দুবাই থেকে দেশে ফিরতে গত ১৭ ডিসেম্বর হিমালয় এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে উঠেছিলেন ব গু’ড়ার মো. আবু জিহাদ। নেপালের বেসরকারি বিমান সংস্থা হিমালয় এয়ারলাইন্স বিভিন্ন গন্তব্য থেকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ট্রানজিট হয়ে বাংলাদেশে যাত্রী নিয়ে আসে।
দুবাই থেকে নেপাল আসার পর ট্রানজিট শেষে ফের ঢাকাগামী হিমালয়ের ফ্লাইটে উঠতে গেলে আবু জিহাদকে আট’ক করে নেপালের কাস্টমস কর্মকর্তারা। শুধু আবু জিহাদ নয়, সাম্প্রতিক সময়ে হিমালয় এয়ারলাইন্সে ভ্রমণকারী কমপক্ষে ৮ বাংলাদেশি এখন নেপালের কারা’গারে ব’ন্দি।
২০১৯ সালের ২২ জুলাই ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে নেপালের হিমালয় এয়ারলাইন্স। শুরুতে শুধু ঢাকা-কাঠমান্ডু রুটে যাত্রী পরিবহন করলেও ধীরে ধীরে ফ্লাইটের পরিধি বাড়ায় তারা। আবুধাবি, দোহা, দুবাই, দাম্মাম, রিয়াদ, মালয়েশিয়ায় থাকা
বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে এয়ারলাইন্সটি। সম্প্রতি সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট না পেয়ে মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই হিমালয় এয়ারলাইন্সে নেপালে ট্রানজিট হয়ে বাংলাদেশ আসছেন।
নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দর সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে হিমালয় এয়ারলাইন্সে ভ্রমণকারীদের অনেকেই নেপালে আট’ক হয়েছেন। তবে কমপক্ষে ৮ আট’ক বাংলাদেশির তথ্য বাংলা ট্রিবিউনের হাতে এসেছে।
তারা হলেন—মো. ইউনুস আলী (পাসপোর্ট নাম্বার BQ 0393288), মো. আবু জিহাদ (BT0212154), আশরাফুল ইসলাম (BN 0987871), সালমান আহমেদ (EF 0394741), জাহিদুল ইসলাম (A00100885), সোবহান তালুকদার (BT 0693599), তাওহিদুল তানভীর (A01241469), মো. মিরাজুল ইসলাম (OC 6009083)।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নেপালে আট’ক হওয়া বাংলাদেশিরা ঢাকায় প্রবেশে বৈধ এমন পরিমাণ স্বর্ণ স’ঙ্গে নিয়ে আসছিলেন। বাংলাদেশে ২৩৪ গ্রাম পর্যন্ত সোনার বার আনা যায়। এছাড়া সোনার অলংকার ১০০ গ্রাম পর্যন্ত শুল্কমুক্ত। বিভিন্ন দেশ ট্রানজিট হয়ে এই পরিমাণ সোনা পরিবহনে কখনও জটিলতায় পড়তে হয়নি কোনও বাংলাদেশি যাত্রীকে।
তবে নেপালে নিয়ম ভিন্ন, দেশটিতে ৫০ গ্রামের বেশি সোনা আনায় যায় না, ট্রানজিট যাত্রীদের তল্ লা’শি করে আট’ক করা হয়। হিমালয় এয়ারলাইন্সের বাংলাদেশি যাত্রীরা নেপালে প্রবেশ না করলেও এ বিধানের আওতায় বিমানবন্দরেই তাদের আট’ক করে কারা’গারে পাঠায় কাস্টম কর্মকর্তারা।
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনও যাত্রী যে দেশে যাব’েন সেই দেশের নিয়ম অনুসরণ করবেন, ট্রানজিটে ওই দেশের কোনও বিধান তার জন্য প্রযোজ্য নয়, কারণ যাত্রী তো ওই দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন না। তাছাড়া, কোনও দেশে যদি ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য কোনও বিশেষ বিধান থাকে তাহলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এ বি’ষয়ে যাত্রীকে অবহিত করা।
যাত্রীরা অ’ভিযোগ করছেন—নেপালে সোনা পরিবহনের বিধি- নিষে’ধের বি’ষয়ে কোনও আগাম তথ্য জানায়নি হিমালয় এয়ারলাইন্সর। এমন কি নেপালে আট’ক হওয়ার পর তাদের মুক্তির বি’ষয়েও কোন ধরণের সহযোগিতা করছে না।
