বাংলাদেশ ২০৩৬ সালে বিশ্বের ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে

অর্থনৈতিক বিকাশের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি শনিবার রাতে প্রকাশিত হয়।

এতে মূলত সামনের বছর এবং আগামী ১৫ বছরে বিশ্বের কোন দেশের অর্থনীতি কী হারে বাড়বে, এরই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সিইবিআর প্রতিবছর এই রিপোর্ট প্রকাশ করে। এটি সংস্থাটির ১৩তম প্রতিবেদন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর মাত্র ৮ বছর পরেই চীন হবে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি। ২০৩১ সালে ভারত হবে তৃতীয়। আর এ সময় দ্বিতীয় হবে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি চতুর্থ ও জাপান পঞ্চম। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব অর্থনীতি ডলারে একশ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।

সিইবিআর বলছে, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ২০২২ সালে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ৪১তম, ২০২৬ সালে ৩৪তম ও ২০৩১ সালে ২৯তম। ২০৩৬ সাল নাগাদ ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বহু ধাপ ওপরে উঠে হবে ২৪তম অর্থনৈতিক শক্তি। অর্থাৎ আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১৮ ধাপ এগিয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের মধ্যেও কিছুটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে, সামনের বছরগুলোয় বাংলাদেশে ধারাবাহিক এবং জোরালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে জানিয়েছে সিইবিআর।

সংস্থাটি বলছে, কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর আগের বছরগুলোয় বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ছিল বেশ ভালো। বিশ্বের অন্যান্য দেশে কোভিড-১৯ যেভাবে ছড়িয়েছে, সে তুলনায় বাংলাদেশে সংক্রমণ অনেক সীমিত রাখা গেছে। চলতি ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মারা গেছে প্রতি ১ লাখে ১৭ জন। মহামারির কারণে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব কিছুটা কম থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু অন্য অনেক দেশে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলেও বাংলাদেশ তা এড়াতে পেরেছে। ২০২০ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে, যা অন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি বড় অর্জন। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। আর ২০২১ সালে প্রবৃদ্ধি হবে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশটিতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহতভাবে বেড়েছে। পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে গড়ে ১ শতাংশ হারে। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে মূল চালিকাশক্তি ছিল প্রবাসী আয় ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি।

সিইবিআর বলছে, এক দশক ধরে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। এর পেছনে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট, পোশাক খাতের মাধ্যমে ব্যাপক রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, স্থিতিশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি অর্থনীতি, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন।

সিইবিআর বলছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৩৩ ডলার। এই হিসাবটা পিপিপি বা পারচেজিং পাওয়ার (ক্রয়ক্ষমতা) প্যারিটিকে হিসাবে নিয়ে করা। বাংলাদেশকে এখন একটি নিুমধ্যম আয়ের দেশ বলে গণ্য করা হয়। ২০৩৬ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রথম ২৫টি দেশের তালিকায় যুক্ত হবে তিনটি নতুন দেশ: ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশ। এর মধ্যে ভিয়েতনামের অবস্থান হবে ২০, বাংলাদেশের ২৪ ও ফিলিপাইনের ২৫। এ সময় যেসব অর্থনীতিকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যাবে তার মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ডেনমার্ক, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা, ইসরাইল, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, সুইডেন ও তাইওয়ান। বর্তমান বিশ্ব সূচকে এই দেশগুলো বাংলাদেশের ওপরে, কারণ তাদের অর্থনীতি বাংলাদেশের চেয়ে বড়।

কুয়েতে প্রচন্ড শীতের আভাষ”

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কুয়তে প্রচন্ড শীতের আভাষ দেখা যাচ্ছে, গতকাল শনিবার থেকে আজ রবিবার শীতের প্রব্ল প্রকোপ দেখা যাচ্ছে ।

রবিবার (২৬ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, আবহাওয়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় হালকা থেকে মাঝারি বাতাসের সাথে ঠান্ডা থাকবে, উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ১৫-৪৫ কিমি. বেগে সক্রিয় হবে এবং কিছু বিক্ষিপ্ত মেঘ দেখা যাবে।

