দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ২৩৫ মৃত্যু হয়েছে।এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ২১ হাজার ৩৯৭ জনে। একই সময়ে দেশে করোনায় নতুন শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৬ জন। ফলে করোনায় মোট শনাক্তের সংখ্যা হলো ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩ জনে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল ২৪৬ জন এবং শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৯৮৯ জন।
ঢাকায় বসবাসরত বস্তিবাসীরাও থাকবেন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ফ্ল্যাটে।চার হাজার ৫০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকবেন তারা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬৭৩ বর্গফুট। প্রতিদিন ১৫০ টাকা কিংবা সপ্তাহে এক হাজার ৫০ টাকা করে ফ্ল্যাটের ভাড়া পরিশোধ করা যাবে।
২০১৭ সালে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত বস্তিবাসীদের জন্য ৩০০ ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী।
১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য সর্বমোট ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ১৪৮ কোটি টাকা। মঙ্গলবার ৩০০ পরিবারের হাতে বরাদ্দপত্র দেওয়ার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে আরও ১০০১টি পরিবারকে। ওই বস্তিতে থাকা ১০ হাজার পরিবার নতুন ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ পাবেন।
এই বস্তির পরিবারগুলো আগে ফ্ল্যাটে বসবাস করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
জাতীয় গৃহায়ন অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জোয়ারদার তাবেদুন নবী বলেন, ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে পাঁচটি ভবনের তিনটি আগামীকাল (মঙ্গলবার) উদ্বোধন হচ্ছে। বাকি দুটি পরবর্তী সময়ে হবে। এ পাঁচটি ভবনে ৫৩৩টি ফ্ল্যাট থাকবে। সেখান থেকে মঙ্গলবার ৩০০টি হস্তান্তর করা হবে। পরবর্তী প্রকল্পে এক হাজার একটি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। ধাপে ধাপে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।
মারণভাইরাস করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনায় দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ১৬২ জনে। এ ছাড়া নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯৮৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২ লাখ ৮০ হাজার ৩১৭ জনে।
আজ সোমবার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, দেশে করোনার ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ ২৫৮ জনের মৃত্যু হয় ২৭ জুলাই। এছাড়াও ১১ জুলাই ২৩০ জন, ১২ জুলাই ২২০ জন, ১৩ জুলাই ২০৩ জন, ১৪ জুলাই ২১০ জন, ১৫ জুলাই ২২৬ জন, ১৬ জুলাই ১৮৭ জন, ১৭ জুলাই ২০৪ জন, ১৮ জুলাই ২২৫ জন, ১৯ জুলাই ২৩১ জন, ২০ জুলাই ২০০ জন, ২১ জুলাই ১৭৩ জন, ২৬ জুলাই ২৪৭ জন, ২৮ জুলাই ২৩৭ জন, ২৯ জুলাই ২৩৯ জন, ৩০ জুলাই ২১২ জন এবং ৩১ জুলাই ২১৮ জনের মৃত্যু হয়।
দেশে করোনার ডেলটা ধরনের দাপটের মধ্যে শনিবার এভাবে গাদাগাদি করে ফেরি পার হয়ে ঢাকায় আসেন শ্রমিকেরা, এই যাত্রা সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা ফাইল ছবি
করোনাভাইরাস সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৮৪৪ জন।
আজ রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় আজ করোনায় মৃত্যু ও নতুন রোগী শনাক্ত দুটোই বেড়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৯ হাজার ৫২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আগের দিন ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৯ হাজার ৩৬৯ জন। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩২৮। মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার ৯১৬ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৯৩ হাজার ২৬৬ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৫ হাজার ৫৪ জন।
দেশে এক সপ্তাহে করোনায় মৃত্যুর চিত্র
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে ৪৪ এবং রংপুর বিভাগে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ।
এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে। গত জুলাই মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৮২ জনের। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা এই মহামারিতে এর আগে কোনো মাসে এত মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ। এর আগে বেশি মৃত্যু হয়েছিল গত এপ্রিলে ২ হাজার ৪০৪ জনের।
দেশে এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের চিত্র
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে গত মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল করা হয়। ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন চলছে।বিজ্ঞাপন
ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের শহর থেকে গ্রামে যাওয়া এবং তাদের ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি ঈদ ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল। ঈদের পরে করোনায় মৃত্যু ও রোগী শনাক্ত আগের চেয়ে বেড়েছে।
২৪ ঘণ্টায় বিভাগওয়ারি মৃত্যু
এরমধ্যে রোববার থেকে তৈরি পোশাকসহ সব ধরনের রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা চালু হয়েছে। গত শুক্রবার কারখানা খোলার ঘোষণা দিলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকার পথ ধরেন। বিধিনিষেধে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ট্রাক, পিকআপভ্যান, অটোরিকশায় গাদাগাদি করেন আসেন শ্রমিকেরা। ফেরিতে গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে পদ্মা পার হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এতে নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুসারে, করোনার ডেলটা ধরনের কারণে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপক বেড়েছে। বিশ্বে গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ২১ শতাংশ। আঞ্চলিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সংক্রমণ নতুন করে বাড়ছে। এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
মহামারি শুরুর পর থেকে করোনার ধরনগুলোর মধ্যে ডেলটা সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এটি আগের যেকোনো ধরনের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশসহ এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৩২ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া এ ধরন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ কোটি ৬৫ লাখ ৫৩ হাজার ৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪২ লাখ ৪১২ জনের।