নেপালে আট’ক সালমান আহমেদের বাবা আব্দুল মতিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমা’র ছেলে তো কোনও দোষ করেনি, তাকে কেনও জে’লে আট’কে রাখছে। হিমালয় এয়ারলাইন্সের টিকিট কে’টে সে আজকে অ’পরাধী। অন্য এয়ারলাইন্সে আসলে আজকে আমর’া ছেলে আমা’র কাছেই থাকতো। সরকার যেন আমা’র ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে, আমি সেই দাবি জানাই। বাংলাদেশে এই রকম এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ করারও দাবি জানান তিনি।
১৭ ডিসেম্বর আট’ক হওয়া আবু জিহাদকে সোমবার (২০ ডিসেম্বর) কারা’গার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেপালের কাস্টমস অফিসে আনা হয়। আবু জিহাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আ মা’দের যদি আগে থেকে হিমালয় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ বি’ষয়ে জানাতো তবে আমর’া তাদের ফ্লাইটে দেশে আসতাম না। আমর’া তো তাদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছি না তাহলে কেনও আ মা’দের আট’ক করবে। জে’লে একটা রুমের মধ্যে ৪০-৫০ জনকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। নেপালের ব’ন্দিরা আ মা’দের মা’রধর করছে। শুধু হিমালয় এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওঠার কারণে আমর’া আজকে জে’লে। তাদের কারণে নি’র্মম সময় পার করছি আমর’া।
এ বি’ষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে কর্মর’ত হিমালয় এয়ারলাইন্সের কোনও কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাংলাদেশে হিমালয় এয়ারলাইন্সের জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) প্রতিষ্ঠান এসএয়ার এয়ার বিডি লিমিটেডের পক্ষে থেকেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশিদের আট’ক হওয়ার বি’ষয়টি গো’পন করেছে হিমালয় এয়ারলাইন্স। আট’ক হওয়া যাত্রীদের তথ্য বাংলাদেশ দূতাবাসে জানায়নি হিমালয় এয়ারলাইন্স। এমন কি আট’ক হওয়া যাত্রীদের পরিবারকেও কোনও তথ্য জানায়নি এয়ারলাইন্সটি।
নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হিমালয় এয়ারলাইন্সের কতজন যাত্রী আট’ক হয়েছেন সে তথ্য নেপাল সরকার এখনও আ মা’দের অবহিত করেনি। তবে যাদের তথ্য পেয়েছি, তাদের মুক্তির জন্য আমর’া নেপাল সরকারের স’ঙ্গে কথা বলেছি।
রাজধা’নীর অন্যতম ব্যস্ত’তম এলাকার মধ্যে ফা’র্মগেট অন্ন’তম। দিনের বেলায় মানুষের পদ’চারণায় মুখরিত থাকে এ এলাকা তাই দেখে হয়তো অনেক কিছুই বোঝা যায় না।কিন্তু রাতের নিরবতা যত বাড়ে,
ততই এই এলাকায় আনাগোনা বাড়ে দে’হ ব্যব’সায়ীদের।খ’দ্দেরের খোঁ’জে বো’রকা পড়ে অ’পেক্ষা করতে দে’খা যায় তাদের রাস্তার ধারে। গত শনিবার এবং রবিবার মধ্যরাতে সরেজমিনে ফা’র্মগেটে গিয়ে দেখা যায়,
খ’দ্দেরের খোঁ’জে বোরকা পড়ে এখানে-সেখানে অ’পেক্ষা করছেন প’তিতারা।তাদের পাশেই সারি-সারি সিএনজি দাঁড়িয়ে আছে। খ’দ্দের এসে প্রথমে দামা’দামি করে। এরপর চূ’ড়ান্ত হলে নিয়ে যায় সিএনজি করে। তাদের মধ্যে অনেকেই সাধারণ মানুষকেও বির’ক্ত করে। নিবি,লাগবে বলে বিভিন্ন ইশা’রা দেয় তারা।
এতে অনেক পথচারীও বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েন।সোহেল হাসান নামের একজন পথচারী বলেন, ওরা সুযোগ বুঝে ইশারা দেয়, নানান রকম অ’’শ্লী’ল কথাও বলে। সাংবা’দিক পরিচয় গো’পন রেখে কথা হয় নিতু নামের একপতি’তার স’ঙ্গে। সদ্য এ পথে পা বাড়িয়েছে বলে দাবি তার।
কি’শো’রগঞ্জ জে’লার ভৈরবেবাড়ি বলে জানান নিতু।তিনি বলেন, আমি যে এ পেশায় আছি তা আমা’র পরিবারের কেউই জানে না। টাকার অভাবেই এ পেশাই আসছি। এত পেশা থাকতে এ পেশায়আসলেন কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো উত্তরই দেননি তিনি। নিতু জানায়,আধাঘন্টার জন্য নিয়ে গেলে ৫০০ টাকা আর পুরো রাতের জন্য নিয়ে গেলে ১ হাজার