আবহাওয়াবিদরা জানান যে, দিনের তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে এবং রাতে ৯ ডিগ্রিতে নেমে যাবে।

দেশে,করোনায় আরও ৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৬৮

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ হাজার ৬০ জনে। 

রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৬৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। দেশে বর্তমানে মোট শনাক্ত রোগী ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ২৫৩ জন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের ৫ ও ১০ আগস্ট দুদিন সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় চলতি বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু-হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

চলতি বছরের গত ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। 

এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

২০২০ সালের এপ্রিলের পর চলতি বছরের ১৯ নভেম্বর প্রথম করোনাভাইরাস মহামারিতে মৃত্যুহীন দিন পার করে বাংলাদেশ।সর্বশেষ দ্বিতীয়বারের মতো ৯ ডিসেম্বর মৃত্যুশূন্য দিন পার করেছে দেশ।

২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে আগামী বছরের রোজা

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

এপ্রিলের ২ তারিখ থেকে শুরু হবে আগামী ২০২২ সালে রোজা। মিশরের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড জিওফিজিক্সের বিবৃতির বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জাতীয় দৈনিক গালফ নিউজ।

মিশরের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গালফ নিউজকে বলেন, ১ এপ্রিল আরবি শাবান মাসের ২৯ তারিখ পড়েছে। সেই হিসেবে ওইদিন রাতেই আকাশে পবিত্র রমজানের বাঁকা চাঁদ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি; আর ওই দিন যদি চাঁদ দেখা যায়, সেক্ষেত্রে ২ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে রোজা।

বিশ্বজুড়ে দিন, মাস ও বছর গণনার দুটি পদ্ধতি রয়েছে- সৌর পদ্ধতি ও চান্দ্র পদ্ধতি। সূর্যের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তৈরি পঞ্জিকাকে বলা হয় সৌর পঞ্জিকা এবং চাঁদের গতিবিধি হিসেব করে তৈরি পঞ্জিকাকে বলা হয় চান্দ্র পঞ্জিকা। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সৌর পঞ্জিকা অনুসরণ করলেও মধ্যপ্রাচ্যের আরবি ভাষাভাষী দেশগুলো চান্দ্র পঞ্জিকা মেনে চলে।

আরবি পঞ্জিকার নবম মাস হলো রমজান, যাকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয় মুসলিম সংস্কৃতিতে। এই মাসের শেষেই আসে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর।

বিশ্বজুড়ে ৬,৩০০ ফ্লাইট বাতিল ওমিক্রন আতঙ্কে।

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বিশ্বজুড়ে ক্রিসমাস উইকেন্ডে ওমিক্রন আতঙ্কে ছয় হাজার তিন শ’রও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিলম্বিত হয়েছে হাজার হাজার ফ্লাইট। শনিবার ওয়েবসাইট সূত্রে এ কথা জানা গেছে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার.কম-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে শনিবার প্রায় দুই হাজার আট ’শ ফ্লাইট বাতিল করা হয়ছে। এর মধ্যে ৯৭০টিরও বেশি হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা-যাওয়ার ফ্লাইট। এছাড়া আট হাজারেরও বেশি ফ্লাইটে বিলম্ব ঘটেছে।

এদিকে শুক্রবার বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে দুই হাজার ৪০১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া আরো প্রায় ১০ হাজার ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।

ফ্লাইটঅ্যাওয়ার.কম আরো বলছে, ওমিক্রন আতঙ্কে ক্রিসমাস উইকেন্ডে এক যুক্তরাষ্ট্রেই যত সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তা সারা বিশ্বে বাতিল হওয়া মোট ফ্লাইটের এক-চতুর্থাংশের বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং ডেল্টা এয়ারলাইন্স মিলেই শুক্রবার একদিনে বাতিল ঘোষণা করে প্রায় ২৮০টি ফ্লাইট।

