ্ট করা ঠিক নয়। এতে জনমনে বিভ্রান্ত বাড়ে। তাই নয় কি?

তাহলে শুনুন বিস্তারিত কুয়েত এয়ারওয়েজ কেনো ফ্লাইট বন্ধ করেছে শ্রীলঙ্কার সাথে-

কুয়েত এয়ারওয়েজ কর্পোরেশন এই সপ্তাহে শ্রীলঙ্কায় ফ্লাইট স্থগিত করেছে এয়ারলাইন্স “ডলার সংকট” এবং ফ্লাইট বাড়ানোর অনীহার কারনে। এছাড়া স্থানীয় অফিসগুলি বকেয়া অর্থ প্রদানে অস্বীকার করেছে। তাই কুয়েত এয়ারওয়েজ গত সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কায় তার সর্বশেষ কার্যক্রম শেষ করেছে। যেখানে প্রতি সপ্তাহে মাত্র একটি ফ্লাইট ছিল। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় ফ্লাইটের অপারেটিং খরচের তুলনায় এয়ারলাইন্সটির আয় ছিলো খুবই কম।

অন্যদিকে সাধারণ সেলস্ এজেন্ট এবং স্থানীয় এয়ারলাইন্স অফিসগুলি ডলারে তাদের বকেয়া পরিশোধ করেনি যা প্রায় ৪ বা ৫ মাস ধরে বকেয়া ছিলো। কুয়েত এয়ারওয়েজের ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কায় অবতরণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ ছিল কারন তা শ্রীলঙ্কায় সর্বোচ্চ।

নোট: কেউ অযথা হয়রানি হবেননা, চিন্তা মুক্ত থাকুন। ফ্লাইট / বিমানবন্দরের বন্ধের কোনো তথ্য/খবর/আপডেট পেলে আপনাদেরকে জানিয়ে দিবো।

কুয়েতে এসএটিভির ১০ তম জন্মবার্ষিকী পালিত’

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

আলাল আহমদ, কুয়েত: বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশন এসএটিভি’র ১০তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কুয়েতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২১ শে জানুয়ারি) বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতে’র অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, এসএটিভি’র কুয়েত প্রতিনিধি মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের, প্রচার সম্পাদক, মোঃ আলাল আহমদ ও আবু বক্কর সিদ্দিক এর যৌথ সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতে’র সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার সুমন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,  বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েতের সাধারণ সম্পাদক আ হ জুবেদ, সহ সভাপতি শরিফ মিজান, মো: জালাল উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক হেবজু মিয়া।
বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক মোশাররফ হুসেন, সিলেট সিক্সসার্স’র ক্যাপ্টেন তারমিম আলম, পার্থ সহ আরো অনেকে।

বক্তারা বলেন, হাঁটি হাঁটি পা-পা করে দেশের অন্যতম বেসরকারী স্যাটেলাইট টিভি এসএটিভি ৯ম বছর পার করে ১০ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। সমাজের নানা অসংগতি নানা অগ্রগতির সংবাদ প্রচার করছে।
তারা বলেন, নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়েও বিভিন্ন  অনুষ্ঠান প্রচার করে কোটি দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে এসএটিভি।
এছাড়াও এসএটিভি তার এই অগ্রযাত্রা যেনো অব্যাহত রাখে সেই প্রত্যাশা করেন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অতিথিবৃন্দরা। 

শেষে  এসএটিভি’র ১০ম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে  কেক কাটা হয়।

বিমানের ৫০ বছর: যাত্রার পুরোটা পথই অমসৃণ

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

পরেও বিমান শুধু লোকসানই দিয়ে যাচ্ছে। এভিয়েশন  বিশেষজ্ঞরা জানান, এর পেছনে যথাযথ পরিকল্পনার অভাব এবং নিম্নমানের যাত্রী সেবা দায়ী।

তারা আরও জানান, পূর্ব পরিকল্পনার অভাবে বহরের অনেক নতুন উড়োজাহাজ সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং মানসম্পন্ন পূর্ণ সেবা দিতে পারছে না। ফলে আকাশে শান্তির নীড় শ্লোগানধারী বিমানের পৃথিবী বছরে পর বছর ছোট হয়েছে।

১৯৭২ সালে বিমান তার ডানা মেলার পর থেকে জাতীয় উড়োজাহাজ সংস্থাটি প্রায় প্রতি অর্থবছরেই লোকসান দিয়েছে।

বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমান ২০২০-২১ (২০২০ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত) অর্থবছরে ১৩৩ কোটি টাকা লাভ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকা লোকসান করেছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা জানান, বিভিন্ন সংস্থার কাছে বিমানের দেনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এছাড়াও বিমান নতুন উড়োজাহাজের জন্য বছরে ২৫০ কোটি করে কিস্তি পরিশোধ করে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিমানের লাভকে প্রকৃতপক্ষে লাভ বলা যায় না, কারণ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে সংস্থাটির শত কোটি টাকার দেনা রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, বিমান তাদের আর্থিক নথি প্রকাশের ব্যাপারে স্বচ্ছ নয়।

বর্তমানে সংস্থাটি ১৯টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে আসা যাওয়া করে। বেশিরভাগ গন্তব্যই স্বল্প অথবা মধ্যম দূরত্বে। বিমানের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, আগে সংস্থাটি আরও কম উড়োজাহাজ নিয়েও পশ্চিমের নিউ ইয়র্ক থেকে শুরু করে পূর্বের টোকিওসহ ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতে মোট ২৯টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করতো।

২০০৬ সাল থেকে বিমান ধীরে ধীরে নিউ ইয়র্ক, ফ্র্যাঙ্কফুর্ট, রোম, টোকিও, ব্রাসেলস, আমস্টারডাম ও লিবিয়াসহ ১০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়। এর পেছনে মূল কারণ আর্থিক সমস্যা, আধুনিক বিমানের স্বল্পতা এবং কিছু গন্তব্যে পরিচালনায় অর্থনৈতিকভাবে লাভবান না হওয়া।

২০০৭ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হওয়ার পর বিমান তার বহরের সম্প্রসারণের জন্য ২০০৮ সাল থেকে প্রায় ১৯ হাজার ২০ কোটি টাকা খরচ করেছে।

ওয়াহিদুল জানান, প্রায় ৪২টি দেশের সঙ্গে উড্ডয়ন চুক্তি থাকা সত্ত্বেও বিমান নতুন কোনো গন্তব্যে বা বন্ধ হয়ে যাওয়া গন্তব্যে আবারো ফ্লাইট চালু করতে পারেনি।

যদিও বিমানের একটি বড় বাজার আছে এবং অনেক যাত্রী এই সংস্থার ওপর ভরসা করেন, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনুন্নত সেবা, অব্যবস্থাপনা, অকার্যকর পরিকল্পনা ও বিপণন নীতিমালা এবং পেশাদার কর্মীর অভাবে তাদের বাজার ২০ শতাংশ কমে গেছে।

তিনি আরও জানান, গত ৫০ বছরেরও বেশি সময়ে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে বিমান ৫০ জন পেশাদার ব্যক্তিকেও সরাসরি নিয়োগ দিতে পারেনি। ‘বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের অভাবে বিমান পতনের মুখে।

বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) একজন নেতা যিনি একজন জ্যেষ্ঠ বৈমানিক তিনি ডেইলি স্টারকে জানান, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে বিমান তাদের আধুনিক উড়োজাহাজের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য এখনো কোনো উপযুক্ত উড্ডয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেনি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বিমান দূরপাল্লার গন্তব্যের জন্য উপযোগী বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজকে স্বল্পপাল্লার গন্তব্যের জন্য ব্যবহার করছে, যেমন ঢাকা-সিঙ্গাপুর ও ঢাকা-মালয়েশিয়া, যেটি পরিকল্পনার দুর্বলতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

তিনি জানান, বোয়িং ৭৮৭-৮ টানা ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা উড়তে পারে এবং এটি নিউ ইয়র্ক, টরোন্টো বা টোকিওর মত দূরবর্তী গন্তব্যের জন্য বেশি উপযোগী।

বিমানের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বীকার করেন, সংস্থাটি গত ৫০ বছরে তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

‘বিভিন্ন কারণে যাত্রীসেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি’, যোগ করেন তিনি।

গত নভেম্বরে কুর্মিটোলায় বিমানের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, বিমানের সেবার মান আগের মতোই আছে।

বিমানের সাবেক এমডি ও সিইও এম এ মোমেন জানান, বিমানের উপযুক্ত সেবা দিতে না পারা এবং বাজারে টিকে থাকতে না পারার কোনো কারণ নেই।