টাকা নেই। আমি রাতেই ফা’র্মগেটে আসি। হোটেলে বা খ’দ্দেরের বাসায় যেয়ে কাজকরি। তার দাবি, খ’দ্দের অনেকসময় ৫০০ টাকার কথা বলে নিয়ে যায় কাজ শেষে ২০০ বা৩০০ টাকা দেয়। প্রতিবাদ করলেও লাভ হয়না। আবার
মাঝেমধ্যে অনেকে আরও কমটাকাও দেয়। নিতুর সাথে কথা বলে সামনে এ গু’’তেই দেখা যায়, আরও চার প’তিতা এক’স’ঙ্গেই বসে আছেন। বিভিন্ন সিএনজি তাদের সামনেই থামে, মাঝে-মধ্যে সিএনজি চালকদের সাথেও খোশগল্পে মাতে তারা। জানা যায়, ফার্মগেটে সাধারণত প’তিতারা ‘বিকেল থেকে সন্ধ্যা বা রাতেই
আসে। কেউ কেউ আবার মধ্যরাতেও বের হয়। সকালহলেই ফেরে ঘরে।শাহীন নামের একজন ভ্যনচালক বলেন, আমি এই জায়গাতে ভ্যানচালাই গত চার বছর ধরে। এদেরকে (পতি’তা) প্রতি রাতেই দেখি। ভোরে আবার চলে যায়তারা।তিনি বলেন, এদের সিএনজি চালকও ঠিক করা থাকে। খ’দ্দের ঠিক হলেই সিএনজি করেচলে যায়। অনেকসময় সিএনজিতেই তারা এ কাজ করে।
নাম প্রকাশ্যে অ’নিচ্ছুক আরেক ভ্যা’নচালক বলেন, এদের মধ্যে কিছু প্র’তারকও থাকে। তারা সিএনজিতে নিয়ে খ’দ্দেরকে প্র’তারণা করে, টাকা, মোবাইল ফোন ছিন’’তাই করে। মান-সম্মানের ভ’য়ে অনেকেই তা প্রকাশ করে না।এ
বি’ষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থা’নার ওসি বলেন, আমা’দের কাছে এরকম (ছিন’’তাই) অ’ভিযোগ আসেনি। অ’ভিযোগ পেলে আম’রা ব্যবস্থা নেব। প’তিতাদের অবস্থানের বি’ষয়ে তিনি বলেন, আগে অনেক অ’ভিযান চালানো হয়েছিল, এরপর আর তাদের দেখা যা’য়নি। মধ্যখানে তারা আ’বার হয়তো এসেছে, আজ রাতেই আ’বার অ’ভিযান চা’লাবো।
আবিদা ইসলাম। মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। বেছে নিয়েছেন চ্যালেঞ্জিং জীবন। দেশের মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে জীবনটাকে উপভোগ যেমন করছেন, তেমনি গড়ছেন একে একে সাফল্যের সিঁড়ি, যে সাফল্যের সঙ্গে মিশে আছে উচ্ছল-উজ্জ্বল বাংলাদেশের গল্প। পেশাদার এ কূটনীতিক মুখোমুখি হন জাগো নিউজের। কথা বলেন নানা বিষয় নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওমর ফারুক হিমেল-
মেক্সিকোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে। ২০১১ সালে প্রয়াত পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসের নেতৃত্বে একটি ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ দল মেক্সিকো সফর করেন। ওই প্রতিনিধি দলের সুপারিশে ২০১৩ সালে মেক্সিকো সিটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ঢাকায় মেক্সিকোর কোনো দূতাবাস বা ভিসা অফিস এখনো স্থাপিত হয়নি। নয়াদিল্লির মেক্সিকো দূতাবাস বাংলাদেশের সমবর্তী দায়িত্বে নিয়োজিত। যদি ঢাকায় মেক্সিকোর একটি কনস্যুলেট বা কূটনৈতিক মিশন স্থাপন করা যায়, তাহলে মেক্সিকোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আমার বিশ্বাস।
উদার গণতন্ত্র এবং বাজার অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ-মেক্সিকোর মধ্যে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্জনের ক্ষেত্রে অনেক মিল রয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা- এসব ক্ষেত্রে আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান লাভ করতে পারি। বিগত আট বছরে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কে কিছুটা অগ্রগতি হলেও ভৌগলিক দূরত্ব এবং ভাষার প্রতিবন্ধকতার কারণে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রগুলো এখনও পূর্ণ মাত্রায় বিকশিত হতে পারেনি। তবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিস্তৃত করার অনেক সুযোগ রয়েছে। মেক্সিকো সিটির বাংলাদেশ দূতাবাস এ কাজে নিয়োজিত।