এয়ারলাইন্স দু’টির দাবি, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে কর্মী সঙ্কট দেখা দেয়ায় তারা ফ্লাইট বাতিল করছে।

এদিকে এবিসি নিউজ জানায়, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স শুক্রবার প্রায় দুই শ’টি ফ্লাইট বাতিল করেছে , যা সংস্থাটির মোট ফ্লাইটের ১০ শতাংশ। এয়ারলাইন্সটি শনিবার প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

অন্যদিকে ডেল্টা এয়ারলাইন্স শনিবার বাতিল করেছে ৩১০টি ফ্লাইট।

চীনা এয়ারলাইন্সগুলোও সর্বোচ্চ সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করেছে। চায়না ইস্টার্ন বাতিল করেছে এক হাজারেরও বেশি ফ্লাইট।

শুক্রবার ও শনিবার এয়ার চায়না বাতিল করেছে তার নির্ধারিত ফ্লাইটের ২০ শতাংশ।

ডেল্টা এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বড়দিনের ছুটি উপলক্ষে প্রতিবছরই বিপুল যাত্রীর চাপ থাকে। বিগত বছরগুলোতে আমরা ভালোভাবেই সেই চাপ সামলেছি। কিন্তু এবার যে পরিস্থিতি, তাতে আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না।’

এর আগে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে জানায়, চলতি সপ্তাহে দেশে ওমিক্রনের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে ফ্লাইট ক্রু এবং অপারেশন পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। যার কারণে দুর্ভাগ্যবশত কিছু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত করোনার ওমিক্রন ধরনে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রতগতিতে বাড়ছে।

শুক্রবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন করে এখানে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৪৪ হাজার ৪৩১ জন আক্রান্ত হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ক্রিসমাস উপলক্ষে ছুটি ও ভ্রমণ মৌসুমেও ফ্লাইট বাতিলে বাধ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খুলনায় করোনার টিকা নেয়ার পর জ্ঞান হারালো কয়েক শিক্ষার্থী।

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

খুলনা নগরীর শের এ বাংলা রোডে আজ রোববার সকাল সরকারি ল্যাবরেটরী স্কুলের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হয়েছে। টিকা নেয়ার পর কেন্দ্রের বাইরে এসে ৫/৬ জন শিক্ষার্থীকে অজ্ঞান হয়ে পড়তে দেখা যায়। মাথায় দীর্ঘক্ষণ পানির ছিটা দিয়ে তাদের জ্ঞান ফেরানো হয়। এ সময় অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। টিকার কারণে শিশু শিক্ষার্থীরা জ্ঞান হারিয়েছে বলে অনেকেই বলতে থাকেন।
তবে জানা গেছে, টিকার কারণে নয়, স্রেফ আতংকে তারা জ্ঞান হারিয়েছিল। একজন অভিভাবক জানান, আগে থেকেই তার সন্তান শুনেছিল, টিকা নিলে জ্বর হয়, শরীরে ব্যাথা হয়। এমনকি মানুষ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই আতংকে টিকা নেয়ার পর সে ভয়ে জ্ঞান হারিয়েছিল।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, টিকা নিয়ে আতংকে শিশুরা জ্ঞান হারাতে পারে। টিকার কারণে অচেতন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

নিখোঁজের দুইদিন পর যুক্তরাষ্ট্রে ইমামের লাশ উদ্ধার।

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

সোমলিয়ান বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ হাসান আদম কলম্বাস সিটির অহিও এলাকার আবু হুরাইরা মসজিদের ইমাম ছিলেন। গত বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই বলে তার পরিবার জানায়।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের একটি মসজিদের নিখোঁজ ইমামের লাশের সন্ধান পেয়েছে কলম্বাস সিটি পুলিশ। হয়। গত শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় বিকাল তিনটার দিকে একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা।


জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার পর কলম্বাস ওহিও সিটির উত্তরে ইমামের গাড়ির খবর পায় স্বেচ্ছাসেবক দল। এরপর খবর পেয়ে কলম্বাস পুলিশ ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসে।

গত বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) মোহাম্মদ হাসান আদম স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় নিখোঁজ হন। সর্বশেষ তাকে আবু হুরায়রা মসজিদে দেখা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের পর ওহিও সোমালিয়ানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল এলাকা।

সূত্র : আলজাজিরা

মুরগি নাকি ডিম আগে?