বিমানের বর্তমান এমডি ও সিইও আবু সালেহ মোস্তফা কামাল জানান, বিমানের নতুন কোনো গন্তব্যে না যাওয়া ও গ্রাহকদের সঠিকভাবে সেবা দিতে না পারার পেছনে জনবল স্বল্পতাই দায়ী। তিনি বৈমানিক ও কেবিন ক্রু সদস্যদের ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।

গ্রাহকদের পক্ষ থেকে অনুন্নত সেবার অভিযোগ মেনে নিয়ে তিনি বলেন, ‘সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সঠিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একটি মাত্র ডিসি-৩ উড়োজাহাজ নিয়ে বিমানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এখন সংস্থাটির ২১টি উড়োজাহাজ আছে। ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ৪টি বোয়িং ৭৮৭-৮, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৫টি ডি হ্যাভিল্যান্ড কানাডা ডিএইচসি-৮ কিউ৪০০।

দেশে,করোনা শনাক্ত ১১ হাজার ছাড়াল

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ হাজার ৪৩৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে। এই সময় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। 

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত হন ১০ হাজার ৮৮৮ জন; শনাক্তের হার ছিল ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তার আগের দিন ১২ জনের মৃত্যু হয়, শনাক্ত হন ৯ হাজার ৫০০ জন; শনাক্তের হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ। 

শুক্রবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনায় এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৬ জনে। 

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। 

কোভিড: অফিস চলবে অর্ধেক লোকবল নিয়ে, বন্ধ স্কুল-কলেজ, তবু বাণিজ্য মেলা, বইমেলা, বিপিএল চলবে ১১ দফা বিধি-নিষেধ জারি

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে শুক্রবার নতুন ছয় দফা বিধি-নিষেধ সম্বলিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এসব বিধি-নিষেধ কীভাবে কার্যকর হবে, শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সে বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বাংলাদেশে মাস খানেক যাবত করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় সংক্রমণের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১০ই জানুয়ারি ১১ দফা বিধি-নিষেধ জারি করে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ঐ নির্দেশনার দুই সপ্তাহের মধ্যে আরোপ করা হলো নতুন ছয় দফা বিধি-নিষেধ।

কী আছে নতুন বিধি-নিষেধে?

শুক্রবারে জারি করা ছয় দফা বিধি-নিষেধ অনুযায়ী:

  • ২১শে জানুয়ারি থেকে ৬ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ ও সমপর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।
  • স্কুল, কলেজের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
  • যে কোনো সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে একশো জনের বেশি জনসমাগম করা যাবে না। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে টিকা সনদ অথবা আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করা পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট সাথে রাখতে হবে।
  • সব অফিস, শিল্প কারখানার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের টিকা সনদ গ্রহণ করতে হবে।
  • বাসার বাইরে সব জায়গায় বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।
  • নির্দেশনাগুলো প্রতিপালিত হচ্ছে কিনা, তা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদারক করবে।

বাংলাদেশে প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকার পর গত সেপ্টেম্বরে স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়।

আবারো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি স্কুলের সংক্রমণ হার বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং তারা ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। এটা আশঙ্কাজনক।”

“সে কারণে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে তাঁর সম্মতি সাপেক্ষে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী দুই সপ্তাহ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পাশাপাশি যে কোনো ধরণের অনুষ্ঠানে একশো জনের বেশি জনসমাগম করতে পারবে না বলেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় মেয়েসহ বাংলাদেশি গর্ভবতী নারী নিহত।


(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

** সংযুক্ত আরব আমিরাতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ বছরের মেয়েসহ গর্ভবতী এক বাংলাদেশি নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই নারীর স্বামী ও তিন সন্তান। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে গালফ নিউজ।

** প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে শারজাহর আল ঘার্ব এলাকার একটি ব্যস্ত সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ওই গর্ভবতী নারী এবং তার ৯ বছরের কন্যা।

** শারজাহ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই ওই নারী ও তার স্বামীকে শারজাহর আল কাসেমি হাসপাতাল এবং তাদের সন্তানদের আল কুয়েতি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর ডাক্তররা ওই নারী এবং ওই দম্পতির ৯ বছর বয়সী কন্যাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া তাদের অপর এক সন্তানের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সূত্র : যুমুনা টিভির নিউজ ফিড থেকে।
ছবি- গুগোল থেকে নেওয়া।