সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপ আবারও মহামারির কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। দ্রুত সংক্রমণশীল করোনার অমিক্রন ধরনের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় গোটা ইউরোপ ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করছে। ইউরোপের ৫২টি দেশে গত দুই বছরে ১০ কোটি ৭৪ হাজার ৭৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এই সংখ্যা বিশ্বব্যাপী মোট সংক্রমণের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি। খবর এএফপির। ইউরোপে শুধুমাত্র গত এক সপ্তাহে প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফ্রান্সেই গত সপ্তাহে ১০ লাখের বেশি নতুন রোগী শনাক্তের রেকর্ড ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ডেনমার্ক। দেশটিতে প্রতি এক লাখে ২০৪৫ জন মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে সাইপ্রাসে এই সংখ্যা ১৯৬৯ এবং আয়ারল্যান্ডে ১৯৬৪। তবে, সংক্রমণ বাড়লেও ইউরোপে কমছে করোনাজনিত মৃত্যু। এখন পর্যন্ত বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইউরোপে টিকাদানের হার সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের ধনী এই মহাদেশটিতে জনসংখ্যার মোট ৬৫ শতাংশ মানুষ করোনার অন্তত একডোজ টিকা নিয়েছেন। পূর্ণডোজ টিকা নিয়েছেন মোট জনসংখ্যার ৬১ শতাংশ মানুষ।
কুয়েত সিটি,০১ লা জানুয়ারি: কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার বিশ্বব্যাপী কোভিড -১৯ সংক্রমণের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার কারণে বিদেশ ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক কুয়েতি নাগরিক এবং প্রবাসীদের তাদের পরিকল্পনা স্থগিত করতে বলেছেন।
একটি প্রেস বিবৃতিতে, মন্ত্রী বলেছেন যে ভাইরাসে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি সংক্রমণ উচ্চ ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । দেশকে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা এবং এই বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ব্যবস্থাগুলি পরিবর্তন করতে বাধ্য করবে, যার মধ্যে রয়েছে লকডাউন এবং ফ্লাইট বিলম্ব বা বাতিল করা, এইভাবে এটি মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।
📌 নিউজ লিংক 👇 নিচে দেওয়া হয়েছে….
✍️ Collected, translated and posted by Nahar Hoque
কুয়েতে করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধি সহ পুরো বিশ্বে মিউট্যান্ট ওমিক্রন ছড়িয়ে পরা সত্বেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আল-কাবাস পত্রিকার মাধ্যমে আশ্বস্ত করেছে যে কুয়েতের মহামারী সংক্রান্ত পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভালো আছে। তবে এই ডিসেম্বরে মহামারী সংক্রমণের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে….
সূত্রগুলি ইঙ্গিত জানিয়েছে যে বর্তমান মহামারী সংক্রান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় আছে তাই পুনারয় (অতিরিক্ত) ইনটেনসিভ ওয়ার্ড বা ইউনিট খোলার প্রয়োজন নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর আবারো কঠোরতা জারি করতে হবে। মিউট্যান্ট এড়াতে সকলের সতর্কতা প্রয়োজন। যা দীর্ঘ দুই বছর ধরে মহামারীর মুখোমুখি হচ্ছে বিরামহীন ভাবে।
মহামারী মোকাবেলা ও পতিরোধ করতে- গণ জমায়েত এড়াতে হবে, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে, আবদ্ধ স্থানে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেনাশাবলী মেনে চলতে হবে।
ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে ফানুস ওড়াতে গিয়ে রাজধানীর অন্তত ১০টি স্থানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে মাতুয়াইল স্কুল রোডের একটি বাড়িতে ফানুস থেকে বড় ধরনের আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাজধানীর তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, রায়েরবাগসহ মোট ১০টি বাসার ছাদ ও সড়কের তারে আগুনের সংবাদ পাওয়া গেছে। প্রতিটি স্থানে ফায়ার সার্ভিসের ২টি করে ইউনিট পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে আরও বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগার খবর পেয়েছি আমরা। আমরা সেগুলো তালিকাভুক্ত করছি। তালিকা না করে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা সম্ভব না। তালিকা সম্পন্ন করার পর আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব। এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে মাতুয়াইল স্কুল রুটের একটি বড় আগুন লাগার খবর পেয়েছি আমরা। সেখানে আমাদের দুইটি ইউনিট কাজ করছে। সূত্র – বিডি প্রতিদিন