ডব্লিউএইচও বলেছে, সাত দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শনিবার দেওয়া তথ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, ৯০ হাজার ৬৬০ জন। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ৪০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে (মৃত্যুর তালিকায় অষ্টম)।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়, ১ হাজার ৭৫৯ জনের। এই সময়ে দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪১ হাজার ১৬৮ জন
(চতুর্থ)।
একই সময়ে শনাক্ত ও মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ১৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৪৪ জনের।
করোনাভাইরাস সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ) দেশে আরও ২১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ৩৬৯ জন।
আজ শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় আজ করোনায় নতুন রোগীর সংখ্যা কমলেও মৃত্যু বেড়েছে। অবশ্য নতুন রোগী কমলেও পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার প্রায় আগের দিনের মতো ৩০ শতাংশের ওপরেই আছে। আগের দিনের তুলনায় পরীক্ষার সংখ্যা কমে যাওয়ায় আজ নতুন রোগী শনাক্ত কমেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩০ হাজার ৯৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রোগী শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগের দিন মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল ৪৫ হাজার ৪৪ জনের। ওই সময় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩ হাজার ৮৬২ জন। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ২১২ জনের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮৪। মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার ৬৮৫ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৭৮ হাজার ২১২ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজার ১৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৫৫ জন, খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ২৭ এবং রাজশাহীতে ২২ জনের। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।
দেশে এক সপ্তাহে করোনায় মৃত্যু
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ।
এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও প্রায় দুই মাস ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল থাকার পর ২৩ জুলাই থেকে আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন চলছে।
দেশে এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের চিত্র
ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের শহর থেকে গ্রামে যাওয়া এবং তাদের ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি ঈদ ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্যানুসারে, করোনার ডেলটা ধরনের কারণে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপক বেড়েছে। বিশ্বে গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ২১ শতাংশ। আঞ্চলিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
মহামারি শুরুর পর থেকে করোনার ধরনগুলোর মধ্যে ডেলটা সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। এটি আগের যেকোনো ধরনের চেয়ে অনেক বেশি সংক্রামক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশসহ এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৩২ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতে প্রথম শনাক্ত হওয়া এ ধরন।
বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে আইসিইউ ফাঁকা না পেয়ে করোনায় আক্রান্ত বিলকিস বেগম নামের এই নারীকে লক্ষ্মীপুর থেকে সম্প্রতি নিয়ে আসা হয় রাজধানীর মহাখালীতে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতালে ,ফাইল ছবি,
করোনাভাইরাস সংক্রমণে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ) দেশে আরও ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৮৬২ জন।
আজ শুক্রবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় আজ করোনায় মৃত্যু ও রোগী শনাক্ত কমেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৫ হাজার ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৩৯ জনের। ওই সময় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৫ হাজার ২৭১ জন। রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৯ দশমিক ২১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪০ হাজার ১১৫ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার ৪৬৭ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৫ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৯৭৫ জন।
দেশে এক সপ্তাহে করোনায় মৃত্যুর চিত্র
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৫৩ জন, খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ।
দেশে এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের চিত্র
এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও প্রায় দুই মাস ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল থাকার পর ২৩ জুলাই থেকে আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন চলছে।
২৪ ঘণ্টায় বিভাগওয়ারি মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য
ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের শহর থেকে গ্রামে যাওয়া এবং তাদের ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি ঈদ ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ তথ্যানুসারে, করোনার ডেলটা ধরনের কারণে বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও ব্যাপক বেড়েছে। বিশ্বে গত সপ্তাহের চেয়ে চলতি সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ২১ শতাংশ। আঞ্চলিকভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সংক্রমণ নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। এভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ কোটি ৫৮ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪১ লাখ ৮৯ হাজার ১৪৮ জনের।
ডব্লিউএইচও বলেছে, সাত দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেওয়া তথ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দীর্ঘ দিন পরে দৈনিক শনাক্তের তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এলো দেশটি। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে (তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু)।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ইন্দোনিশয়ায়, ১ হাজার ৮৯৩ জনের। এই সময়ে দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৭৯ জন (তৃতীয়)।
একই সময়ে শনাক্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৫০৯ জন। এই সময়ে দেশটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ৬৪০ জনের।