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

মুরগি নাকি ডিম আগে? যুগ যুগ ধরে এই নিয়ে তর্ক চলেছে। কিন্তু কোনটি আগে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই গিয়েছে। গবেষকদের একটি অংশের দাবি মুরগি আগে এসেছে। আবার অপর একটি অংশ বলেন না, মুরগি নয়, ডিমই আগে।
কোনটি আগে তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা চলেছে। সম্প্রতি সেই রহস্যের সমাধান করেছেন এক দল গবেষক। তাদের দাবি, ডিম নয়, মুরগিই আগে। আর সেটা প্রমাণসহ প্রকাশ্যে এনেছেন তারা।
ব্রিটেনের শেফিল্ড এবং ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা চালানোর পর সেই প্রশ্নের জবাব তারা খুঁজে পেয়েছেন। গবেষকদের দাবি, ডিমের মধ্যে যে সাদা অংশটি থাকে তাতে ওভোক্লিডিন (ওসি-১৭) নামে প্রোটিন থাকে।
তারা বলেন, ডিমের সৃষ্টিতে প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রয়েছে। আর এই ওভোক্লিডিন প্রোটিন মুরগির গর্ভাশয়ে পাওয়া যায়। গবেষকদের দাবি, এর থেকে প্রমাণিত যে, প্রথমে মুরগি এসেছে। তারপর তার গর্ভাশয়ে ওভোক্লিডিন প্রোটিন তৈরি হয়েছে। সেই প্রোটিন থেকেই ডিমের সৃষ্টি।
তবে এ তো না হয় জানা গেল যে মুরগি আগে এসেছে। কিন্তু সেই মুরগি পৃথিবীতে প্রথম কী ভাবে এল তা নিয়ে কোনও জবাব দিতে পারেননি গবেষকরা। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, নিউজ ১৮, টরেন্টো স্টার।

২৩০ দিন পরও মস্তিষ্কে পাওয়া যাচ্ছে ভাইরাস!