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ২৮ হাজার ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসটিতে।
শনিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আরও ৩৭০ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৯০৯ জনে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।
ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।
চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।
২০২০ সালের এপ্রিলের পর চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ।সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।
মালয়েশিয়ায় নববর্ষ উদযাপনের জন্য বাড়ির বাইরে বের হওয়া, সঙ্গে মাদক রাখা ও অন্যান্য অপরাধে যুক্ততার অভিযোগে দেশটিতে বর্ষবরণের রাতে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মালয়েশিয়ার জাতীয় দৈনিক দ্য স্টার। গ্রেপ্তার সবাই মালয়েশিয়ার উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ পেরাকের।
পেরাক পুলিশের মুখপাত্র কমান্ডার দাতুক মিয়র ফরিদালাথ্রাশ ওয়াহিদ দ্য স্টারকে জানান, শুক্রবার রাত ১২ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত- মোট ৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার করা হয় এই ২৩ জনকে।
তিনি বলেন, ‘এই ২৩ জনের মধ্যে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সরকারি আদেশ অমান্য করে বাড়ির বাইরে বের হওয়া ও সঙ্গে মাদক রাখার অভিযোগে। বাকি আটজনকে অন্যান্য অপরাধে যুক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, করোনার নতুন রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রনের বিস্তার ও দেশটির কয়েকটি রাজ্যে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ায় ২০২২ সালের বর্ষবরণ উদযাপন বাতিল করেছিল মালয়েশিয়ার সরকার। তার পরিবর্তে করোনায় আক্রান্ত ও বন্যাদুর্গতদের জন্য শুক্রবার প্রার্থনা করা হবে বলে জানানো হয়েছিল সরকারি আদেশে। শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ইসমাইল সাবরি ইয়াকোব বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়া পরিবারকে আজ রাতে পুত্রজায়ার পুত্রা মসজিদে জামায়াতে মাগরিবের নামাজ, সালাত হাজত এবং দোয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। যারা উপস্থিত হতে পারবেন না তারা রেডিও, টেলিভিশন মালয়েশিয়া এবং টিভি আল-হিজরাহ দ্বারা সরাসরি সম্প্রচার অনুসরণ করতে পারেন।’
ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মালয়েশিয়ান পরিবারের অমুসলিম সদস্যরাও তাদের নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করতে পারবেন।’
চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শনিবার (১ জানুয়ারি) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বাংলাদেশকে ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ’ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় স্মারক অনুষ্ঠানের প্রি-ইভেন্ট প্রেস ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনা বাড়ালাম। আমি যখন পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলাম সেসময় আমি নিজে স্টাডি করেছি। সেসময় আমাদের রেমিট্যান্স যা অর্জন করার কথা, আমরা ৪৯ শতাংশ অর্জন করতাম ফরমাল চ্যানেলে আর ইনফরমাল চ্যানেলে বাকিটা আসতো। আমি চিন্তা করলাম এটাকে ফরমাল চ্যানেলে আনলে আমাদের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং সবাই এটার বেনিফিটটা পাবে। সেই চিন্তা থেকে আমরা প্রথম ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করি। এরপর লক্ষ্য করলাম আমাদের যে উদ্দেশ্য সেটি সফল। আমাদের যে অ্যাভারেজ রেমিট্যান্স ছিল ১৪ শতাংশ, এই প্রণোদনা দেওয়ার পর প্রথম বছরে রেমিট্যান্স বেড়ে হলো ১৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর আমাদের রেমিট্যান্স আরও বেড়ে যায় এবং ২০২০-২১ সালে