গেল কয়েক বছর আগে দুই দেশের মধ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক গভীর হয়। কিন্তু এখনো দুই দেশের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে সফর হয়নি। দুই দেশের সরকার প্রধানদের রাষ্ট্রীয় সফরের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
দুই দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে সফর না হলেও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হয়েছে। যা এখনো চলমান। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে দ্বিপাক্ষিক ভ্রমণে স্থবিরতা বিরাজ করছে। তবে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আমাদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মেক্সিকো সিটি সফর করেন। এছাড়া মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার সময় আমি তাকে আমাদের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করি শিগগির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে। দুই দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিপাক্ষিক সফর। আমি এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
২০১৩ সালে বাংলাদেশ তার প্রথম আবাসিক দূতাবাস চালু করে মেক্সিকো শহরে। এরপর ২০১৫ সালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম দুই দেশের ৪০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ক উদযাপন করতে মেক্সিকো সফর করেছিলেন। সেখানে থাকাকালীন মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে আন্তোনিও মেইডের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হন শাহরিয়ার আলম। এই সফর সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন
২০১৫ সালে প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মেক্সিকো সফর করেন। যেটি ছিল মেক্সিকোর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা। তখন মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বাংলাদেশ থেকে একটি সামরিক দল এবং একটি সাংস্কৃতিক দল পাঠানোর জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে অংশ নিতে একটি সামরিক প্রতিনিধি দল পাঠাতে চায় মেক্সিকো।
মেক্সিকোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত কারমেন আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অসাধারণ অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ থেকে প্রস্তাবিত শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকটি তার সরকারের বিবেচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমডিজি ও এসডিজিতে বাংলাদেশের অর্জন সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেন। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে অব্যাহতভাবে সমর্থনের জন্য মেক্সিকো সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
সেই সঙ্গে, নিয়মিত দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভা, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা, ভাষা প্রশিক্ষণসহ উভয় দেশের কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ একাডেমির মধ্যে সহযোগিতার ওপরে গুরুত্ব প্রদান করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা অব্যাহতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত স্বাক্ষর করার বিষয়ে মেক্সিকোর উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারমেনকে অনুরোধ জানান।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশ-মেক্সিকোর কাজের অগ্রদূত কতটুকু?