বর্তমানে করোনাভাইরাসের চারটি মিউটেশন (রূপান্তর) বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এই ধরনগুলো ‘ব্যাপক উদ্বেগজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘের এই সংস্থা। তারা বলেছে, এ পর্যন্ত আলফা ধরন ১৮২টি দেশে, বিটা ১৩১টি দেশে, গামা ৮১টি দেশে এবং ১৩২টি দেশে ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে আরও আটটি নতুন দেশে ডেলটা সংক্রমণ শনাক্ত হয়।
দেশে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ২৩০ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গত ১৬ মাসের মধ্যে এই প্রথম এক দিনে রোগী শনাক্তের সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়াল।
এর মধ্য দিয়ে দেশে মোট শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সংক্রমিত ২৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
আজ বুধবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ১৯২ জন রোগী শনাক্তের তথ্য এসেছিল গত ২৬ জুলাই। আজ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যু কমলেও নতুন রোগী ও পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার বেড়েছে।
দেশে এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণে মৃত্যু
প্রতি ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য২২ জুলাই187
২৩ জুলাই166
২৪ জুলাই195
২৫ জুলাই228
২৬ জুলাই247
২৭ জুলাই258
২৮ জুলাই237
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ৮৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ১২ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৫৮ জনের। ওই সময় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৪ হাজার ৯২৫ জন। রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৮২। মোট মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার ১৬ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৩ হাজার ৪৭০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৬২ জন, খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৩৪ জনের। রাজশাহীতে ১৮ ও রংপুরে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও প্রায় দুই মাস ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল থাকার পর গত শুক্রবার থেকে আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের শহর থেকে গ্রামে যাওয়া এবং তাদের ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি ঈদ ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল।
দেশে এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণের চিত্র
প্রতি ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য২২ জুলাই3,697
২৩ জুলাই6,364
২৪ জুলাই6,780
২৫ জুলাই11,291
২৬ জুলাই15,192
২৭ জুলাই14,925
২৮ জুলাই16,230
ঈদের পরে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হচ্ছে। তাতে বিশ্বে এখন দিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হচ্ছে যেসব দেশে, সেই তালিকায় অষ্টম অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্যের (মঙ্গলবার হালনাগাদ করা) ভিত্তিতে এই তালিকা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮ হাজার ৪০ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪১ লাখ ৭০ হাজার ১৫৫ জনের। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। মৃত্যুর তালিকায় ব্রাজিল দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও রোগী শনাক্তের দিক দিয়ে দেশটির অবস্থান তৃতীয়। আর রোগী শনাক্তের দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং মৃত্যুর দিক দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় বিভাগওয়ারি মৃত্যু
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও রোগী শনাক্ত হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৫ হাজার ২০৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬৯ জনের। এ সময় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে ইরানে ৩১ হাজার ৮১৪ জন। আর মৃত্যুর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় ৭৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা ভারতে ২৯ হাজার ৬৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ব্রাজিলে।
এক দিনের ব্যবধানে দেশে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রথমবারের মতো এক দিনে মৃত্যু আড়াইশ ছাড়িয়েছে।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৯২৫ জন।
আজ মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগের দিনের তুলনায় মৃত্যু বাড়লেও নতুন রোগী ও পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে।
আজ মঙ্গলবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগের দিনের তুলনায় মৃত্যু বাড়লেও নতুন রোগী ও পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কিছুটা কমেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫২ হাজার ৪৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ২৪৭ জনের। ওই সময় রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৫ হাজার ১৯২ জন। রোগী শনাক্তের হার ছিল ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব মিলিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২। মোট মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৭৭৯ জনের। আর করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ২২ হাজার ৪১৪ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১২ হাজার ৪৩৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। চট্টগ্রাম বিভাগে মারা গেছেন ৬১ জন, খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। রাজশাহীতে ২১ ও বরিশালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা অন্যান্য বিভাগের।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। কয়েক মাসের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ কমবেশি হলেও প্রায় দুই মাস ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। করোনার ডেলটা ধরনের দাপটে দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যু কয়েক গুণ বেড়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দেশে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ পালন করা হয়। এ সময় সব ধরনের অফিসের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়। ২১ জুলাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে এই বিধিনিষেধ আট দিনের জন্য শিথিল থাকার পর গত শুক্রবার থেকে আবার দুই সপ্তাহের লকডাউন শুরু হয়েছে।
ঈদের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের শহর থেকে গ্রামে যাওয়া এবং তাদের ফিরে আসায় সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটি ঈদ ঘিরে বিধিনিষেধ শিথিলের সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল।মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মহামারি শুরুর পর একদিনে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৯২৫ জন।