আমাদের রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। এই অর্জন আমি মনে করি একদিকে আমরা সহজ করেছি এবং পাশাপাশি ২ শতাংশ প্রণোদনা কাজে লেগেছে। কারণ রেমিট্যান্স পাঠাতে একটি খরচ করতে হয় সেটি কাভার করতে পারছে। এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ বিলিয়ন ডলার। সেটা করতে গেলে আমরা দেখলাম আমরা যদি ইনসেনটিভ আরেকটু বাড়িয়ে দেই তাহলে বর্ধিত যে খরচ তারা সেটি কাভার করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘এই রেমিট্যান্সটা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক এলাকায় কত বড় ভূমিকা রাখে সেটি অর্থনীতিবিদরা বুঝবেন এবং তারা আমার সঙ্গে একমত পোষণ করবেন যে, এটি অসাধারণ ভালো কাজ হয়েছে। আমরা একদিকে এটাকে সঠিক চ্যানেলে আনার চেষ্টা করছি, তাহলে জানতে পারি কতটা আসা উচিত আর কতটা পেলাম। যেটা পাচ্ছিলাম না সেটা ইনফরমাল চ্যানেলে চলে যাচ্ছিল। আমরা সেই চ্যানেলটাকে অনুৎসাহিত করবো এবং ফরমাল চ্যানেলেই পুরোটা অর্জন করতে চাই। সেজন্যই প্রণোদনা ২ শতাংশ ছিল সেখানে থেকে বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করা হয়েছে, আজ থেকে এটি কার্যকর হবে। আশা করি এই অর্থবছরে ২৬ বিলিয়ন অর্জন হবে।’
অর্থনীতিবিদরা বলছেন অসৎ ব্যবসায়ীরা ভিন্ন পথে টাকা পাচার করছেন এবং রেমিট্যান্স থেকে সেটা কাভার করা হচ্ছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ থেকে টাকা পাচার হয় এটা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। আপনাদের (মিডিয়া) থেকে তথ্য নিয়েই আমরা ব্যবস্থা করছি। গত কয়েকদিন আগেও কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে, অনেকেই জেলে আছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যেটি সম্ভব তা বাস্তবায়ন করছি। আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কে দোষী বা নির্দোষ সেটি কীভাবে প্রমাণ করবো? আমার যে চিন্তা সেটি হলো এখন বিদেশে টাকা রাখলে কেউ সেই টাকার ওপর কোনো লাভ পাচ্ছে না বরং দেশে ব্যাংকে টাকা রাখলে লাভ দিতে হয়। এই টাকাগুলো আমাদের কষ্টার্জিত টাকা, আমাদের ভাইবোন যারা বিভিন্ন ব্যবসা ও পেশায় জড়িত তারাই এ অর্থটি পাঠায়। আমরা চাই এই অর্থ দেশের মানুষের কাজে আসুক। দেশের সরকারের কাছে আসুক। সরকার যদি এই অর্থটি সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে সরকার অর্থবহভাবে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইম্পোর্ট বাড়বে, ইম্পোর্ট বাড়া ভালো। ইম্পোর্ট বাড়লে এক্সপোর্টও বাড়বে। আমাদের এক্সপোর্টও বেড়েছে। আমরা যতই রপ্তানি করি তার সিংহ ভাগই ইম্পোর্ট খাতে চলে যায়। তবুও আমাদের এক্সপোর্ট বাড়াতে হবে, আমরা সেই কাজটি অব্যাহত রেখেছি। আমরা কয়েকটি খাতকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছি। এবং সেখানেও বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিয়ে থাকি। এগুলোর মূল কথাটা হলো একটু সাহায্য-সহযোগিতা করা। আমাদের উদ্দেশ্য হলো দেশের টাকা যারা যেখান থেকে অর্জন করুক দেশে আসুক। দেশে আনার জন্য যা যা বাস্তবায়ন করা দরকার আমরা করবো।’
আজ শনিবার শুরু হচ্ছে নতুন বছর, নতুন শিক্ষাবর্ষ। প্রতিবছর এই দিনে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসব করে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হলেও করোনার সংক্রমণের কারণে গতবারের মতো এবারও উৎসব করে বই দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বই দেবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় একেকটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভাগ করে বিভিন্ন দিনে বই দেওয়ার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে বছর শেষ হলেও মাধ্যমিক স্তরের বিপুল পরিমাণ বই এখনো ছাপা শেষ হয়নি। তবে প্রাথমিকের প্রায় সব বই ছাপা শেষ হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই ছাপার কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এবার মাধ্যমিকের বিনা মূল্যের মোট পৌনে ২৫ কোটি বইয়ের মধ্যে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় পৌনে ২২ কোটি বই ছাপা হয়েছে। এর মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে প্রায় ২০ কোটি বইয়ের। মাধ্যমিকের বাকি বই ছাপার কাজ শেষ হতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন শিক্ষাবর্ষে (২০২২) প্রতিদিন কয়টি করে ক্লাস হবে, তার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রেণিভেদে সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে এসব ক্লাস হবে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে প্রতিদিন চারটি বিষয়ের ওপর ক্লাস নিতে হবে। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে প্রতিদিন তিনটি বিষয়ের ক্লাস নেওয়া হবে। অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে দুদিন ক্লাস হবে। এই দুদিনের প্রতিদিন তিনটি করে বিষয়ের ওপর ক্লাস নিতে হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে এক দিন তিনটি বিষয়ে ক্লাস নেওয়া হবে। প্রাথমিকে শ্রেণি কার্যক্রম হবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছিলেন, করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি মার্চ পর্যন্ত দেখা হবে। এর মধ্যে সংক্রমণ না বাড়লে তারপর শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে মিল রেখেই স্বল্প পরিসরে ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইনেও শ্রেণি কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে।
বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে দেড় গুণ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীর সংখ্যা দেড় গুণ বেড়েছে। সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থাটি তাদের ‘লেবার মাইগ্রেশন ফ্রম বাংলাদেশ ২০২১: অ্যাচিভমেন্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, এ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৮৯৩ জন বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী দেশের বাইরে গেছেন। তাদের মধ্যে ৬৮ হাজার ৫৭৯ জন নারী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৯৯ জন কর্মী দেশের বাইরে যান। এতে আরও জানানো হয়, ২০১৯ সালে মহামারি-পূর্ব পরিস্থিতিতে ৭ লাখ ১৫৯ জন কর্মী দেশের বাইরে যান। তবে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ অভিবাসীর সংখ্যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম হতে পারে। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আরএমএমআরইউ এই প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করে। আরএমএমআরইউ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী জানান, গত বছর অভিবাসন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছিল। সেদিক বিবেচনায় ২০২১ সালে ৪ লাখ ৮০ হাজার কর্মীর অভিবাসন খুব একটা হতাশাজনক সংখ্যা নয়। এ বছর সর্বোচ্চ অভিবাসী কর্মী গেছেন কুমিল্লা (১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ) ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া (৮ শতাংশ) থেকে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে ৭৩ দশমিক ৫৯ শতাংশই ‘স্বল্প দক্ষ’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৬৪৬ জন অভিবাসী কর্মী (৪ হাজার ৪৪৭ জন নারীসহ) ‘আউট পাস’ নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। এ বছর দূতাবাসগুলো অবৈধ অভিবাসীদের এই নথি দিয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ লাখ ৮ হাজার অভিবাসী গত বছর মহামারির সময় দেশে ফিরে এসেছেন। ‘এতে বোঝা যায়, মহামারির মধ্যে (অভিবাসী কর্মীদের) চাকরি হারানোর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে’, বলে প্রতিবেদনে যোগ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মহামারির মধ্যে ৪ লাখ ১০ হাজার ১০২ জন অভিবাসীর ৯৪ শতাংশই সৌদি আরব ও ওমানে গেছেন। এ বছরের নভেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স হিসেবে বাংলাদেশ ২০ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২১ সালের শেষ নাগাদ রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। আরএমএমআরইউ জানায়, শ্রমিক নিয়োগে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রম বাজার সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ‘তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীর মালয়েশিয়া যাওয়াসহ অন্যান্য সফলতাগুলো অনেকাংশেই নিয়োগসংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর নির্ভর করবে’, যোগ করেন অধ্যাপক তাসনিম।