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মেক্সিকোর উপ-বাণিজ্য উপমন্ত্রী লুজ মারিয়া দে লা মোরা সানচেজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তখন প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং দ্বিপাক্ষিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। তিনি এসময় মেক্সিকো সিটিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত ‘কানেক্টিং থ্রু বিজনেস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংস্থা এফবিসিসিআই এবং মেক্সিকান বিজনেস কাউন্সিল ফর ফরেন ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক সম্পর্কে মেক্সিকোর উপ-বাণিজ্য উপমন্ত্রীকে অবহিত করেন।
এছাড়া মেক্সিকোর উপমন্ত্রী বাংলাদেশকে জানান, এসএমই, কৃষি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উভয় দেশ একে অপরের অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে। তিনি এফবিসিসিআই এবং মেক্সিকান বিজনেস কাউন্সিল ফর ফরেন ট্রেড, ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক লক্ষ্যমাত্রা ১ বিলিয়ন নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। আশা করা যাচ্ছে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে একটি গতির সঞ্চার হবে।
অপরদিকে ২০১৫ সালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সফর ছিল মেক্সিকোতে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় দ্বিপাক্ষিক সফর হয়। যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে প্রথম দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভা ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে মহাপরিচালক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া শাহরিয়ার আলমের মেক্সিকো সফরকালে এক অনুষ্ঠানে দেশটির ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা মিলিত হন। সে সময় ব্যবসায়িক সহযোগিতার সংক্রান্ত বিষয়ে এফবিসিসিআই এবং সিওএসিইর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমইউ) স্বাক্ষরিত হয়। যা ছিল মেক্সিকোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি ব্যবসায়িক কাঠামো প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গৃহীত প্রথম পদক্ষেপ।
মেক্সিকোর স্বাধীনতার ২০০ বছর উদযাপনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সামরিক কন্টিনজেন্ট এবং সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয়। এ বিষয়ে কিছু বলেন।
তখন বাংলাদেশ থেকে ১৪ সদস্যের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। তারা মেক্সিকোর ভেরাক্রজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয় এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপস্থাপন করে যা এ দেশে অত্যন্ত সমাদৃত হয়। বিষয়টি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। তাদের আগমন, অংশগ্রহণ এবং উপস্থাপনা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গতির সঞ্চার করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবিত একটি সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক নিয়ে মেক্সিকো সরকার পর্যালোচনা করছে।
এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক প্রতিনিধি দলের মেক্সিকো সফরের ফলে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী অনুষ্ঠানে পাঁচ সদস্যের একটি সামরিক প্রতিনিধি দল পাঠায় দেশটির সরকার। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে আগ্রহ প্রকাশ করে মেক্সিকো।
বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বাণিজ্যের ভারসাম্য সর্বদা বাংলাদেশের অনুকূলে থাকলেও উভয় দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের পরিমাণ একেবারেই সন্তোষজনক নয়। মেক্সিকো থেকে বাংলাদেশ সাধারণত ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য, নির্মাণসামগ্রী, পোশাক উৎপাদনের জন্য মেশিনারি ইত্যাদি আমদানি করে থাকে। মেক্সিকো বাংলাদেশ থেকে প্রধানত টেক্সটাইল এবং পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, খেলাধুলার সরঞ্জামাদি, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, পাটজাত পণ্য, কাঠ, প্লাস্টিক ও রাবার জাতীয় পণ্য, সিরামিক এবং কাচ জাতীয় পণ্য সামগ্রী আমদানি করে থাকে।
বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি তাদের সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, মেক্সিকান ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে আইসিটি, তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, আসবাবপত্র, আলোক-সজ্জায় ব্যবহৃত আলো ও ডাইপার পণ্য আমদানিতে আগ্রহী। তারা সামুদ্রিক লবণ ক্রেতা এবং বাংলাদেশের সুপার মার্কেট কোম্পানিগুলোর সাথেও যুক্ত হতে চায়। তারা বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক্স পণ্য, অটো পার্টস, তেল এবং তেলের ডেরিভেটিভস রপ্তানি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
মহামারির কারণে, ২০২০ সালে অবৈধ অভিবাসীদের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও ২০২১ সালে তা উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ২০২১ সালে আমাদের দূতাবাস ১১৮ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং এই সংখ্যাটা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন দেশ ঘুরে তারা মেক্সিকোকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে আমেরিকা প্রবেশ করতে চান এবং এজন্য ১৭-২২ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকেন। যা বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য কাম্য নয়। দূতাবাস বিষয়টি বাংলাদেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে দূতাবাস অবহিত নয়।
আমার মেয়াদকালে অর্থনৈতিক কূটনীতি ছাড়াও, আমি দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়ার চেষ্টা করছি।
আমরা এরই মধ্যে ওয়েবসাইট আপগ্রেড করার জন্য কাজ করছি। আপনি আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করলে আমাদের নতুন উদ্যোগগুলো লক্ষ্য করতে পারবেন।
শুধুমাত্র আমাদের ফেসবুকে নয় আমাদের টুইটার অ্যাকাউন্টেও আমরা এই ধরনের সংবাদ আপলোড করে থাকি।
আমি এরই মধ্যে মেক্সিকো সিটিতে কর্মরত কোস্টারিকা এবং গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে দেখা করেছি। আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমি আমার সমবর্তী দায়িত্বভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল বিচারপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুসরাত জাহান চৌধুরী। তিনি প্রথম মুসলিম-আমেরিকান নারী হিসেবে ফেডারেল আদালতের বিচারক হতে চলেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনোনীত ৮ নতুন বিচারপতির মধ্যে একজন হলেন নুসরাত জাহান চৌধুরী। ৪৪ বছর বয়সী আইনজীবী নুসরাত জাহান চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়ার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে দায়িত্ব পালন করবেন।
১৯ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগীয় মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করে। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান, প্রথম মুসলিম-আমেরিকান নারী এবং দ্বিতীয় মুসলিম-আমেরিকান ব্যক্তি হিসেবে ফেডারেল আদালতের বিচারক হতে যাচ্ছেন।
বর্তমানে নুসরাত নাগরিক অধিকার সমর্থনকারী দল আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) ইলিনয় অঙ্গরাজ্য শাখার আইনি পরিচালক হিসাবে কাজ করছেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্কে এসিএলইউ এর জাতিগত বিচার কর্মসূচির উপ-পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
তিনি ফেডারেল সরকারের নো ফ্লাই লিস্ট এবং নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের শহরের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নজরদারির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে মামলা সহ অসংখ্য নাগরিক অধিকারের মামলায় জড়িত ছিলেন।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ডেমোক্র্যাটিক সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার আনুষ্ঠানিকভাবে নুসরাত চৌধুরীকে নিউইয়র্কের ফেডারেল বেঞ্চে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছিলেন এবং তাকে ‘নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতার বিশেষজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