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

করোনাভাইরাসের নতুন প্রজাতি ওমিক্রন। এর আগে ডেলটাসহ আরও একাধিক প্রজাতির তথ্য প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। করোনার নতুন তথ্য প্রতিদিনই কিছু না কিছু শিক্ষা দিচ্ছে। ডেলটায় একের পর এক মানুষ আক্রান্ত এবং হাসপাতালে ছিল না খালি বেড। ডেলটার ধাক্কা শেষ হতে না হতেই করোনার নতুন প্রজাতি ওমক্রিন আক্রান্ত দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ইতোমধ্যে করোনার ওমক্রিন প্রজাতি নিয়ে একাধিক গবেষণা হয়েছে। আর গবেষকদের তথ্য বলছে, ডেলটার মতো ওমিক্রন মারাত্মক নয়। তবে দ্রæত সংক্রমন ঘটাতে সক্ষম। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এই কথাটি মেনে নিয়েছেন যে, করোনাভাইরাস মানুষের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করছে। এমনকী কোভিড থেকে সেরে ওঠার পরও শরীরে ঘটে যাচ্ছে নানা পরিবর্তন। প্রশ্ন হচ্ছে সেই পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে হয়তো বেশিরভাগ মানুষ কিছুই জানে না। তবে গবেষণায় উঠে আসছে সেই বিষয়গুলো। কিছুক্ষেত্রে জানা যাচ্ছে, করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পরও শরীরে থেকে যাচ্ছে এই ভাইরাস। আর সুস্থ হওয়ার পর এই ভাইরাস সম্পর্ক আক্রান্তরা কিছু বুঝতেই পারছেন না।
করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও শরীরে থাকে সেই ভাইরাস। এমনকী মৃদু উপসর্গ বা মাঝারি উপসর্গ থাকা মানুষের শরীরেও এই ভাইরাস মাসের পর মাস লুকিয়ে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, হৃদপিÐ, চোখ, স্নায়ু এবং মস্তিষ্কে দেখা মিলছে এই ভাইরাসের।
এই গবেষণা সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে ভাইরাস মূলত ফুসফুসকেই আক্রান্ত করছে না। শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও এই ভাইরাস নিজেকে ছড়িয়ে রেখেছে। আর সে জন্যই এই রোগটিকে শুধুমাত্র ফুসফুসের রোগ ভাবা ঠিক হবে না।
এক্ষেত্রে করোনায় মৃত ৪৪ জন মানুষের অটোপসি করেন বিজ্ঞানীরা। তারা বুঝতে চেষ্টা করেন, শরীরের অন্যান্য অংশে ঠিক কী প্রভাব ফেলে এই ভাইরাস। এছাড়া ভাইরাস কী ভাবে শরীরে অন্যান্য জায়গায় পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে কী ভাবে নিজেদের সংখ্যা বাড়িয়ে তোলে তাও দেখা হয়।
গবেষকর বলছেন, কোভিড শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যায়। এক্ষেত্রে যারা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাদের পাশাপাশি যারা উপসর্গহীন বা মৃদু উপসর্গযুক্ত তাদেরও একই সমস্যা হয়।
এমনকী এই গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিডের লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২৩০ দিন পরও মস্তিষ্কে পাওয়া যাচ্ছে ভাইরাস! ভাবা যায়! তবে এই ভাইরাসের কোনও ক্ষমতা নেই। এই ভাইরাস মৃত। তাই গবেষকরা মতামত দিচ্ছেন, কোভিড একটি সিস্টেমেটিক ইনফেকশন। এই সংক্রমণ শরীরে মাসের পর মাস বাঁচতে পারে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

টাকার অপেক্ষায় গ্রাহকই-কমার্সের ১ হাজার ১০২ কোটির বেশি টাকা আটকা

রোববার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১১ পৌষ ১৪২৮, ২১ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে লোভনীয় অফার ঘোষণা করে শতাধিক প্রতিষ্ঠান হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। অফার ঘোষণার পর ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে করেছেন বিনিয়োগ। আর এসব টাকা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা কেউ পাচার করেছেন দেশের বাইরে। কেউবা আত্মসাৎ করেছেন নিজেরাই। অন্যদিকে গ্রাহকদের দিনের পর দিন পণ্য না দিয়ে দিয়েছেন আশ্বাস।

সম্প্রতি আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির মাধ্যমে এই খাতে প্রতারণার মুখোশ উন্মোচিত হয়। একে একে বের হতে থাকে ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, সিরাজগঞ্জ শপ, রিং আইডি, কিউকম, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, দালাল প্লাস, বাজাজ কালেকশন, টুয়েন্টিফোর টিকেট ডট কম, গ্রিন বাংলা, এক্সিলেন্ট ওয়ার্ল্ড এ্যাগ্রো ফুড এন্ড কনজ্যুমারস, গিøটার্স আরএসটি ওয়ার্ল্ডসহ বিভিন্ন প্রতারণাকারী প্রতিষ্ঠানের থলের বেড়াল। প্রতারণার শিকার হওয়া গ্রাহকরাও মুখ খুলতে থাকে। মামলাও করেন অনেকে। এরপর গ্রেফতার করা হয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক, পরিচালক, কর্মকর্তাদের।