নুসরাত জাহান চৌধুরী বিশ্বখ্যাত ইয়েল ল’ স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নে যোগদানের আগে তিনি নিউ ইয়র্ক সাউদার্ন ডিসট্রিক্ট কোর্টের ক্লার্ক এবং সেকেন্ড সার্কিট ইউএস কোর্ট অব আপিলের জজ ব্যারিঙ্গটন পার্কারের সঙ্গেও কাজ করেছেন।
পৃথিবীর ইতিহাস অথবা মানব সভ্যতার ইতিহাস জানলে কত যে রহস্যের উদ্ঘাটন করা যায়, তা আমাদের কাছে অজানা। সম্প্রতি এমনই একটি রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন পুরাতত্ত্ব বিজ্ঞানীরা। এবার আরো একবার তেমনি একটি রহস্যের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। ২০০০ আগের পুরনো এক যোদ্ধার মাথার খুলি খুঁজে পাওয়া গেছে। গত বছর এই খুলির সন্ধান পেয়েছেন পুরাতত্ত্ববিদেরা। খুলি দেখেই চমকে যান তাঁরা।
কিন্তু কেন? এই খুলিতে খুব যত্ন সহকারে ধাতুর পাত বসানো রয়েছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কঙ্কালটি পেরুভিয়ান কোন এক যোদ্ধার। মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন ওই যোদ্ধা খুব সম্ভবত। তারপর হয়তো তার চিকিৎসা করানো হয়। অস্ত্রোপচার করে মাথায় এই পাত বসানো হয়েছে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।
এতদিন এই বিশেষ খুলিটি জনসমক্ষে আনা হয়নি। কিন্তু এবার এটিকে রাখা হয়েছে ওকলাহোমার মিউজিয়াম অফ অস্ট্রলজিতে। জনসাধারণের সমক্ষে আনার পর আরও বেশি উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে সকলের মধ্যে। মিউজিয়ামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সম্প্রতি এই খুলির ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ক্যাপশনে লেখা রয়েছে, এটি মানুষেরই খুলি।
কিন্তু আজ থেকে ২০০০ বছর আগে কিভাবে মানুষের মাথার খুলিতে এইভাবে ধাতুর পাত বসানো হলো তা নিয়ে পর্যালোচনা করছেন বিজ্ঞানীরা। কেউ কেউ দাবি করেছেন, হয়তো ধাতু গলিয়ে মাথার খুলির ভাঙা অংশে ঢেলে দেওয়া হয়েছিল। আবার কোনো কোনো বিজ্ঞানীদের মতে, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথার ভিতর ক্ষত সারানোর জন্য এই পাত ব্যবহার করা হয়েছে।
এই খুলির সন্ধান পাওয়ার পরে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, তখনকার শল্যচিকিৎসা অনেকটাই উন্নত ছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে দক্ষ চিকিৎসকরা উপস্থিত থাকবেন বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে এই ধাতুর পাতে কোন ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে তা এখনো বোঝা যায়নি।
নামে আন্তর্জাতিক কিন্তু সেবা পেতে বেসামাল অবস্থা। ট্রলি ছাড়াই কেউ টানছেন লা’গেজ আবার কেউ তুলছেন মাথায়। দীর্ঘ যাত্রার পর বিমান থেকে নেমেই হেলথ ডে’স্ক আর ইমি গ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতার পর লাগেজ পেতেও কে’টে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এমন সীমাহীন দুর্ভো’গ মা’থায় নিয়েই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করছেন দেশি বিদেশি যাত্রীরা।
বন্দরের পরিস্থিতি দেখতে আসায় বিমান প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী সাংবাদিকদের বলেন, রাতারাতিই পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। মোবাইল ফোনে ধারণ করা এক চিত্রে দেখা যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেলথ ডে’স্কের সামনে যাত্রীদের ভিড়।
সেখানে দেখা মেলে ফ্লাইট থেকে নেমে ইমি গ্রেশনের লাইনে দাঁড়ানোর আগেই যেখানে পার করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বি’শৃঙ্খলভাবে সবাই একস’ঙ্গে লাইনে ঢুকে পড়ছে, তা না করে সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিলে ব্যাগ চেকটা তাড়াতাড়ি ‘হতো বলে জানান এক যাত্রী। আরেকরজন বলেন, ফরমটা আমর’া পূরণ করছি, তারা শুধু এটার ওপর সিল মে’রে একটা অংশ ছিড়ে নিচ্ছে, এটা অনলাইনভি’ত্তিক ‘হতে পারত।
সুতরাং আগে দর্শনধারী পরে গু’ণবিচারী এ প্রবাদটি সত্যি হলে প্রথম দেখায় বিমানবন্দরে নেমেই যে কারও বাংলাদেশ সম্প’র্কে জন্মাবে নে’তিবাচক ধারণা। কলকাতা থেকে ঢাকা উড়ানে সময় লাগে বড়জো’র এক ঘণ্টা।
কুয়েতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার দেশের আবহাওয়া ঠান্ডা থাকবে, পরিবর্তনশীল বায়ু উত্তর-পশ্চিম দিকে, হালকা থেকে মাঝারি, ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৫০ কিলোমিটারের গতিবেগের মধ্যে থাকবে, যার ফলে ধূলিকণা এবং কিছু বিক্ষিপ্ত মেঘের দেখা মিলতে পারে ।
প্রশাসনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষক মিঃ আব্দুল আজিজ আল-কারাউই কুয়েত নিউজ এজেন্সি (KUNA) কে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, প্রত্যাশিত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে এবং সমুদ্র হালকা থেকে মাঝারি হবে, কখনও কখনও ঢেউ উঠবে, ২ থেকে ৭ ফুটের মধ্যে।
কুয়েতে শীতল আবহাওয়া আরো ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে । সুত্রঃ আল ওয়াতন আরাবি ।
কুয়েতের বিচার মন্ত্রী জামাল আল-জালাউই “জনশক্তি” এর পরিচালক আহমেদ আল-মুসার উপর থেকে স্থগিতাদেশ শেষ করার এবং তার বিষয়ে তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত জারি করেছেন।
সিদ্ধান্তের মধ্যে স্থগিতাদেশের সময়কালে তার বেতন, যা স্থগিত করা হয়েছিল তা পুনরায় দেওয়া হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারী) কুয়েতের স্থানীয় মিডিয়া ও টুইট একাউন্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, আলোচিত ৬০ বছরের বিদেশীদের একামা নবায়ন নিষিদ্ধ করে বেশ আলোচনায় এসে চাকুরী হারিয়েছিল মিঃ আহমেদ আল মুসা।
তবে আইনটি এখনো সংশোধনের অপেক্ষায় রয়েছে, আশা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহের মধ্যে কতৃপক্ষের বিষয়টি স্পষ্ট করিবে ।
দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৮৮৮ জন। শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশে। করোনায় এ পর্যন্ত দেশে ২৮ হাজার ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে; শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ১৮২ জনে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বুধবার জানানো হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়; শনাক্ত হন ৯ হাজার ৫০০ জন; শনাক্তের হার ছিল ২৫ দশমিক ১১ শতাংশ।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৭৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৮৪৫ জন।
এতে আরও বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ৮৯৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ৪১ হাজার ২৯২টি নমুনা। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ। মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ১ জন পুরুষ, ৩ জন নারী। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২ জন করে মারা গেছেন।
বিগত ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। গেলো বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বাধিক ২৬৪ জন করে মারা যান।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় সরকারঘোষিত ১১ দফা বিধিনিষেধের মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে ডিসিদের সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিবেশন শেষে ব্রিফিংকালে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিয়ে-শাদিসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান, সামাজিক অনুষ্ঠান এখন বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরেছি। পাশাপাশি আমরা বলেছি, ল্যান্ডপোর্ট, সিপোর্ট, এয়ারপোর্টেও স্ক্রিনিং চলছে। সেগুলো যাতে ঠিকমতো দেখেন ও যাতে সেখানে ফাঁকি না দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কোয়ারেন্টাইন বিষয়েও তাদের বলেছি। কোয়ারেন্টাইন অনেক সময় স্ল্যাক হয়। কোয়ারেন্টাইনে যারা আছেন অনেক সময় ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যান এবং সংক্রামিত করে, এই বিষয়গুলো বলেছি আপনারা নজরদারিতে রাখবেন, যাতে কোয়ারেন্টাইন ঠিকমতো হয়।’