আর এতেই মামলা হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও আটকে গেছে গ্রাহকের টাকা। এই টাকা তারা কবে ফেরত পাবে তারও কোন সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগাম অর্থ পরিশোধ করে এখন টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় তারা। নিজের টাকা বিনিয়োগ করে আহাজারি করছেন লাখ লাখ গ্রাহক। দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এসব প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের দফতরে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তার তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পুলিশ সদর দফতরকে পাঠাতে বলা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকী প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত। আর ইভ্যালির কাছে আটকে থাকা টাকা কবে, কীভাবে ফেরত হবে, তার এখনো কোন পরিকল্পনা হয়নি। হাইকোর্ট নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদ এখন ইভ্যালির দায়দেনা ও আর্থিক চিত্র বোঝার চেষ্টা করছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরো আগেই ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ ছিল। এক বছর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত কমিটি করলেও অদৃশ্য চাপে থেমে যায় তদন্ত। ফলে নির্দেশনা আসতেও সময় লেগেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর লোপাট করা অর্থের ভাগ পৌঁছেছে নানা নীতিনির্ধারক ও ই-কমার্স ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছেও। ফলে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি গতি পাচ্ছে না।

এদিকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩০ জুনের পর গ্রাহকদের টাকা আটকে পড়েছে ২১৪ কোটি টাকা। আগে থেকে আটকে ছিল ২৯৮ কোটি টাকা। পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় হতাশা রয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও। তারা বলছেন, গ্রাহক স্বার্থ রক্ষার জন্য এসক্রো সার্ভিস চালু করা হলেও তা এখন গ্রাহকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদেশী ই-কমার্স জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে অস্থিরতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি অশুভ লক্ষণ। দ্রæত গ্রাহকদের আস্থা অর্জন এবং সঙ্কটের সমাধান না করলে অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠান ফিরে যাবে।

বিগত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাজধানীর যানজট, নগরবাসীর ব্যস্ততাসহ নানা কারণেই এই মাধ্যমে ঝুঁকছিলেন মানুষ। আর করোনার আঘাত ই-কমার্সে সম্পৃক্ত করেছে মুদি দোকানী, ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষকেও। কিন্তু হঠাৎ করে এই খাতে গজিয়ে উঠা ব্যবসায়ী, প্রতারণার মানসিকতায় সম্পৃক্ত হওয়া, গ্রাহকদের অতিলোভের কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে সম্ভাবনাময় এই খাত। আর এদের অনৈতিক কর্মকান্ড ও প্রতারণার কারণে গ্রাহকদের আস্থা হারাচ্ছে অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা যায়, দেশে বর্তমানে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। আর এফ-কমার্স (ফেসবুকভিত্তিক) আছে আরও ৫০ হাজারের বেশি। কোটি কোটি মানুষের হাতে হাতে থাকা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সহজেই পণ্য সামগ্রী ভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দেয়ার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকচক্র রাতারাতি অনলাইনে পণ্য সরবরাহ ও পরিষেবার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশিক্ষিত, অপ্রশিক্ষিত, প্রতারণার উদ্দেশ্যে যে যেভাবে পেরেছে ইচ্ছেমত একটি ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুকে পেজ খুলে শুরু করেছে ই-কমার্স ব্যবসা। যার জন্য প্রয়োজন হয়নি কোন লাইসেন্স, নেই কোন নীতিমালা, জবাবদিহিতাও নেই কারো কাছে।

টাকার অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের অভিযোগ, যুবক, ডেসটিনি, ইউনিপেটু, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা এই সবগুলো একই সূত্রে গাঁথা। প্রতিটিতেই একইভাবে গ্রাহককে নিঃস্ব করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। আর দোষীদের বিরুদ্ধে লোক দেখানো আইনি ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া আর কোন উদ্যোগ নেয়নি সরকার। বরং যাদেরকে ধরা হচ্ছে তারা অর্থ ফেরত না দিয়ে কারাগারে বা মুক্তি পেয়ে আলিশান জীবন-যাপন করছে। অন্যদিকে সারাজীবনের সঞ্চিত পূঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন অনেকেই।

আজকের ডিল ও বিডিজবস এর সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের জন্য সকলের বদনাম হতে পারে না। বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠান ভাল সেবা দিচ্ছে এবং এই কারণে এই বিকশিত হচ্ছে। সেবা না পেলে ভোক্তারা এখানে আসতো না। তাই যারা সঠিক সেবা দিচ্ছে তাদের বিষয়টি ক্রেতা সাধারণকে জানানো উচিত।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেছেন, এখানে শুধু ভোক্তারা আছেন, তা নয় কিছু ব্যবসায়ীও আছেন। যারা পণ্য কিনে আবার বিক্রি করেছেন। ইনভেস্ট করেছেন বলা যায়। সবার উচিত ছিল বুঝেশুনে কাজটি করা। কিছু আইনগত সীমাবদ্ধতাও ছিল। এখন সরকার কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

এসক্রো সার্ভিসেও আটকে আছে টাকা: সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না পেলে পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহকরা- গত জুন মাসে এসক্রো সার্ভিস চালু করে ই-কমার্স গ্রাহকদের এমন আশ্বাস দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এই আশ্বাসে ২১৪ কোটি টাকা অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করেও পণ্য না পাওয়া বিপুল সংখ্যক গ্রাহক এখনও তাদের পাওনা অর্থ ফেরত পাচ্ছে না। কবে নাগাদ এ অর্থ ফেরত দেওয়া যাবে, তাও বলতে পারছেন না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এমনকি যেসব কোম্পানির নামে প্রতারণার মামলা নেই, সেসব কোম্পানির গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা দিলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সারাদেশে কোন কোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নামে মামলা হয়েছে, আর কার নামে মামলা হয়নি, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিংবা সরকারের অন্যান্য সংস্থাগুলোর কাছেই। তাই গত ২১ ডিসেম্বর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সব মামলার তথ্য সাত দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে জানাতে পুলিশ সদর দফতরকে বলেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, গত ৩০ জুন চালু করার পর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত থার্ডপার্টি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ই-কমার্স গ্রাহকরা ৫০৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থ প্রদান করেছেন। গেটওয়েগুলো সেলারদের কাছে প্রায় ২৯১ কোটি টাকা ছেড়েছে, তবে এখনও আটকে আছে ২১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে পুলিশের অনুরোধে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের ১৬৬ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আনলকের আদেশ জারি না করা পর্যন্ত কিউকমের গেটওয়ে ফস্টার টাকা ফেরত দিতে পারবে না। ফস্টার ছাড়াও আরও ৪৮ কোটি টাকা আটকে আছে এসএসএল, সূর্যমুখী, বিকাশ, নগদ এবং সাউথইস্ট ব্যাংকে। এর বাইরে ৩০ জুন পর্যন্ত ইভ্যালিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্যের জন্য অগ্রিম জমা দেয়া গ্রাহকদের ৩৮৭ কোটি টাকা আটকে আছে।

এ বিষয়ে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, যেসব ই-কমার্স কোম্পানির নামে মামলা রয়েছে, প্রয়োজনে সেসব মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি করে গ্রাহকদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এসক্রো সার্ভিস এখনও ম্যানুয়ালি পরিচালিত হচ্ছে, এটাকে অটোমেটেড করা প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-কমার্স কোম্পানিগুলো পণ্য ডেলিভারি করতে ব্যর্থ হলে গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা ফেরত পাবে- এমন ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রাহকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তমাল বলেন, নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে অস্বাভাবিক অফার দেয়া পণ্য কেনাকাটায় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সমন্বয়ক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, মামলার কারণে অভিযুক্ত ই-কর্মাসগুলোর গ্রাহকদের টাকা আটকে আছে। এজন্য পুলিশকে বলা হয়েছে, কাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে। ৬০০ কোটির বেশি টাকা আটকে আছে। ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরত পাবেন।

অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, যেসব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের বকেয়া অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ফেরত দেয়া হবে। এ কারণেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সকল মামলার তথ্য জানাতে পুলিশ সদর দফতরকে বলা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পেমেন্ট গেটওয়েগুলোকে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাকী প্রতিষ্ঠানগুলোর টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে মামলার রায় হওয়া পর্যন্ত।